মধ্যপ্রাচ্যে ইরানের বিরুদ্ধে সম্ভাব্য মার্কিন স্থল অভিযান ঘিরে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, ইরানের কৌশলগত অবস্থান, সামরিক সক্ষমতা এবং আঞ্চলিক মিত্রদের কারণে যুক্তরাষ্ট্রের জন্য পরিস্থিতি অত্যন্ত জটিল হয়ে উঠতে পারে। এতে করে সম্ভাব্য যুদ্ধক্ষেত্র ‘নরকসম’ পরিস্থিতিতে রূপ নিতে পারে বলেও আশঙ্কা করা হচ্ছে।
যুক্তরাষ্ট্র ইতোমধ্যে মধ্যপ্রাচ্যে সৈন্য সমাবেশ বাড়াচ্ছে বলে বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে।
গুঞ্জন রয়েছে, ইরানের গুরুত্বপূর্ণ খারগ দ্বীপ ও হরমুজ প্রণালি নিয়ন্ত্রণে নিতে স্থল অভিযান চালানো হতে পারে।
হরমুজ প্রণালি দিয়ে বিশ্বের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ জ্বালানি পরিবাহিত হয়, আর খারগ দ্বীপ ইরানের তেল রপ্তানির প্রধান কেন্দ্র।
এ পরিস্থিতিতে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানকে হরমুজ প্রণালি উন্মুক্ত রাখার আহ্বান জানিয়ে সতর্ক করেছেন।
অন্যথায় যুদ্ধ আরও তীব্র হতে পারে বলেও তিনি হুঁশিয়ারি দেন।
তবে বিশ্লেষকদের মতে, খারগ দ্বীপে স্থল হামলা শুরু হলে সংঘাত আরও ভয়াবহ আকার নিতে পারে।
প্রতিরক্ষা বিশ্লেষকদের মতে, ইরান সরাসরি মার্কিন স্থলবাহিনীর ওপর হামলা চালাতে পারে। উপকূল থেকে ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্রের মাধ্যমে সহজেই খারগ দ্বীপে আঘাত হানা সম্ভব। একই সঙ্গে দ্বীপজুড়ে স্থল প্রতিরোধ, মাইন ও বিস্ফোরক ফাঁদ পেতে রাখা হতে পারে, যা মার্কিন সেনাদের জন্য বড় ঝুঁকি তৈরি করবে।
এ ছাড়া উপসাগরীয় অঞ্চলের তেল স্থাপনা, বিদ্যুৎ কেন্দ্র ও গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোতে হামলা বাড়াতে পারে তেহরান। এতে বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে বড় ধরনের অস্থিরতা দেখা দেওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, ইরান তার মিত্র গোষ্ঠীগুলোকেও সক্রিয় করতে পারে।
ইরাকের মিলিশিয়া, লেবাননের হিজবুল্লাহ এবং ইয়েমেনের হুথিরা ইতোমধ্যে বিভিন্ন স্থানে হামলা চালিয়েছে। পরিস্থিতি আরও তীব্র হলে এসব গোষ্ঠীর তৎপরতা বাড়তে পারে।
এদিকে লোহিত সাগরের গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ ‘বাব আল-মান্দাব’ প্রণালিতেও উত্তেজনা বাড়ানোর ইঙ্গিত দিয়েছে ইরান।
এই পথ দিয়ে বিশ্ব জ্বালানি সরবরাহের একটি বড় অংশ পরিবাহিত হয়। অতীতে হুথিদের হামলায় এই পথ বাধাগ্রস্ত হয়েছিল।
বিশ্লেষকদের আশঙ্কা, একাধিক ফ্রন্টে সংঘাত ছড়িয়ে পড়লে যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্রদের জন্য পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠবে। এতে শুধু আঞ্চলিক নিরাপত্তাই নয়, বৈশ্বিক অর্থনীতিতেও বড় ধরনের প্রভাব পড়তে পারে।