ইসরায়েলকে সঙ্গে নিয়ে মধ্যপ্রাচ্যের দেশ ইরানে হামলাসহ রিপাবলিকান প্রশাসনের নীতি ও জীবনযাত্রার উচ্চ খরচের প্রতিবাদে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে অসংখ্য মানুষ রাজপথে নেমেছে। নো কিংস স্লোগানে দেশটির বিভিন্ন শহরে বিক্ষোভ শুরু হয়েছে।
মার্কিন সংবাদমাধ্যম কেওয়াইডব্লিউএর ধারণ করা ভিডিওতে দেখা গেছে, স্থানীয় সময় শনিবার (২৮ মার্চ) দুপুরে ফিলাডেলফিয়ার রাস্তায় নো কিংস বিক্ষোভকারীদের বিশাল জনসমাগম।
আয়োজকরা জানিয়েছেন, ৫০টি অঙ্গরাজ্যের ৩ হাজার একশোর বেশি শহরে বিক্ষোভের প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। তারা আশা করছেন, এটি যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে একদিনে সবচেয়ে বড় শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভে পরিণত হতে পারে।
আন্দোলনের বিষয়ে মুভঅন-এর নির্বাহী পরিচালক কেটি বেথেল বলেন, আমাদের সদস্যরা শান্তিপূর্ণভাবে রাস্তায় নামবেন। কারণ, তারা এই দেশের জন্য একটি ভালো ভবিষ্যতে বিশ্বাস করেন এবং ট্রাম্প ও তার প্রশাসন আমাদের দেশের সঙ্গে যা করছে, তা দেখে তারা আর নীরব দর্শক হয়ে থাকতে পারেন না।
তিনি আরও বলেন, স্পষ্ট করে বলি, ট্রাম্প প্রশাসন এখন আমেরিকার জনগণের জন্য সব স্তরেই একটি হুমকিতে পরিণত হয়েছে। তারা দেশে এবং দেশের বাইরে সহিংসতা চালিয়ে যাচ্ছে।
আয়োজকদের মতে, আমেরিকানরা নিরন্তর বিশৃঙ্খলায় ক্লান্ত এবং ট্রাম্প প্রশাসনের অতিরিক্ত ক্ষমতা প্রয়োগের বিরুদ্ধে কথা বলতে প্রস্তুত।
বেথেল বলেন, এই কারণেই আমাদের লাখ লাখ মানুষ জীবনের সব স্তর থেকে—গ্রামীণ এলাকা থেকে বড় শহর পর্যন্ত—নো কিংস কর্মসূচিতে জড়ো হচ্ছে।
গত বছরের জানুয়ারিতে দ্বিতীয় মেয়াদে ক্ষমতা গ্রহণ করে বিচার বিভাগের ওপর ট্রাম্পের নিয়ন্ত্রণ ও কেন্দ্রীয় সংস্থাগুলোতে আমূল পরিবর্তনের প্রতিবাদে নো কিংস আন্দোলন শুরু হয়।
অতীতে ট্রাম্প এবং ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স নো কিংস কর্মসূচিগুলোর প্রতিক্রিয়ায় উপহাস করেছিলেন। তারা দুজনেই সামাজিক মাধ্যমে এআই-নির্ভর মিম পোস্ট করেছিলেন, যেখানে ট্রাম্পকে মুকুট পরা অবস্থায় দেখানো হয়। ট্রাম্প একটি কাল্পনিক ছবিও শেয়ার করেছিলেন। সেখানে তাকে কিং ট্রাম্প লেখা একটি যুদ্ধবিমান চালাতে দেখা যায় এবং সেটি থেকে বিক্ষোভকারীদের ওপর বর্জ্য ফেলতে দেখা যায়।
ট্রাম্প গত অক্টোবরের গণবিক্ষোভকে মজা বলে উল্লেখ করেছিলেন এবং বলেছিলেন এগুলো খুব ছোট, খুবই অকার্যকর। যারা এতে অংশ নিয়েছিলেন, তাদের পাগল বলেও মন্তব্য করেছিলেন তিনি।
/এমএইচআর