দিনাজপুরের ঘোড়াঘাট থানা পুলিশের মানবিক তৎপরতায় দীর্ঘ সাত দিন পর নিজের পরিবারকে ফিরে পেয়েছেন আছমা ওরফে মৌমিতা (১৮) নামের এক মানসিক ভারসাম্যহীন তরুণী।
সোমবার (৩০ মার্চ) সকালে আইনি প্রক্রিয়া শেষে ওই তরুণীকে সুস্থ শরীরে তার বাবার জিম্মায় তুলে দেওয়া হয়।
পুলিশ ও পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, আছমা ওরফে মৌমিতা বরিশালের উজিরপুর উপজেলার আড়িপাড় গ্রামের জাহাঙ্গীর খানের মেয়ে। তিনি দীর্ঘদিন ধরে মানসিক সমস্যায় ভুগছিলেন। গত ২৩ মার্চ তিনি নিজ বাড়ি থেকে নিখোঁজ হন। পরিবারের সদস্যরা আত্মীয়-স্বজনসহ সম্ভাব্য সব স্থানে খোঁজাখুঁজি করেও তার কোনো সন্ধান পাচ্ছিলেন না।
এর মধ্যে গত ২৯ মার্চ দিনাজপুরের ঘোড়াঘাট থানা এলাকায় এক তরুণীকে উদ্দেশ্যহীনভাবে ঘুরতে দেখে স্থানীয় লোকজনের সন্দেহ হয়। মেয়েটি নিজের পরিচয় স্পষ্টভাবে বলতে না পারায় স্থানীয়রা তাকে থানা পুলিশের হেফাজতে নিয়ে আসেন।
থানায় আনার পর পুলিশ সদস্যরা অত্যন্ত ধৈর্য ও সহমর্মিতার সঙ্গে তরুণীর সঙ্গে থাকা ব্যাগ তল্লাশি করেন। সেখানে একটি চিরকুটে লেখা মোবাইল নম্বর পাওয়া যায়। সেই নম্বরের সূত্র ধরে যোগাযোগ করা হলে তরুণীর সঠিক পরিচয় নিশ্চিত হওয়া সম্ভব হয়।
পরিচয় নিশ্চিত হওয়ার পর সোমবার সকালে তরুণীর বাবা জাহাঙ্গীর খান ঘোড়াঘাট থানায় উপস্থিত হন। প্রয়োজনীয় আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে মৌমিতাকে তার স্বজনদের হাতে তুলে দেয় পুলিশ।
হারিয়ে যাওয়া সন্তানকে ফিরে পেয়ে আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন বাবা জাহাঙ্গীর খান। এ সময় তিনি ঘোড়াঘাট থানা পুলিশের প্রতি গভীর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।
পুলিশের এমন মানবিক ও দ্রুত পদক্ষেপ স্থানীয় মহলেও বেশ প্রশংসিত হয়েছে।
এফআর