ইরান আগ্রাসন প্রশ্নে হলিউডে নীরবতা কেন

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক

গত কয়েক বছরে আন্তর্জাতিক নানা ইস্যুতে হলিউডের তারকারা সক্রিয় ভূমিকা রেখেছেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পোস্ট, পুরস্কার মঞ্চে বক্তব্য কিংবা সরাসরি প্রতিবাদ;

2026-04-02T03:43:01+00:00
2026-04-02T03:43:01+00:00
 
  রবিবার, ১৯ জুলাই ২০২৬,
৪ শ্রাবণ ১৪৩৩
রবিবার, ১৯ জুলাই ২০২৬
আন্তর্জাতিক
ইরান আগ্রাসন প্রশ্নে হলিউডে নীরবতা কেন
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, ২ এপ্রিল, ২০২৬, ৩:৪৩ এএম 
সংগৃহীত ছবি
গত কয়েক বছরে আন্তর্জাতিক নানা ইস্যুতে হলিউডের তারকারা সক্রিয় ভূমিকা রেখেছেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পোস্ট, পুরস্কার মঞ্চে বক্তব্য কিংবা সরাসরি প্রতিবাদ; সবই ছিল দৃশ্যমান। কিন্তু ইরান কেন্দ্র করে সাম্প্রতিক সংঘাতে সেই কণ্ঠস্বর প্রায় অনুপস্থিত। বিশ্লেষকদের মতে, এটি হঠাৎ কোনো পরিবর্তন নয় বরং রাজনৈতিক হিসাব-নিকাশের ফল।

ব্যক্তিগত জীবনে যুদ্ধ, তবু প্রকাশ্যে সংযম : যুদ্ধ যে তারকাদের ছুঁয়ে যাচ্ছে না- তা নয়। টেলিভিশন উপস্থাপক অ্যাবি হান্টসম্যান একটি লাইভ অনুষ্ঠানে আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন, কারণ তার পরিবারের সদস্যরা সরাসরি সামরিক বাহিনীর সঙ্গে যুক্ত এবং যুদ্ধের ঝুঁকিতে রয়েছেন। অন্যদিকে অভিনেত্রী সিডনি সুইনি তার বিমানবাহিনীতে কর্মরত ভাইয়ের প্রতি সমর্থন জানালেও যুদ্ধের পক্ষে বা বিপক্ষে কোনো স্পষ্ট অবস্থান নেননি। এই ধরনের অবস্থানকে বিশ্লেষকরা বলছেন; মানবিকতা প্রকাশ, কিন্তু রাজনৈতিক ঝুঁকি এড়িয়ে চলা।

‘সিলেক্টিভ অ্যাক্টিভিজম’ বিতর্ক : এই নীরবতাই এখন নতুন বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। সমালোচকদের অভিযোগ- হলিউড তারকারা বেছে বেছে কথা বলেন। যেখানে জনসমর্থন বেশি বা ঝুঁকি কম, সেখানে তারা সোচ্চার হন কিন্তু যেখানে অবস্থান নেওয়া কঠিন, সেখানে নীরব থাকেন। এই প্রবণতা অনেকেই নৈতিক অবস্থানের অসামঞ্জস্য হিসেবে দেখছেন। ইরান ইস্যুতে এই বৈপরীত্য সবচেয়ে স্পষ্ট হয়ে উঠেছে।

নীরবতা একমুখী নয় : তবে এই নীরবতা একমুখী নয়। ইরানি বংশোদ্ভূত শিল্পী, অভিনেত্রী ও মানবাধিকারকর্মীরা ক্রমেই চাপ বাড়াচ্ছেন। অভিনেত্রী ও অধিকারকর্মী নাজানিন বোনিয়াদি বারবার আন্তর্জাতিক মহলে আহ্বান জানিয়েছেন- নীরব থাকা নিরপেক্ষতা নয় বরং অবস্থান নেওয়া প্রয়োজন। তার মতে, ইরানের পরিস্থিতি নিয়ে বিশ্বজুড়ে প্রভাবশালী ব্যক্তিদের কথা বলা জরুরি। অন্যদিকে অভিনেত্রী গোলশিফতে ফারাহানি দীর্ঘদিন ধরেই যুদ্ধ ও দমন-পীড়নের বিরুদ্ধে সরব। 

তিনি মনে করেন, মানুষের জীবন যখন ঝুঁকিতে থাকে, তখন শিল্পীদের চুপ থাকা উচিত নয়। একইভাবে সাংবাদিক ও অ্যাক্টিভিস্ট মাসিহ আলিনেজাদ পশ্চিমা তারকাদের উদ্দেশে বলেছেন- অন্য ইস্যুতে যেমন তারা কথা বলেন, ইরানের মানুষের জন্যও সেই একই সংহতি দেখানো উচিত। এই আহ্বানগুলো দেখাচ্ছে, হলিউডের ওপর চাপ ক্রমেই বাড়ছে।

যারা আগে সরব ছিলেন, এখন নীরব : হলিউডের কিছু বড় নাম অতীতে আন্তর্জাতিক বিভিন্ন ইস্যুতে সোচ্চার ছিলেন কিন্তু ইরান প্রসঙ্গে তাদের নীরবতা এখন প্রশ্নের মুখে। অভিনেত্রী অ্যাঞ্জেলিনা জোলি ইউক্রেনের শরণার্থী সংকটে সরাসরি গিয়ে সমর্থন জানিয়েছেন এবং মানবাধিকার ইস্যুতে নিয়মিত সক্রিয়। অভিনেতা মার্ক রাফালো গাজা ও ফিলিস্তিন ইস্যুতে সোচ্চার ছিলেন। অভিনেত্রী গ্যাল গ্যাডট ইসরাইল-হামাস সংঘাতে প্রকাশ্যে অবস্থান নিয়েছেন। একইভাবে অভিনেতা লিওনার্দো ডিক্যাপ্রিও জলবায়ু ও মানবাধিকার ইস্যুতে অত্যন্ত সক্রিয়। কিন্তু বর্তমান ইরান সংঘাত নিয়ে তাদের কোনো দৃশ্যমান বক্তব্য নেই। 

ভয়, ব্যবসা নাকি কৌশল : এই নীরবতার পেছনে কয়েকটি বড় কারণ কাজ করছে। প্রথমত রাজনৈতিক বিভাজন। ইরান ইস্যুতে বিশ্ব নিজেই বিভক্ত। দ্বিতীয়ত ব্যবসায়িক ঝুঁকি। হলিউড একটি বৈশ্বিক শিল্প, যেখানে একটি মন্তব্য বড় বাজার হারানোর কারণ হতে পারে। তৃতীয়ত ব্যক্তিগত নিরাপত্তা, স্পর্শকাতর ইস্যুতে মন্তব্য করলে হুমকির আশঙ্কা বাড়ে। চতুর্থত তথ্যযুদ্ধের জটিলতা, ভুল তথ্য ও বিভ্রান্তির ভিড়ে নিশ্চিত অবস্থান নেওয়া কঠিন হয়ে উঠছে।

সময়ের আলো/আআ


  বিষয়:   ইরান  আগ্রাসন  প্রশ্ন  হলিউড  নীরবতা 


Loading...
Loading...
আন্তর্জাতিক- এর আরো খবর
Loading...
Loading...
© 2026 Daily Shomoyer Alo
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সৈয়দ শাহনেওয়াজ করিম, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড এর পক্ষে প্রকাশক মো. ফয়সাল রহমতউল্লাহ ফেরদৌস। নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।
ফোন : ৪১০৬২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : ৪১০৬২৩৭৫
সময়ের আলোর খবর পেতে ফলো করুন: