টাঙ্গাইলের কালিহাতীতে ট্রেন দুর্ঘটনায় নিহত গাইবান্ধার ৫ পোশাক শ্রমিকের মরদেহ নিজ গ্রামে পৌঁছানোর পর পুরো এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। শনিবার (২৮ মার্চ) সকালে মরদেহগুলো সাদুল্লাপুর উপজেলার ধাপেরহাট ইউনিয়নের নিজপাড়া গ্রামে পৌঁছালে স্বজনদের আহাজারিতে আকাশ-বাতাস ভারী হয়ে ওঠে। পরে জানাজা শেষে পারিবারিক কবরস্থানে তাদের দাফন সম্পন্ন করা হয়।
নিহতরা হলেন—নিজপাড়া গ্রামের হামিদুজ্জামানের (হাম্বু) স্ত্রী নার্গিস আক্তার (৪২) ও তার ছেলে নিবর মিয়া (১২), একই গ্রামের আজিজার রহমানের ছেলে সুলতান মাহমুদ (৩২), আব্দুর রশিদের মেয়ে রিপা আক্তার (২২) এবং একই উপজেলার ছত্রগাছা গ্রামের জাকির মিয়ার স্ত্রী দোলা বেগম (৪৫)।
জানা গেছে, নিহতরা সবাই ঢাকার বিভিন্ন পোশাক কারখানায় কর্মরত ছিলেন। ঈদের ছুটি শেষে গত শুক্রবার তারা কর্মস্থলে ফেরার উদ্দেশ্যে রওনা হন। পথিমধ্যে তাদের বহনকারী বাসটির তেল শেষ হয়ে গেলে তারা সড়কের পাশে নেমে অপেক্ষা করছিলেন। দীর্ঘ সময় অপেক্ষার একপর্যায়ে কয়েকজন রেললাইনের ওপর বসে গল্প করতে থাকেন। এ সময় দ্রুতগতির একটি ট্রেনে চলে আসে। তবে তারা রেল লাইন থেকে সরে পড়ার আগেই ট্রেনের নিচে পড়ে এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনা ঘটে।
শনিবার মরদেহগুলো গ্রামে পৌঁছানোর পর শত শত মানুষ শেষবারের মতো তাদের দেখতে ভিড় করেন। অনেকেই মরদেহ দেখে কান্নায় ভেঙে পড়েন, আবার কেউ শোকে নির্বাক হয়ে বসে থাকেন।
নিহতদের মধ্যে দোলা বেগমের মৃত্যু বিশেষভাবে নাড়া দিয়েছে এলাকাবাসীকে। ঈদের ছুটিতে বাড়ি এসে তিনি তার একমাত্র মেয়ের বিয়ে দিয়েছিলেন।
পরিবারের সদস্যরা জানান, কয়েকদিন আগেও বাড়িতে ছিল আনন্দ-উৎসবের পরিবেশ। কিন্তু সেই আনন্দের রেশ কাটতে না কাটতেই তার মৃত্যুতে পরিবারে নেমে এসেছে গভীর শোক।
স্থানীয় ইউপি সদস্য শাহাদত হোসেন জানান, দুর্ঘটনার খবর পেয়ে স্বজনরা রাতেই টাঙ্গাইলে ছুটে যান। সেখান থেকে মরদেহ শনাক্ত করে শনিবার সকালে গ্রামে নিয়ে আসা হয়। পরে পারিবারিক সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, দুপুরে পৃথক জানাজা শেষে পারিবারিক কবরস্থানে তাদের দাফন করা হয়।
এদিকে, দুর্ঘটনার পর থেকেই নিজপাড়া ও আশপাশের গ্রামগুলোতে শোকের মাতম চলছে। অনেক পরিবারে চুলা জ্বলেনি।
স্থানীয়রা বলছেন, একই এলাকার এত মানুষ একসঙ্গে এমনভাবে প্রাণ হারানোর ঘটনা তারা আগে দেখেননি। স্বজন হারানোর বেদনায় কেউ বারবার জ্ঞান হারাচ্ছেন, কেউ নিঃশব্দে বসে আছেন প্রিয়জনের স্মৃতি আঁকড়ে।
এফআর