মানিকগঞ্জের সিংগাইর উপজেলায় অবাধে কাটা হচ্ছে তিন ফসলি কৃষিজমির উর্বর মাটি। উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় গড়ে উঠা অন্তত ৫৮টি ইটভাটায় সরবরাহ করা হচ্ছে এসব মাটি। এতে আবাদি জমি গভীর গর্ত ও ডোবায় পরিণত হচ্ছে। এতে ব্যাহত হচ্ছে খাদ্য উৎপাদন এবং ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে পরিবেশ ও গ্রামীণ সড়ক।
এ ব্যাপারে জানার জন্য যোগাযোগ করা হলে সিংগাইর উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. হাবেল উদ্দিন বলেন, সাম্প্রতিক সময়ে কৃষিজমির টপসয়েল কাটার অভিযোগে সাড়ে ৭ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়েছে। এ ছাড়া ইটভাটার জন্য মাটি কাটার কাজে ব্যবহৃত তিনটি ভেকু অকার্যকর করা হয়েছে। অভিযোগ পেলেই তৎক্ষণাৎ অভিযান পরিচালনা করা হয় বলেও জানান সিংগাইর উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. হাবেল উদ্দিন।
সিংগাইর উপজেলায় কোনো ইটভাটাই নিয়ম মেনে গড়ে উঠেনি এবং নিয়ম মেনে পরিচালিত হয় না বলে অভিযোগ করেছেন উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মোহাম্মদ হাবিবুল বাশার চৌধুরী।
তার ভাষ্য অনুযায়ী, এই উপজেলায় কোনো ইটভাটাই বিধিসম্মত নয়। কোনো স্থানে ইটভাটা স্থাপনের আগে কৃষি বিভাগের মতামত নেওয়া হয় না বলেও অভিযোগ করেন সিংগাইর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মোহাম্মদ হাবিবুল বাশার চৌধুরী।
জানতে চাইলে সিংগাইর উপজেলা ইটভাটা মালিক সমিতির সভাপতি মো. ইলিয়াস খান বলেন, অধিকাংশ ইটভাটা ভাড়ায় পরিচালিত হয়। সিংগাইর উপজেলায় চালু থাকা অন্তত চারটি ইটভাটা অবৈধ বলে অবগত আছেন বলেও জানান সিংগাইর উপজেলা ইটভাটা মালিক সমিতির সভাপতি মো. ইলিয়াস খান।
সরেজমিন কথা হয় স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গে। এ সময় তারা বলেন, জরিমানা ও অভিযান চললেও কোনোভাবেই বন্ধ হচ্ছে না উর্বর কৃষিজমির মাটি কাটা। কৃষি ও পরিবেশ রক্ষায় কার্যকর উদ্যোগ এখন সময়ের দাবি বলেও মন্তব্য করেন তারা।
সরেজমিন বলধারা ইউনিয়নে গিয়ে দেখা যায়, বিস্তীর্ণ ফসলি জমি থেকে মাটি কাটায় তা গভীর খাদে পরিণত হয়েছে। এ
সময় স্থানীয় বাসিন্দারা অভিযোগ করেন, একটি সিন্ডিকেটের মাধ্যমে রাতের আঁধারে কৃষিজমির উপরিভাগ থেকে উর্বর মাটি কেটে সাবাড় করে ফেলা হচ্ছে। এতে পাশের জমি ভেঙে পড়ছে এবং কৃষকরা ক্ষতির মুখে পড়ছেন।
স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, জার্মিত্তা এবং চান্দহর ইউনিয়নেও একাধিক ইটভাটার জন্য স্থানীয় কৃষিজমি থেকে মাটি সংগ্রহ করা হচ্ছে। রাতের বেলায় ট্রাকে এসব মাটি পরিবহন করা হয়। ভারী ট্রাক চলাচলের কারণে গ্রামীণ সড়ক ভেঙে পড়ছে বলেও অভিযোগ করেন স্থানীয়রা।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, সিংগাইর উপজেলার ১১টি ইউনিয়নের মধ্যে বলধারায় ২৭টি, চান্দহরে ১৩টি, জার্মিত্তায় ৬টি, বায়রায় ৬টি, চারিগ্রামে ৩টি, ধল্লায় ২টি এবং সদর ইউনিয়নে ১টি ইটভাটা রয়েছে।
তবে সংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি, ইটভাটার প্রকৃত সংখ্যা আরও বেশি। বর্তমানে বন্ধ রয়েছে কয়েকটি ইটভাটা। এ ছাড়া নতুন নামে এবং ভাড়ায় চালু রয়েছে আরও কয়েকটি ইটভাটা।