পঞ্জিকার পাতায় এখন চৈত্র মাস। চারদিকে তীব্র দাবদাহ আর খরতাপ থাকার কথা থাকলেও, প্রকৃতির এক ভিন্ন রূপ দেখল উত্তরের জেলা পঞ্চগড়। আজ ভোরে হিমালয়কন্যা খ্যাত এই জেলাটি ঢাকা পড়েছিল ঘন কুয়াশার চাদরে। শীত বিদায় নেওয়ার দীর্ঘ সময় পর গ্রীষ্মের এই সময়ে এমন ঘন কুয়াশায় বিস্মিত স্থানীয় বাসিন্দারা।
বৃহস্পতিবার (২ এপ্রিল) ভোর থেকে সকাল ৮টা পর্যন্ত জেলার বিভিন্ন এলাকা কুয়াশায় আচ্ছন্ন ছিল। কুয়াশার তীব্রতা এতটাই বেশি ছিল যে, সামনের দৃশ্যপট স্পষ্ট দেখা যাচ্ছিল না। মহাসড়ক ও আঞ্চলিক সড়কগুলোতে চলাচলকারী যানবাহনগুলোকে হেডলাইট জ্বালিয়ে সাবধানে চলাচল করতে দেখা গেছে। মাঠের ফসলি জমি ও ঘাসের ডগায় জমে ছিল বিন্দু বিন্দু শিশির কণা, যা মনে করিয়ে দিচ্ছিল পৌষ-মাঘের হাড়কাঁপানো শীতের কথা।
হঠাৎ প্রকৃতির এই পরিবর্তনে স্থানীয়রা অবাক। খালেক ও হাফিজ নামে দুই বাসিন্দা বলেন, মার্চের শুরু থেকেই তাপমাত্রা বাড়তে শুরু করেছিল। ভেবেছিলাম শীত পুরোপুরি বিদায় নিয়েছে। কিন্তু আজ ভোরে হঠাৎ এই ঘন কুয়াশা দেখে মনে হলো আবারও শীত ফিরে এসেছে।
ভ্যানচালক মহির উদ্দিন বলেন, চৈত্র-বৈশাখ মাসে এমন কুয়াশা আগে কখনও দেখিনি। ভোরে বের হয়ে রাস্তা দেখতে পারছিলাম না, মনে হচ্ছিল যেন ঘোর শীতকাল। গৃহিণী ফিরোজা আক্তারও একই বিস্ময় প্রকাশ করে জানান, ঘাসের ডগায় শিশির দেখে তিনি হতবাক হয়েছেন।
অসময়ের এই কুয়াশার বৈজ্ঞানিক কারণ ব্যাখ্যা করেছেন তেঁতুলিয়া আবহাওয়া পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা দ্বিজেন্দ্রনাথ রায়। তিনি বলেন, বায়ুমণ্ডলে আর্দ্রতা বৃদ্ধি এবং দিন ও রাতের তাপমাত্রার বড় পার্থক্যের কারণে জলীয় বাষ্প দ্রুত ঘনীভূত হচ্ছে। মৌসুমি বায়ু সক্রিয় হয়ে ভূপৃষ্ঠের কাছাকাছি শীতলতার সংস্পর্শে আসায় এই পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে।
তিনি আরও জানান, এই ধরনের বিশেষ পরিস্থিতিকে আবহাওয়া বিজ্ঞানের ভাষায় ‘স্টিম ফগ’ বা ‘বাষ্পীয় কুয়াশা’ বলা হয়। দীর্ঘ সময় আকাশে মেঘের অবস্থান, দক্ষিণা বাতাসের সক্রিয়তা এবং হঠাৎ বৃষ্টির কারণেও এমন কুয়াশাচ্ছন্ন পরিবেশ সৃষ্টি হতে পারে।
জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে প্রকৃতির এমন আচরণ কি না, তা নিয়ে সাধারণ মানুষের মাঝে কৌতূহল দেখা দিয়েছে। তবে অসময়ের এই কুয়াশা পঞ্চগড় বাসীর যান্ত্রিক জীবনে ক্ষণিকের জন্য হলেও শীতের আমেজ আর স্নিগ্ধতা ফিরিয়ে দিয়েছে।
সময়ের আলো/জোই