আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের সংকটের সুযোগ নিয়ে পঞ্চগড়ে অভিনব পন্থায় পেট্রোল পাচারের ঘটনা ধরা পড়েছে। শুক্রবার (৩ এপ্রিল) দুপুরে পঞ্চগড় সদর উপজেলার ধাক্কামারা এলাকার মডার্ন কিন্ডারগার্ডেনের সামনে থেকে ৫০ লিটার পেট্রোলসহ একটি মোটরসাইকেল জব্দ করা হয়েছে।
কোম্পানির মালবাহী গাড়ির আদলে বিশেষ বক্স তৈরি করে এই তেল পাচার করা হচ্ছিল।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বোদা উপজেলার ময়দানদিঘী ইউনিয়নের ‘সুবহানাকা ফিলিং স্টেশন’ থেকে গত কয়েকদিন ধরে একটি মোটরসাইকেল প্রতিদিন ৭ থেকে ৮ বার পেট্রোল সংগ্রহ করছিল। মোটরসাইকেলের পেছনে একটি বিশেষ বক্স স্থাপন করায় দূর থেকে একে কোনো কোম্পানির ডেলিভারি গাড়ি বলে মনে হতো। বিষয়টি সন্দেহজনক মনে হওয়ায় হাবিবুর রহমান নামে স্থানীয় এক ব্যক্তি নজরদারি শুরু করেন।
গত বৃহস্পতিবার মোটরসাইকেলটিকে ধাওয়া করা হলেও চালক দ্রুত পালিয়ে যায়। তবে শুক্রবার (৩ এপ্রিল) দুপুরে পুনরায় ওই মোটরসাইকেলটি পেট্রোল নিয়ে যাওয়ার সময় হাবিবুর রহমান স্থানীয়দের সহায়তায় ধাক্কামারা এলাকায় সেটিকে গতিরোধ করেন। এ সময় অবস্থা বেগতিক দেখে মোটরসাইকেল চালক দ্রুত পালিয়ে যান।
পরে স্থানীয়রা মোটরসাইকেলের পেছনের বাক্স খুলে তিনটি বড় জারে ভরা প্রায় ৫০ লিটার পেট্রোল উদ্ধার করেন।
খবর পেয়ে পঞ্চগড় সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ফাহমিদা সুলতানা এবং পুলিশ সদস্যরা ঘটনাস্থলে উপস্থিত হন। জব্দকৃত পেট্রোল শহরের সেতারা ফিলিং স্টেশনে নিয়ে যাওয়া হয় এবং সেখানে সরকারি নির্ধারিত মূল্যে বৈধ ফুয়েল কার্ডধারী সাধারণ গ্রাহকদের মধ্যে বিতরণ করা হয়।
ইউএনও ফাহমিদা সুলতানা বলেন, স্থানীয় বাসিন্দা ও শ্রমিক নেতাদের সহযোগিতায় আমরা আনুমানিক ৫০ লিটার অবৈধ তেলসহ একটি মোটরসাইকেল জব্দ করেছি। পাচারকারী পালিয়ে গেলেও মোটরসাইকেলটি আমাদের হেফাজতে রয়েছে। জব্দকৃত তেল আমরা প্রকৃত গ্রাহকদের মধ্যে ন্যায্যমূল্যে বিক্রি করে দিয়েছি।
তিনি আরও জানান, প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, এই তেল বোদা উপজেলার সুবহানাকা পাম্প থেকে সংগ্রহ করা হয়েছে। বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। সরকারি নির্দেশনা অমান্য করে এভাবে তেল বিক্রির সঙ্গে জড়িত ফিলিং স্টেশনের বিরুদ্ধেও প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
সময়ের আলো/জোই