সাত বস্তা পরিযায়ী পাখি শিকার, সাবেক সেনা কর্মকর্তাসহ ৬ জনের জরিমানা

​গজারিয়া (মুন্সীগঞ্জ) প্রতিনিধি

সারাদেশ

মুন্সীগঞ্জের গজারিয়া উপজেলায় শখের বসে সাত বস্তা পরিযায়ী পাখি শিকার করে প্রশাসনের শাস্তির মুখে পড়েছেন এক অবসরপ্রাপ্ত সেনা কর্মকর্তাসহ ছয়জন।

2026-03-27T06:16:09+00:00
2026-03-27T06:17:42+00:00
 
  রবিবার, ১৯ জুলাই ২০২৬,
৪ শ্রাবণ ১৪৩৩
রবিবার, ১৯ জুলাই ২০২৬
সারাদেশ
সাত বস্তা পরিযায়ী পাখি শিকার, সাবেক সেনা কর্মকর্তাসহ ৬ জনের জরিমানা
​গজারিয়া (মুন্সীগঞ্জ) প্রতিনিধি
প্রকাশ: শুক্রবার, ২৭ মার্চ, ২০২৬, ৬:১৬ এএম  আপডেট: ২৭.০৩.২০২৬ ৬:১৭ এএম
শিকার করা প্রায় ৪ মণ পাখিসহ ছয়জনকে আটক করে স্থানীয়রা। ছবি : সময়ের আলো
মুন্সীগঞ্জের গজারিয়া উপজেলায় শখের বসে সাত বস্তা পরিযায়ী পাখি শিকার করে প্রশাসনের শাস্তির মুখে পড়েছেন এক অবসরপ্রাপ্ত সেনা কর্মকর্তাসহ ছয়জন। স্থানীয়রা তাদের অবরুদ্ধ করে রাখলে প্রশাসনের কর্মকর্তারা তাদের উদ্ধার করেন।

​বৃহস্পতিবার (২৬ মার্চ) উপজেলার মাথাভাঙ্গা এলাকায় তাদের অবরুদ্ধ করে রাখে স্থানীয় জনতা। পরে খবর পেয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও পুলিশ সদস্যরা সেখানে পৌঁছান। 

অপরাধ স্বীকার করায় ও বয়স বিবেচনায় তাদের মধ্যে একজনকে এক লক্ষ টাকা এবং বাকি পাঁচজনকে ৩০ হাজার টাকা করে অর্থদণ্ড প্রদান করা হয়। জব্দ করা হয়েছে পাখি শিকারের কাজে ব্যবহৃত ৩টি শটগান, একটি এয়ারগান ও ৬৩ রাউন্ড শটগানের গুলি।

​দণ্ডপ্রাপ্তরা হলেন, লেফটেন্যান্ট কর্নেল (অব.) আ.স.ম. হাদিউল ইসলাম ভুঁইয়া (৮১), আবরার উদ্দিন আহমেদ (৭০), হাজী ওসমান আলী (৭৭), মাজহারুল হক কোরেশী (৭০), আব্দুল্লাহ নূর (৭২) ও আরিক আহমেদ (২৭)।

​স্থানীয়রা জানায়, বৃহস্পতিবার সকাল দশটার দিকে প্রাইভেটকারে করে ছয়জন লোক ঢাকা থেকে গজারিয়া উপজেলায় আসেন। তাদের হাতে শটগান ও এয়ারগান ছিল। তারা ট্রলারে গজারিয়ার বিভিন্ন চরাঞ্চল ও মেঘনা নদী তীরবর্তী এলাকায় পাখি শিকার করতে যান। সন্ধ্যায় তারা ফিরে আসলে, শিকার করা প্রায় ৪ মণ পাখিসহ তাদের দেখতে পায় স্থানীয়রা। 

এই খবর ছড়িয়ে পড়লে ক্ষোভে ফেটে পড়েন গ্রামবাসীরা। সাতটি বস্তা ভর্তি করে সেই পাখি ঢাকায় নিয়ে যাওয়ার পথে মাথাভাঙ্গা গ্রামের ঈদগাহ এলাকায় তাদের গতিরোধ করে তারা। এ সময় স্থানীয়রা তাদের অবরুদ্ধ করে রাখে। খবর পেয়ে রাত দশটার দিকে ঘটনাস্থলে ছুটে আসেন আইন প্রয়োগকারী সংস্থার লোকজন।

​ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী আরমান হোসেন বলেন, 'তারা যেভাবে পাখি শিকার করতে এসেছেন সেটা একটি যুদ্ধের প্রস্তুতির তুলনায় কম নয়। বিভিন্ন ধরনের বন্দুক ও প্লাস্টিকের কৌটা ভর্তি গুলি ছিল তাদের কাছে। এক দিনেই তারা কয়েক হাজার পরিযায়ী পাখি শিকার করেছেন। ওজন দেখে যেটা ধারণা করছি, সাতটি বস্তায় অন্তত চার মণের বেশি পাখি হবে।


স্থানীয় বাসিন্দা মুক্তার হোসেন বলেন, একদিনে যদি এত পাখি মেরে ফেলা হয়, তবে আমাদের প্রকৃতি থেকে অচিরেই পাখি হারিয়ে যাবে।

​এদিকে অভিযুক্ত সেনা কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট কর্নেল (অব.) হাদিউল ইসলাম ভুঁইয়া জানান, তার খারাপ কোনো উদ্দেশ্য ছিল না, শুধুমাত্র শখের বশেই পাখিগুলো শিকার করেছেন তিনি। এর আগেও পাখি শিকার করতে একাধিকবার গজারিয়া উপজেলায় তিনি এসেছিলেন বলে জানান।

গজারিয়া থানার অফিসার ইনচার্জ মো. হাসান আলী বলেন, খবর পাওয়ার পরপরই ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সেখানে উপস্থিত রয়েছেন। এ ব্যাপারে আপনাদের পরে বিস্তারিত জানানো হবে।

এ ​বিষয়ে গজারিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. মাহমুদুল হাসান বলেন, খবর পাওয়ার পরপরই আমি ঘটনাস্থলে ছুটে যাই। সেখানে গিয়ে প্রাথমিক পর্যবেক্ষণ এবং অভিযুক্তদের বক্তব্যে ঘটনার সত্যতা পাওয়া যায়। তাদের অর্থদণ্ড প্রদান করা হয়েছে। পাখি শিকারের কাজে ব্যবহৃত বন্দুক ও গুলি জব্দ করা হয়েছে।

এফআর


  বিষয়:   মুন্সীগঞ্জ  বস্তা  পরিযায়ী পাখি  শিকার  সাবেক  সেনা কর্মকর্তা  জরিমানা 


Loading...
Loading...
সারাদেশ- এর আরো খবর
Loading...
Loading...
© 2026 Daily Shomoyer Alo
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সৈয়দ শাহনেওয়াজ করিম, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড এর পক্ষে প্রকাশক মো. ফয়সাল রহমতউল্লাহ ফেরদৌস। নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।
ফোন : ৪১০৬২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : ৪১০৬২৩৭৫
সময়ের আলোর খবর পেতে ফলো করুন: