গুদামের খাতা বলছে ‘তেল নেই’, অথচ ভেতরে থরে থরে সাজানো ১২টি ড্রাম। বাইরে প্রখর রোদে শত শত মোটরসাইকেল চালক ঘণ্টার পর ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়ে থাকলেও, ভেতর থেকে সাফ জানিয়ে দেওয়া হচ্ছিল—‘পেট্রোল শেষ’। জামালপুর পৌরশহরের জিগাতলা এলাকায় এমন ‘নাই’ নাটক বন্ধ করল ভ্রাম্যমাণ আদালত।
মজুদ রাখা প্রায় আড়াই হাজার লিটার পেট্রোল উদ্ধারের পাশাপাশি ‘জুঁই এন্টারপ্রাইজ’ নামের ওই খুচরা বিক্রেতা প্রতিষ্ঠানকে ৫০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড প্রদান করা হয়েছে।
শনিবার বেলা ১১টার দিকে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট বি.এম.এস.আর আলিফ এই ঝটিকা অভিযান পরিচালনা করেন।
মেলান্দহ উপজেলার কুলিয়া ইউনিয়ন থেকে আসা গ্রাহক শামীম মিয়া ও শাহাজাদা জানান, তারা ভোর থেকে প্রায় চার ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়ে ছিলেন। হঠাৎ এক ব্যক্তি এসে তাদের জানান কোনো তেল নেই। পরে ভ্রাম্যমাণ আদালত তেল উদ্ধার করার পর পুলিশি পাহারায় প্রতি গ্রাহককে ২ লিটার করে পেট্রোল বিতরণ শুরু হয়।
জানতে চাইলে জুঁই এন্টারপ্রাইজের স্বত্বাধিকারী মো. জহুরুল ইসলামকে পাওয়া না গেলেও তার আত্মীয় মো. হেলাল উদ্দিন বলেন, আমাদের কাছে সামান্য কিছু পেট্রোল মজুদ ছিল, কিন্তু গ্রাহকের চাপ ছিল অনেক বেশি। কীভাবে তা বণ্টন করা হবে, তা নিয়ে আলোচনার সময়ই অভিযান চালানো হয়। আমরা গ্রাহকদের সাশ্রয়ী হওয়ার এবং অতিরিক্ত তেল সংগ্রহ না করার অনুরোধ জানাচ্ছি।
স্থানীয় বিএনপি নেতা মো. মমিনুর রহমান মমিন বলেন, সরকার সরবরাহ স্বাভাবিক রাখলেও ক্রেতারা প্রয়োজনের অতিরিক্ত তেল সংগ্রহ করায় এবং অসাধু ব্যবসায়ীরা মজুদ করায় এই সংকট তৈরি হয়েছে। তিনি মজুদকারীদের বিরুদ্ধে প্রশাসনের কঠোর হস্তক্ষেপ কামনা করেন।
নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট বি.এম.এস.আর আলিফ জানান, সকালে আমাদের কাছে খবর আসে, জিগাতলা এলাকায় জুঁই এন্টারপ্রাইজের সামনে প্রচুর মোটরসাইকেল চালক পেট্রোলের জন্য অপেক্ষা করলেও তাদের তেল দেওয়া হচ্ছে না। অভিযোগের ভিত্তিতে সেখানে অভিযান চালানো হয়। প্রাথমিকভাবে প্রতিষ্ঠানের স্টক রেজিস্টার পরীক্ষা করলে দেখা যায়, সেখানে তেলের কোনো মজুদ নেই বলে উল্লেখ করা হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, তবে সন্দেহ হওয়ায় গুদাম ঘরে তল্লাশি চালিয়ে ১২টি ড্রামে প্রায় ২ হাজার ৫০০ লিটার পেট্রোল পাওয়া যায়। মজুদ রেখে কৃত্রিম সংকট তৈরির অপরাধে ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ আইন, ২০০৯ অনুযায়ী প্রতিষ্ঠানটিকে ৫০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড প্রদান করা হয়।
এফআর