যুদ্ধ পরিচালনায় খামখেয়ালি করায় ট্রাম্পের ওপর সৌদির ক্ষোভ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক

ইরানের বিরুদ্ধে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের যুদ্ধনীতি এবং মন্তব্যে ক্রমেই অসন্তোষ বাড়ছে সৌদি আরবের। বিশেষ করে সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন

2026-04-02T20:31:52+00:00
2026-04-02T20:31:52+00:00
 
  রবিবার, ১৯ জুলাই ২০২৬,
৪ শ্রাবণ ১৪৩৩
রবিবার, ১৯ জুলাই ২০২৬
আন্তর্জাতিক
যুদ্ধ পরিচালনায় খামখেয়ালি করায় ট্রাম্পের ওপর সৌদির ক্ষোভ
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, ২ এপ্রিল, ২০২৬, ৮:৩১ পিএম 
সংগৃহীত ছবি
ইরানের বিরুদ্ধে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের যুদ্ধনীতি এবং মন্তব্যে ক্রমেই অসন্তোষ বাড়ছে সৌদি আরবের। বিশেষ করে সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমানকে নিয়ে তার অশালীন মন্তব্য এবং যুদ্ধ পরিচালনায় অনিশ্চিত অবস্থান রিয়াদকে অস্বস্তিতে ফেলেছে।

বিশ্লেষকদের মতে, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে দীর্ঘদিনের সম্পর্ক আরও মজবুত করতে সম্প্রতি সময় ও অর্থ বিনিয়োগ করেছিল সৌদি আরব। কিন্তু বর্তমান পরিস্থিতিতে হোয়াইট হাউসের আচরণে তারা “চরম হতাশ” এমনটাই বলেছেন চ্যাটাম হাউসের  সহযোগী গবেষক নিল কুইলিয়াম।

ট্রাম্প সম্প্রতি বলেন, হরমুজ প্রণালি খোলার দায়িত্ব অন্য দেশের এবং তিনি চাইলে কোনো নির্দিষ্ট চুক্তি ছাড়াই যুদ্ধ শেষ করতে পারেন। এতে সৌদির উদ্বেগ আরও বেড়েছে। কুইলিয়াম বলেন, ট্রাম্পের একতরফা সিদ্ধান্ত এবং তার পরিণতি নিয়ে উদাসীনতা সৌদি আরবকে হতাশ করেছে। যুবরাজকে নিয়ে তার মন্তব্য পরিস্থিতিকে আরও খারাপ করেছে।

এক বক্তৃতায় শুরুতে ট্রাম্প সৌদি যুবরাজকে ‘বন্ধু’ ও ‘যোদ্ধা’ বলে প্রশংসা করলেও পরে হঠাৎ সুর বদলে বলেন, যুবরাজকে তার সঙ্গে ভালো ব্যবহার করতেই হবে। এমন মন্তব্য সৌদি আরবে বিরূপ প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করেছে।

যুবরাজের ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত বার্নার্ড হেকেল বলেন, যুদ্ধের বর্তমান পরিস্থিতি এবং ইরানকে ঘিরে দৃষ্টিভঙ্গি বদলে যাওয়ায় যুক্তরাষ্ট্র-সৌদি সম্পর্কে টানাপোড়েন বাড়ছে।

শুরুতে ইরানে হামলার সম্ভাব্য ঝুঁকি সম্পর্কে যুক্তরাষ্ট্রকে সতর্ক করেছিল রিয়াদ। পরে তারা মনে করে, ইসরায়েল যদি হামলা চালায়, তাহলে যুক্তরাষ্ট্রকেও পাশে রাখা উচিত। তবে ইরানের বিদ্যুৎ ও জ্বালানি স্থাপনায় হামলার বিরোধিতা করেছিল সৌদি আরব। তারা চেয়েছিল, ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র সক্ষমতা ধ্বংস হোক।

হেকেলের মতে, সৌদির নিরাপত্তা ব্যবস্থা অনেকটাই দুর্বল। দেশটির বড় সীমানা রক্ষা করা কঠিন। যদি পানি পরিশোধন প্রকল্প বা জ্বালানি অবকাঠামো ধ্বংস হয়, তাহলে বড় বিপর্যয় হতে পারে।

এরই মধ্যে ইরান উপসাগরীয় অঞ্চলের গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনাগুলোতে হামলা চালিয়েছে। সৌদি তেল শোধনাগার, বাহরাইন ও কুয়েতের পানি প্রকল্প, কাতারের গ্যাস প্রকল্প এবং সংযুক্ত আরব আমিরাতের শিল্প স্থাপনা লক্ষ্যবস্তু হয়েছে। পাশাপাশি ইরান হরমুজ প্রণালিও অবরুদ্ধ করেছে।

গত মাসে ট্রাম্প হুমকি দেন, প্রণালি না খুললে ইরানের বিদ্যুৎকেন্দ্র ধ্বংস করা হবে। এতে উপসাগরীয় দেশগুলো আতঙ্কিত হয়ে পড়ে এবং দ্রুত যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে যোগাযোগ করে।

এক উপসাগরীয় কর্মকর্তা বলেন, যুক্তরাষ্ট্র যদি ইরানের জ্বালানি অবকাঠামোয় হামলা করে, তাহলে ইরানের পাল্টা হামলা সামাল দেওয়া কঠিন হবে।

এদিকে, যুদ্ধের খরচ আরব দেশগুলোর ওপর চাপিয়ে দেওয়ার ইঙ্গিত দিয়েছে ওয়াশিংটন। এতে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। 

হেকেল বলেন, ট্রাম্প মনে করেন আরব দেশগুলোর কাছে প্রচুর অর্থ আছে, তাই চাপ দিয়ে যুদ্ধের খরচ আদায় করতে চান।

একই বক্তৃতায় সৌদি আরবকে ইসরায়েলের সঙ্গে সম্পর্ক স্বাভাবিক করার আহ্বানও জানান ট্রাম্প। 

তবে যুবরাজ সালমান বলেছেন, ফিলিস্তিন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার অগ্রগতি না হলে এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে না।

ওয়ালি নাসর বলেন, ট্রাম্প হতাশ হয়ে এমন ভাষা ব্যবহার করছেন, যা কূটনৈতিকভাবে গ্রহণযোগ্য নয়।

অন্যদিকে, এই যুদ্ধের জন্য বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর নেতৃত্বাধীন ইসরায়েল সরকারকেও দায়ী করছে রিয়াদ।

যদিও ইরানকে দীর্ঘদিন ধরে হুমকি হিসেবে দেখে সৌদি আরব, সাম্প্রতিক সময়ে তারা তেহরানের সঙ্গে সম্পর্ক স্বাভাবিক করার চেষ্টা করেছিল। শুরুতে তারা ভেবেছিল, ইরান দুর্বল হলে তাদের লাভ হবে। কিন্তু এখন তারা আশঙ্কা করছে ট্রাম্প হঠাৎ যুদ্ধ শেষ করে দিলে আরও শক্তিশালী ও আক্রমণাত্মক ইরানের মুখোমুখি হতে হবে।

প্রকাশ্যে সৌদি আরব উত্তেজনা কমানোর আহ্বান জানাচ্ছে। কারণ দীর্ঘ যুদ্ধ তাদের অর্থনীতি ও পর্যটন খাতের বড় পরিকল্পনাকে ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে।

এ পরিস্থিতিতে পাকিস্তান, মিশর ও তুরস্কের সঙ্গে বৈঠক করে আঞ্চলিকভাবে যুদ্ধ বন্ধের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। এ লক্ষ্যে ইসলামাবাদে বৈঠক করেছেন সৌদি পররাষ্ট্রমন্ত্রী ফয়সাল বিন ফারহান।

গাল্ফ রিসার্চ সেন্টারের চেয়ারম্যান আবদুল আজিজ সাগের বলেন, সৌদি আরব এখন যুদ্ধ থামানো এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতেই বেশি গুরুত্ব দিচ্ছে। তবে ইরানের সামরিক শক্তি দুর্বল না করেই যুদ্ধ শেষ হলে ভবিষ্যতে উত্তেজনা আরও বাড়তে পারে।

বিশ্লেষকদের মতে, যুক্তরাষ্ট্রের স্পষ্ট কৌশলের অভাব এই সংকটকে আরও অনিশ্চিত করে তুলছে।

এদিকে, হুথি বিদ্রোহী গোষ্ঠী ইতোমধ্যে এই সংঘাতে জড়িয়েছে। তারা ইসরায়েলের দিকে ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়েছে। যদি তারা আরও সক্রিয় হয় এবং লোহিত সাগরের গুরুত্বপূর্ণ জলপথ বাব এল-মান্দেবে জাহাজ চলাচল ব্যাহত করে, তাহলে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠতে পারে।

সময়ের আলো/আরবিএন 


  বিষয়:   ইরান  মার্কিন  প্রেসিডেন্ট  ডোনাল্ড  ট্রাম্প  যুদ্ধনীতি 


Loading...
Loading...
আন্তর্জাতিক- এর আরো খবর
Loading...
Loading...
© 2026 Daily Shomoyer Alo
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সৈয়দ শাহনেওয়াজ করিম, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড এর পক্ষে প্রকাশক মো. ফয়সাল রহমতউল্লাহ ফেরদৌস। নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।
ফোন : ৪১০৬২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : ৪১০৬২৩৭৫
সময়ের আলোর খবর পেতে ফলো করুন: