ঈদে মুক্তি পেয়েছে মেহেদী হাসান হৃদয় পরিচালিত সিনেমা ‘রাক্ষস’। এর মাধ্যমে প্রথমবারের মতো বাংলাদেশের সিনেমায় অভিনয় করেছেন কলকাতার নায়িকা সুস্মিতা চ্যাটার্জি। জুটি বেঁধেছেন সিয়াম আহমেদের সঙ্গে। সিনেমাটি মুক্তি পাওয়া উপলক্ষে সম্প্রতি ঢাকায় এসেছিলেন তিনি। হল থেকে হলে ঘোরাঘুরির ফাঁকে হাজির হয়েছিলেন দৈনিক সময়ের আলো কার্যালয়ে। সিনেমা, ক্যারিয়ারসহ নানা বিষয় নিয়ে কথা হয় তার সঙ্গে।
কেমন লাগল বাংলাদেশ?
খুবই ভালো লেগেছে। এই ভালো লাগা আসলে ভাষায় প্রকাশ করার মতো না। প্রথম বাংলাদেশে এসেছিলাম গত ডিসেম্বরে। দ্বিতীয়বারের আসা ঈদের দিন, ‘রাক্ষস’ সিনেমা মুক্তি পাওয়া উপলক্ষে। বাংলাদেশের সবাই আমাকে খুব আপন করে নিয়েছেন।
সিনেমা মুক্তির পর দর্শক প্রতিক্রিয়া কেমন পেয়েছেন?
দর্শক প্রতিক্রিয়া খুবই ভালো। সবাই সিনেমাটির প্রশংসা করেছেন। আমি যখন অডিয়েন্সে বসে সিনেমাটি দেখছিলাম তখন প্রতিটি দৃশ্য ও সংলাপের পর দর্শকদের প্রতিক্রিয়া দেখে আমি ইমোশনাল হয়ে গিয়েছিলাম। বাংলাদেশের দর্শক যেভাবে আমাকে ভালোবাসা দিয়েছেন, তা অবাক করার মতো। ঢাকায় আসার আগ পর্যন্ত অনেক উত্তেজিত ছিলাম। মনে হচ্ছিল কখন নিজেকে বড়পর্দায় দেখব। এরপর যখন স্ক্রিনে নিজেকে দেখি, তখন মনে হয়েছে, সিনেমা নির্বাচনে ভুল করিনি। বাংলাদেশি এই সিনেমায় অভিনয়ের সিদ্ধান্তটা সঠিক ছিল।
সিনেমাটি নিয়ে কলকাতার ইন্ডাস্ট্রি থেকে কেমন সাড়া পাচ্ছেন?
সবাই আমাকে স্বাগত জানিয়েছেন। ট্রেলার দেখে জিৎ স্যার স্বাগত জানিয়ে বলেছিলেন, এই সিনেমাটি ভালো হবে। সিনেমা মুক্তির পর তার সঙ্গে আমার কথা হয়েছে। তিনি দারুণ খুশি হয়েছেন। একইভাবে কাছের অনেকে ফোন করে প্রশংসা করেছেন।
‘রাক্ষস’ আপনার কাছে কেন আলাদা?
আলাদা কারণ ‘রাক্ষস’ আমার অভিনীত বাংলাদেশের প্রথম সিনেমা। এখানে যে চরিত্রে অভিনয় করেছি এর আগে কখনো তা করা হয়নি। এটি শুধুই প্রেমের গল্প। ব্যতিক্রমী প্রেমের উপস্থাপনা। প্রেমের জন্যই সব হচ্ছে, প্রেমের জন্যই সব ধ্বংস হয়ে যাচ্ছে- এ এক অদ্ভুত প্রেমের গল্প।
এই সিনেমায় কাজ করার প্রস্তাব যখন পান তখন বাংলাদেশের সিনেমা নিয়ে আপনার ভাবনা কী ছিল?
বাংলাদেশের সিনেমা ইন্ডাস্ট্রি নিয়ে সবসময় খুবই ভালো ভাবনা ছিল আমার। বহু আগে থেকে কলকাতার অনেকে এ দেশের সিনেমায় কাজ করেছেন, এখনও করছেন। বাংলাদেশেরও অনেক অভিনয়শিল্পী কলকাতার সিনেমায় কাজ করে প্রশংসিত হয়েছেন। এভাবে দুই বাংলার একসঙ্গে কাজের বিষয়টি অত্যন্ত ভালো। আমার মনে হয় এটি আরও বাড়ানো দরকার। বাংলাদেশের সিনেমার প্রতি আমার ভাবনা ভালো ছিল বলেই কাজ করার ইচ্ছ ছিল। আমার কাছে ‘রাক্ষস’ সিনেমার প্রস্তাব আসলে লুফে নিই। এর অসাধারণ গল্প, চ্যালেঞ্জিং চরিত্র, সহশিল্পী হিসেবে সিয়াম, পরিচালক-প্রযোজক সবকিছুই মিলেই মনে হয়েছে এটি আমার জন্য পাওয়ারপ্যাক্ট মুভি।
তো পাওয়ারপ্যাক্ট সিনেমার অন্যতম পাওয়ার পারসন হিসেবে অনুভূতিটা কেমন?
পাওয়ারপ্যাক্ট সিনেমাটির মধ্যে আমিও যে একটা পাওয়ার সেটি জেনে খুব ভালো লাগছে। নিজেকে স্পেশাল মনে হচ্ছে।
আপনার নায়ক সিয়ামকে নিয়ে বলুন?
সিনেমায় কাজের সুবাদেই সিয়ামের সঙ্গে আমার প্রথম দেখা, পরিচয়। তবে খুব দ্রুত আমরা বন্ধু হয়ে গেছি। সিয়াম একজন সত্যিকারের জেন্টলম্যান এবং খুবই ভালো মানুষ। কাজের ক্ষেত্রে ও ভীষণ হেল্পফুল। আমি কিছু না বুঝলে খুব সুন্দর করে বুঝিয়ে দিয়েছেন। এমনকি আমি কিছু খেতে চাইলে সেটাও এনে দিতেন।
কাজের ক্ষেত্রে পরিচালক মেহেদী হাসান হৃদয়ের সঙ্গে বোঝাপড়াটা কেমন ছিল?
তার সঙ্গে কাজ করাটা হলো একটা ম্যাজিক। কারণ শুটিংয়ের আগে তিনি অভিনেতা-অভিনেত্রীদের সুযোগ দেন, চরিত্রের সঙ্গে মিশে যাওয়ার। অনেকটা ওষুধ তৈরি করে মুখে তুলে খাইয়ে দেওয়ার মতো। তার সঙ্গে কাজ করে যেকোনো শিল্পীই ইতিবাচক মন্তব্য করবেন।
‘রাক্ষস’ টিমের সঙ্গে কাজের অভিজ্ঞতা নিয়ে জানতে চাই?
এই টিমের সঙ্গে আমার কাজের অভিজ্ঞতা খুব ভালো। বাংলাদেশের মানুষ সত্যিই খুব ভালো। সবাই এত ভালো, এত আদর-আপ্যায়ন আর ভালোবাসা দিয়েছেন যে, মনেই হয়নি আমি অন্য দেশে নতুন একটি টিমের সঙ্গে কাজ করছি। আমাকে একদম নিজের করে নেন সবাই। শুরুতে কিছুটা ভয় ছিল কিন্তু পরে দেখা গেল এরা সবাই আমার ফ্যামিলি। নতুন জায়গায় কাজ করাটা আমার জন্য চ্যালেঞ্জিং হলেও এখানকার পরিবেশ সেটা সহজ করে দেয়।
চিত্রনাট্য অনুযায়ী কতটা কাজের সুযোগ পেয়েছেন?
আমার মনে হয় স্ক্রিপ্টের চেয়ে বেশি সুযোগ পেয়েছি। চরিত্রটিতে অভিনয় করতে ভীষণ ভালো লেগেছে। আমার কাছে খুব স্পেশাল। এই চরিত্রে অনেকগুলো শেড আছে। যেখানে অভিনয়ের বিস্তর সুযোগ ছিল।
বাংলাদেশের এই কাজ ক্যারিয়ারে কতটা ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে মনে করছেন?
একটি ভালো কাজ মানুষকে অনেক দূর এগিয়ে নিয়ে যায়। ‘রাক্ষস’ সিনেমার সাফল্য আমার ক্যারিয়ারে অবশ্যই ভালো কিছু বয়ে আনবে। কলকাতা ও বাংলাদেশে আরও নতুন কাজের সুযোগ সৃষ্টি করবে।
টালিউড থেকে ঢালিউডে কাজের মধ্যে কোনো তফাত মনে হয়েছে?
মৌলিক বিষয়ের ক্ষেত্রে আমার কাছে তফাত মনে হয়নি। সব জায়গায়ই মানুষ মন দিয়ে সততা ও আন্তরিকতার সঙ্গে কাজ করে। আমাদের এখানে কিংবা ‘রাক্ষস’-এও তাই পেয়েছি। একইভাবে আন্তরিকতা ও সততার সঙ্গে কাজ করেছেন সবাই।
বাংলাদেশের বিজ্ঞাপনচিত্র কিংবা ফ্যাশন শোতে ডাকা হলে সাড়া দেবেন?
অবশ্যই। সুযোগ পেলে শুধু সিনেমা নয়, বিজ্ঞাপনচিত্র কিংবা ফ্যাশন শোর বড় আয়োজনে আমাকে আমন্ত্রণ জানানো হলে সাদরে গ্রহণ করব। আমি বাংলাদেশের প্রজেক্টে আরও কাজ করতে চাই।
এবার একটু অন্য প্রসঙ্গ- সম্প্রতি সুস্মিতা সেনের সঙ্গে আপনার ছবি প্রকাশ হয়েছে। দুজনের দেখা কোথায়?
কলকাতার একটি বড় আয়োজনে দেখা হয়েছিল দুজনের। ছবিটাও তোলা সেই সময়ে। আমি তার অনেক বড় ফ্যান। তাকে সামনে থেকে দেখাটা আমার কাছে স্বপ্নের মতো। তাকে পেয়ে আমি স্পিচলেস হয়ে গিয়েছিলাম। এরপর কাছে গিয়ে আমার পরিচয় দিই। তিনি আমার হাত ধরে, আমার গাল টিপে দিয়ে বললেন তুমি খুব সুন্দর দেখতে। তার এই আদরে মনে হলো আমি চোখের সামনে সিনেমা দেখছি। তিনি এতটাই ডাউন টু আর্থ, এতটাই নম্র-ভদ্র যে কারোর মন তিনি জয় করে নিতে পারেন। এ জন্যই হয়তো উনি মিস ইউনিভার্স। তার সঙ্গে এইটুকু সময় কাটাতে পেরেছি তাতেই আমি ভীষণ ভাগ্যবতী মনে করছি নিজেকে।
অভিনয় নিয়ে সামনের ভাবনায় কী রয়েছে?
দুই বাংলা মিলে আরও অনেক ভালো ভালো কাজ করতে চাই। চ্যালেঞ্জিং চরিত্রে নিজেকে মেলে ধরতে চাই। সবার সঙ্গেই কাজ করার ইচ্ছা আছে। এর চেয়ে আপাতত কোনো চিন্তা করছি না।
অনুলিখন : মাসুদুর রহমান
সময়ের আলো/আআ