ইরান দুবাই বন্দরে নোঙর করা কুয়েতি একটি তেলবোঝাই ট্যাঙ্কারে ড্রোন হামলা চালিয়েছে, যার ফলে জাহাজে আগুন ধরে যায় এবং উল্লেখযোগ্য ক্ষয়ক্ষতি হয়। এই জাহাজে প্রায় ২ মিলিয়ন ব্যারেল অপরিশোধিত তেল ছিল, যার বাজারমূল্য প্রায় ২০০ মিলিয়ন ডলার বা বাংলাদেশি টাকায় আড়াই হাজার কোটি টাকার সমান। হামলার ঘটনা সোমবার স্থানীয় সময় ঘটেছে।
দুবাই কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, হামলার ফলে সৃষ্ট আগুন মঙ্গলবার (৩১ মার্চ) ভোরে নিয়ন্ত্রণে আনা হয়েছে। তাদের নিশ্চিত করা মতে, আগুন নেভানোর সময় কোনো তেল নিঃসরণ হয়নি এবং জাহাজের ২৪ জন ক্রু সম্পূর্ণ নিরাপদে রয়েছেন। এ ঘটনার ফলে কোনো হতাহতের খবর নেই।
কুয়েত পেট্রোলিয়াম কর্পোরেশন (কেপিসি) জানিয়েছে, হামলার ফলে জাহাজে আগুন ছড়িয়ে পড়ে এবং কিছু পরিমাণে ক্ষয়ক্ষতি হয়। তবে দ্রুত নৌ-দমকল বাহিনী আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে এবং পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণে রেখেছে।
হামলা এমন সময়ে ঘটেছে, যখন ইরান ও ইসরায়েল-যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে উত্তেজনা ক্রমেই বাড়ছে। পারস্য উপসাগর এবং হরমুজ প্রণালিতে বাণিজ্যিক জাহাজে এটি সর্বশেষ হামলার ঘটনা হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে। কয়েক ঘণ্টা আগে ডোনাল্ড ট্রাম্প ইঙ্গিত দিয়েছিলেন, যদি হরমুজ প্রণালি বন্ধ থাকে, তবে ইরানের জ্বালানি কেন্দ্র এবং তেলক্ষেত্রগুলো ধ্বংস করা হতে পারে।
মধ্যপ্রাচ্যে চলমান এই সংঘাতের ফলে হাজার হাজার মানুষ নিহত হচ্ছে, জ্বালানি সরবরাহ ব্যাহত হচ্ছে এবং বিশ্ব অর্থনীতি অস্থিরতার মুখে পড়েছে। হামলার খবর প্রকাশের পর তেলের দাম সাময়িকভাবে বেড়ে যায়। তবে পরে খবর আসে, ট্রাম্প যুদ্ধ শুরু করতে অগ্রাধিকার দিচ্ছেন না, যার প্রভাবে আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম কিছুটা হ্রাস পায়।
বিশ্লেষকরা মনে করছেন, এ হামলা মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা আরও বাড়াতে পারে এবং আন্তর্জাতিক জাহাজ চলাচল ও তেলের নিরাপত্তার জন্য হুমকি তৈরি করতে পারে। হামলার সঙ্গে ব্যবহৃত ড্রোন প্রযুক্তি এবং আক্রমণের লক্ষ্য লক্ষ্য করে আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা ও প্রতিরক্ষা সংস্থাগুলো সতর্ক রয়েছে।
/ইউএমএইচ