প্রশাসনের সঙ্গে বৈঠকের পর সিলেটে জ্বালানি ধর্মঘট প্রত্যাহার করেছেন পেট্রোল পাম্প মালিকরা। টানা ১৪ ঘণ্টা বন্ধ থাকার পর বৃহস্পতিবার (২ এপ্রিল) দুপুর থেকে বিভাগজুড়ে আবারও শুরু হয়েছে তেল ও গ্যাস বিক্রি।
জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে ফলপ্রসূ আলোচনার পর এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
অবশেষে স্বস্তি ফিরল সিলেটে। প্রশাসনের হয়রানি ও জরিমানার নামে চাঁদাবাজির প্রতিবাদে ডাকা অনির্দিষ্টকালের ধর্মঘট প্রত্যাহার করেছেন পেট্রোল পাম্প ও সিএনজি স্টেশন মালিকরা।
বুধবার (১ এপ্রিল) রাত ১২টা থেকে হঠাৎ করেই বন্ধ হয়ে যায় পুরো বিভাগের জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থা। বাংলাদেশ পেট্রোলিয়ামে ডিলার্স ও ডিস্ট্রিবিউটার্স অ্যাসোসিয়েশনের ডাকে এই কর্মসূচিতে কার্যত অচল হয়ে পড়ে যোগাযোগব্যবস্থা।
পাম্প মালিকদের অভিযোগ ছিল, প্রশাসনের অতিউৎসাহী কিছু কর্মকর্তা জরিমানার আড়ালে দীর্ঘদিন ধরে তাদের হয়রানি করে আসছিলেন। তাদের সঙ্গে একাত্মতা প্রকাশ করে কাজ বন্ধ রেখেছিলেন ট্যাংক লরি শ্রমিক ও এলপিজি স্টেশনের কর্মীরাও।
হঠাৎ এই ধর্মঘটে মধ্যরাত থেকেই চরম ভোগান্তিতে পড়েন দূরপাল্লার চালক ও সাধারণ মানুষ। তেল না পেয়ে পাম্পগুলোতে দীর্ঘ লাইন আর ক্ষোভ দেখা দেয় জনমনে।
উদ্ভূত পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে বৃহস্পতিবার দুপুরে জেলা প্রশাসক কার্যালয়ে জরুরি বৈঠকে বসে প্রশাসন ও মালিকপক্ষ। সেখানে হয়রানি বন্ধের আশ্বাসে ১৪ ঘণ্টা পর ধর্মঘট তুলে নেওয়ার ঘোষণা দেন নেতৃবৃন্দ।
সিলেট পেট্রোল পাম্প ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি জুবায়ের আহমদ চৌধুরী বলেন, সব দাবিদাওয়া মেনে নেওয়ার আশ্বাসের পর ধর্মঘট প্রত্যাহার করা হয়েছে।
বিকেল থেকে সিলেটের পাম্পগুলোতে আবারও তেল ও গ্যাস বিক্রি শুরু হওয়ায় স্বস্তি ফিরেছে জনজীবনে।
বৈঠকে পেট্রোল পাম্প মালিকদের পাশাপাশি উপস্থিত ছিলেন সিলেটের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ সারওয়ার আলম, সিলেট সিটি করপোরেশনের প্রশাসক আবদুল কাইয়ুম চৌধুরীসহ প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।
সময়ের আলো/জোই