অটোরিকশার দৌরাত্ম্যে তীব্র যানজট, ভোগান্তিতে সাধারণ মানুষ

আতিকুর রহমান, ঝালকাঠি

সারাদেশ

দক্ষিণাঞ্চলের গুরুত্বপূর্ণ জেলা শহর ঝালকাঠিতে দিন দিন বেড়েই চলেছে অটোরিকশার সংখ্যা। কিন্তু সেই তুলনায় সড়ক ব্যবস্থাপনা ও ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণের উন্নতি

2026-04-02T15:56:57+00:00
2026-04-02T15:56:57+00:00
 
  রবিবার, ১৯ জুলাই ২০২৬,
৪ শ্রাবণ ১৪৩৩
রবিবার, ১৯ জুলাই ২০২৬
সারাদেশ
অটোরিকশার দৌরাত্ম্যে তীব্র যানজট, ভোগান্তিতে সাধারণ মানুষ
আতিকুর রহমান, ঝালকাঠি
প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, ২ এপ্রিল, ২০২৬, ৩:৫৬ পিএম 
শহরের ফায়ারসার্ভিস মোড়ে অটোরিকশার তীব্র যানজট। ছবি : সময়ের আলো
দক্ষিণাঞ্চলের গুরুত্বপূর্ণ জেলা শহর ঝালকাঠিতে দিন দিন বেড়েই চলেছে অটোরিকশার সংখ্যা। কিন্তু সেই তুলনায় সড়ক ব্যবস্থাপনা ও ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণের উন্নতি না হওয়ায় শহরের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সড়কে প্রায় প্রতিদিনই তীব্র যানজট সৃষ্টি হচ্ছে। এর ফলে চরম দুর্ভোগে পড়ছেন সাধারণ মানুষ, শিক্ষার্থী, অফিসগামী কর্মচারী, রোগী ও ব্যবসায়ীরা। 

শহরের কলেজ মোড়, ফায়ার সার্ভিস মোড়, সাধনার মোড়, কালিবাড়ি সড়ক, সদর চৌমাথা, লঞ্চঘাট, কাপুড়িয়া পট্টি, সরকারি হরচন্দ্র বালিকা বিদ্যালয়ের সামনে ও কায়েদ মহল সংলগ্ন সড়কগুলোতে সকাল ও বিকেলের ব্যস্ত সময়ে যানজট সবচেয়ে বেশি দেখা যায়। বিশেষ করে অফিস শুরু ও শেষ হওয়ার সময়, স্কুল-কলেজ ছুটির সময় এবং বাজারের ব্যস্ত মুহূর্তে রাস্তাগুলো প্রায় স্থবির হয়ে পড়ে। 

অনেক সময় কয়েক মিনিটের পথ অতিক্রম করতে আধা ঘণ্টা কিংবা তারও বেশি সময় লেগে যায়। স্থানীয়দের অভিযোগ, অটোরিকশা চালকেরা অনেক সময় রাস্তার মাঝখানেই গাড়ি থামিয়ে যাত্রী ওঠানামা করান। আবার অনেক চালক নির্দিষ্ট কোনো স্ট্যান্ড না মেনে যত্রতত্র গাড়ি পার্ক করে রাখেন। এতে করে অন্য যানবাহন চলাচলে বাধা সৃষ্টি হয় এবং দ্রুত যানজট তৈরি হয়।

শহরের বাসিন্দা বাদল চন্দ্র বলেন, প্রতিদিন সকালে অফিসে যাওয়ার সময় কলেজ মোড় এলাকায় প্রচণ্ড যানজটের মুখে পড়তে হয়। কখনও কখনও ১০ মিনিটের পথ পাড়ি দিতে ৩০ মিনিট লেগে যায়। এতে আমাদের সময় নষ্ট হয় এবং কাজে দেরি হয়ে যায়।

কলেজপড়ুয়া শিক্ষার্থী আনিকা আক্তার বলেন, রাস্তার মাঝে অটোরিকশা দাঁড়িয়ে থাকায় অনেক সময় গাড়ি এগোতেই পারে না। এর ফলে আমরা সময়মতো কলেজে পৌঁছাতে পারি না। পরীক্ষার দিন হলে তো আরও বেশি সমস্যা হয়।

অটো চালক ইলিয়াস মাঝি বলেন, আমরা ইচ্ছে করে রাস্তা আটকিয়ে রাখি না। শহরে নির্দিষ্ট অটোস্ট্যান্ড খুবই কম, তাই বাধ্য হয়েই অনেক সময় রাস্তার পাশে যাত্রী ওঠানামা করাতে হয়। আবার শহরে যাত্রীও অনেক, তাই অটোরিকশার সংখ্যাও বেড়েছে। যদি নির্দিষ্ট স্ট্যান্ড করা হয় এবং সঠিকভাবে ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা করা হয়, তাহলে যানজট অনেকটাই কমবে।


রিকশাচালক শহিদুল ইসলাম বলেন, আমরাও চাই শহরের মানুষ স্বস্তিতে চলাফেরা করুক। কিন্তু জীবিকার তাগিদে আমাদের রাস্তায় নামতে হয়। অটোরিকশার সংখ্যা অনেক বেড়ে গেছে। তারা রাস্তার যে কোনো জায়গায় দাঁড়িয়ে যাত্রী ওঠা নামা করেন। এতে অন্য যানবাহনের চলাচলও বাধাগ্রস্ত হয়।

ঝালকাঠি দধি ঘরের স্বত্বাধিকারী মো. আরাফাত খান জানান, যানজটের কারণে অনেক ক্রেতা বাজারে আসতে চায় না। বিশেষ করে দুপুরের দিকে যানজট এতটাই বেশি হয় যে মানুষ বাজারে ঢুকতেই ভয় পায়। এতে আমাদের ব্যবসারও ক্ষতি হচ্ছে।

এ বিষয়ে দায়িত্বপ্রাপ্ত ট্রাফিক পুলিশের এক কর্মকর্তা জানান, ঝালকাঠি পৌরসভা থেকে কতটি অটোর সাইসেন্স দেওয়া হয়েছে তার তথ্য আমাদের কাছে নেই। পৌরসভা অটোর লাইসেন্স নবায়ন ও নতুন লাইসেন্স প্রদানের আমাদের কাছে কোনো তথ্য দেয়নি। এছাড়া পৌর কর্তৃপক্ষ আনুষ্ঠানিকভাবে অথবা অফিসিয়াল আমাদের সঙ্গে কোনো আলোচনা করেনি। তবে পৌর কর্তৃপক্ষ এবং আমরা (পুলিশের ট্রাফিক বিভাগ) অবৈধ অটো প্রতিরোধে চেকপোস্ট বসিয়ে ব্যাপক কার্যক্রম পরিচালনা করেছি। আমাদের ধারণা শহরের লাইসেন্স প্রাপ্ত অটোর সংখ্যা ৭০০ বেশি। 

শহরে যানবাহনের সংখ্যা আগের তুলনায় অনেক বেড়েছে, বিশেষ করে অটোরিকশা। অনেক চালক ট্রাফিক নিয়ম মেনে চলেন না এবং নির্ধারিত জায়গায় না দাঁড়িয়ে রাস্তার মাঝখানে যাত্রী ওঠানামা করান। আমরা নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করছি এবং আইন অমান্যকারীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিচ্ছি।

তিনি আরও বলেন, যানজট নিরসনের জন্য শহরের গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টগুলোতে ট্রাফিক সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে। পাশাপাশি অটোরিকশার জন্য নির্দিষ্ট স্ট্যান্ড নির্ধারণ এবং ট্রাফিক শৃঙ্খলা বজায় রাখতে বিভিন্ন উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।

সচেতন নাগরিক কমিটির (সনাক) সদস্য ঈসমাইল মুসাফির বলেন, অটোরিকশা চলাচলের সুনির্দিষ্ট নীতিমালা তৈরি, নির্দিষ্ট পার্কিং ও স্ট্যান্ডের ব্যবস্থা করা, ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা শক্তিশালী করা এবং চালকদের ট্রাফিক আইন সম্পর্কে সচেতন করা হলে এই সমস্যা অনেকাংশে কমানো সম্ভব।

ঝালকাঠি পৌরসভার নির্বাহী কর্মকর্তা (সচিব) মোসা. শাহিন সুলতানা জানান, আমরা কাগজপত্র সবকিছু চেক করেই নতুন অটোর লাইসেন্স প্রদান এবং পুরাতন অটোর লাইসেন্স নবায়ন করি। তবে অবৈধ অটো প্রতিরোধে আমাদের তৎপরতা সবসময়েই রয়েছে। 

শহরের সাধারণ মানুষের প্রত্যাশা, প্রশাসন দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করবে এবং যানজট সমস্যার স্থায়ী সমাধান করবে। তাহলে ব্যস্ত এই জেলা শহর ঝালকাঠির মানুষ স্বস্তি ফিরে পাবে এবং স্বাভাবিক গতিতে চলবে নগর জীবনের কর্মচাঞ্চল্য।

সময়ের আলো/জোই





  বিষয়:   অটোরিকশা  দৌরাত্ম্য  তীব্র যানজট  ভোগান্তি  সাধারণ মানুষ 


Loading...
Loading...
সারাদেশ- এর আরো খবর
Loading...
Loading...
© 2026 Daily Shomoyer Alo
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সৈয়দ শাহনেওয়াজ করিম, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড এর পক্ষে প্রকাশক মো. ফয়সাল রহমতউল্লাহ ফেরদৌস। নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।
ফোন : ৪১০৬২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : ৪১০৬২৩৭৫
সময়ের আলোর খবর পেতে ফলো করুন: