জ্বালানি সংকটে বাইসাইকেলে অয়েল ট্যাংক বেঁধে পাম্পে যুবক

গাইবান্ধা প্রতিনিধি

সারাদেশ

জ্বালানি সংকটের বাস্তবতা কখনো কখনো মানুষের উদ্ভাবনী শক্তিকে নতুনভাবে সামনে নিয়ে আসে।গাইবান্ধা শহরের একটি ফিলিং স্টেশনে এমনই এক ব্যতিক্রমী দৃশ্য

2026-03-29T18:57:18+00:00
2026-03-29T18:57:18+00:00
 
  রবিবার, ১৯ জুলাই ২০২৬,
৪ শ্রাবণ ১৪৩৩
রবিবার, ১৯ জুলাই ২০২৬
সারাদেশ
নজর কাড়লেন বাচ্চু মিয়া
জ্বালানি সংকটে বাইসাইকেলে অয়েল ট্যাংক বেঁধে পাম্পে যুবক
গাইবান্ধা প্রতিনিধি
প্রকাশ: রোববার, ২৯ মার্চ, ২০২৬, ৬:৫৭ পিএম 
গাইবান্ধা শহরের একটি ফিলিং স্টেশনে বাইসাইকেলে অয়েল ট্যাংক বেঁধে পাম্পে যুবক। সংগৃহীত ছবি
জ্বালানি সংকটের বাস্তবতা কখনো কখনো মানুষের উদ্ভাবনী শক্তিকে নতুনভাবে সামনে নিয়ে আসে। গাইবান্ধা শহরের একটি ফিলিং স্টেশনে এমনই এক ব্যতিক্রমী দৃশ্য চোখে পড়েছে- মোটরসাইকেল থেকে খুলে নেওয়া অয়েল ট্যাংক বাইসাইকেলে বেঁধে তেল নিতে লাইনে দাঁড়িয়েছেন এক যুবক।

রোববার (২৯ মার্চ) সকালে শহরের পুলিশ লাইন সংলগ্ন হাছনা এন্ড সন্স ফিলিং স্টেশনে দেখা যায় এই চিত্র। 

ভোর থেকেই সেখানে জ্বালানি নিতে মোটরসাইকেল চালকদের দীর্ঘ সারি তৈরি হয়, যা গাইবান্ধা-সাঘাটা সড়কজুড়ে প্রায় দেড় কিলোমিটার পর্যন্ত বিস্তৃত হয়।

দীর্ঘ লাইনে অপেক্ষমাণ সবার দৃষ্টি কাড়েন ফুলছড়ি উপজেলার কাঠুর গ্রামের বাচ্চু মিয়া। জ্বালানি না থাকায় মোটরসাইকেল আনতে না পেরে তিনি তার বাইকের অয়েল ট্যাংক খুলে সেটি একটি বাইসাইকেলের সঙ্গে বেঁধে পাম্পে হাজির হন।

বাচ্চু মিয়ার এই অভিনব পদ্ধতি নিয়ে মিশ্র প্রতিক্রিয়া তৈরি হয়েছে। ঘটনাস্থলে থাকা কয়েকজনের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, সাধারণত বোতল বা ক্যান ভর্তি করে জ্বালানি বিক্রি নিষিদ্ধ থাকায়, এই পদ্ধতিই বেছে নিয়েছেন তিনি। 

তার এই কৌশল উপস্থিত অনেকের মধ্যে কৌতূক, বিস্ময় ও প্রশংসার জন্ম দেয়। কেউ কেউ এটিকে দুর্দান্ত বুদ্ধি বলে আখ্যা দেন, আবার কেউ নিরাপত্তা ঝুঁকির কথাও তুলে ধরেন।

লাইনে দাঁড়িয়ে থাকা শহরের কলেজপড়ুয়া রাকিব হাসান বলেন, এটা সত্যিই দারুণ আইডিয়া। বোতলে তেল দেওয়া নিষেধ, কিন্তু উনি যেভাবে ট্যাংক খুলে এনেছেন- এটা মাথায় না আসলে সম্ভব না। সংকটে মানুষ কীভাবে সমাধান বের করে, এটা তার উদাহরণ।

স্থানীয় ব্যবসায়ী আবদুল করিম খান কিছুটা হাস্যরসের সঙ্গে বলেন, আমরা তো এতক্ষণ বাইক নিয়ে লাইনে দাঁড়িয়ে আছি, আর উনি বাইকই আনেন নাই! ট্যাংক নিয়েই চলে আসছেন। এমন বুদ্ধি আগে কেউ দেখায় নাই। তবে নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন আরেকজন মোটরসাইকেল চালক সাইদুল ইসলাম। 

তিনি বলেন, বুদ্ধিটা ভালো, কিন্তু ঝুঁকিও আছে। বাইসাইকেলে এভাবে তেলের ট্যাংক বেঁধে আনা নিরাপদ না। দুর্ঘটনা হলে বড় বিপদ হতে পারে।

আরেকজন গ্রাহক জানান, সংকট না হলে কেউ এমনটা করত না। এটা আসলে আমাদের সমস্যার একটা প্রতিচ্ছবি। গত ২৩ মার্চ থেকে তীব্র জ্বালানি সংকটে কার্যত স্থবির হয়ে পড়ে গাইবান্ধার স্বাভাবিক যানচলাচল। 


পেট্রোল, অকটেন ও ডিজেলের সরবরাহ কমে যাওয়ায় জেলার প্রায় সব ফিলিং স্টেশন বন্ধ হয়ে যায়। এতে সবচেয়ে বেশি দুর্ভোগে পড়েন মোটরসাইকেল চালক ও পরিবহন সংশ্লিষ্টরা।

পরিস্থিতি সামাল দিতে জেলা প্রশাসন পাম্প মালিকদের সঙ্গে জরুরি বৈঠক করে। পরে প্রশাসন ও পুলিশের তদারকিতে সীমিত পরিসরে জ্বালানি বিক্রি পুনরায় চালু হয়। 

জ্বালানি সরবরাহ শুরু হলেও স্বস্তি ফেরেনি সাধারণ মানুষের জীবনে। বরং নতুন শর্তে ভোগান্তি আরও বেড়েছে। কারণ প্রশাসনের নির্দেশনা অনুযায়ী- জ্বালানি পেতে হেলমেট বাধ্যতামূলক, ড্রাইভিং লাইসেন্স দেখাতে হবে এবং গাড়ির বৈধ কাগজপত্র থাকতে হবে। এসব শর্ত পূরণ না করলে জ্বালানি দেওয়া হচ্ছে না, এমনকি জরিমানাও গুনতে হচ্ছে।

প্রশাসনের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, প্রতিটি মোটরসাইকেলে সর্বোচ্চ ৫০০ টাকার জ্বালানি দেওয়া হচ্ছে। অপচয় ও কালোবাজারি রোধে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হলেও বাস্তবে তা নতুন সংকট তৈরি করেছে।

তেলের খবর ছড়িয়ে পড়তেই পাম্পগুলোতে মানুষের ঢল নামে। ফলে ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করেও অনেকেই জ্বালানি পাচ্ছেন না।

সংকটকে পুঁজি করে কিছু অসাধু চক্র কালোবাজারি শুরু করেছে বলে অভিযোগ উঠেছে। খোলা বাজারে প্রতি লিটার পেট্রোল বা অকটেন ২০০ থেকে ৩০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা।

অভিযোগ রয়েছে, কিছু ব্যক্তি বিভিন্ন পাম্প থেকে সীমিত পরিমাণে তেল সংগ্রহ করে পরে বেশি দামে বিক্রি করছেন। এতে সাধারণ মানুষ যেমন ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন, তেমনি প্রশাসনের নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থাও প্রশ্নের মুখে পড়ছে।

জেলা প্রশাসনের একজন দায়িত্বশীল কর্মকর্তা জানান, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। কালোবাজারি বন্ধ ও সরবরাহ স্বাভাবিক করতে আমরা কাজ করছি। প্রয়োজনে আরও কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

পাম্প মালিকরাও বলছেন, হঠাৎ বেড়ে যাওয়া চাহিদা ও সীমিত সরবরাহের কারণে তারা চাপে রয়েছেন।

এ অবস্থায় দ্রুত জ্বালানি সরবরাহ স্বাভাবিক করা, আগাম প্রস্তুতির সুযোগ রেখে নীতিমালা বাস্তবায়ন এবং সাধারণ মানুষের ভোগান্তি কমানোর দাবি জানিয়েছেন গাইবান্ধাবাসী।

সময়ের আলো/এআর


  বিষয়:   জ্বালানি  সংকট  বাইসাইকেল 


Loading...
Loading...
সারাদেশ- এর আরো খবর
Loading...
Loading...
© 2026 Daily Shomoyer Alo
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সৈয়দ শাহনেওয়াজ করিম, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড এর পক্ষে প্রকাশক মো. ফয়সাল রহমতউল্লাহ ফেরদৌস। নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।
ফোন : ৪১০৬২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : ৪১০৬২৩৭৫
সময়ের আলোর খবর পেতে ফলো করুন: