মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাত ক্রমেই ভয়াবহ ও জটিল রূপ নিচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্র, ইসরাইল ও ইরানের পাল্টাপাল্টি হামলা, আকাশযুদ্ধে ক্ষয়ক্ষতি, সামরিক নেতৃত্বে অস্থিরতা এবং কূটনৈতিক টানাপড়েন সব মিলিয়ে পরিস্থিতি এখন এক বহুমাত্রিক সংকটে পরিণত হয়েছে। যুদ্ধক্ষেত্রের পাশাপাশি রাজনৈতিক ও কৌশলগত অঙ্গনেও উত্তেজনা বাড়ছে, যার প্রভাব ছড়িয়ে পড়ছে পুরো অঞ্চলে। ইরানের সঙ্গে চলমান যুদ্ধে এখন পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্র সাতটি সামরিক উড়োজাহাজ হারিয়েছে।
সবশেষ শুক্রবার পৃথক ঘটনায় একটি এফ-১৫ই এবং একটি এ-১০ যুদ্ধবিমান বিধ্বস্ত হয়। এর আগে কুয়েতের আকাশে ভুলবশত তিনটি মার্কিন এফ-১৫ ভূপাতিত হয় এবং ইরাকে একটি কেসি-১৩৫ রিফুয়েলিং উড়োজাহাজ বিধ্বস্ত হয়ে ছয় সেনা নিহত হন। এ ছাড়া সৌদি আরবে ইরানি হামলায় একটি ই-৩ সেন্ট্রি উড়োজাহাজ ধ্বংস এবং একটি রিফুয়েলিং উড়োজাহাজ ক্ষতিগ্রস্ত হয়। মধ্যপ্রাচ্যের একটি ঘাঁটিতে ক্ষতিগ্রস্ত একটি এফ-৩৫ জরুরি অবতরণও করেছে।
যুদ্ধের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরেও তৈরি হয়েছে বড় ধরনের সংকট। ইরানে স্থল অভিযান চালানোর নির্দেশ অমান্য করায় প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে দেশটির শীর্ষ সামরিক কর্মকর্তাদের দ্বন্দ্ব তীব্র হয়েছে। জয়েন্ট চিফস অব স্টাফের চেয়ারম্যানসহ ১২ জন জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তাকে বরখাস্ত করা হয়েছে, যা আধুনিক মার্কিন ইতিহাসে নজিরবিহীন। এই পরিস্থিতি সামরিক বাহিনীর ওপর বেসামরিক নিয়ন্ত্রণ এবং আইনি বৈধতা নিয়ে নতুন প্রশ্ন তৈরি করেছে।
পেন্টাগনের তথ্য অনুযায়ী, যুদ্ধ শুরুর পর এখন পর্যন্ত ৩৬৫ জন মার্কিন সেনা আহত হয়েছে, যার মধ্যে সেনাবাহিনী, নৌবাহিনী, মেরিন্স এবং বিমানবাহিনীর সদস্যরা রয়েছে। নিহতের সংখ্যা ১৩ জনে স্থির রয়েছে। অন্যদিকে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় মধ্য ইসরাইলে আঘাত হানার ঘটনা নিশ্চিত করেছে ইসরাইলি সামরিক বাহিনী। উদ্ধারকাজ চালাতে ঘটনাস্থলে দল মোতায়েন করা হয়েছে এবং সাধারণ মানুষকে নিরাপদ দূরত্বে থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
ইরান দাবি করেছে, তারা শত্রুপক্ষের একাধিক উন্নত যুদ্ধবিমান, ১৬০টির বেশি ড্রোন এবং কয়েক ডজন ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র ভূপাতিত করেছে। ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আলিরেজা এলহামির মতে, এসব পদক্ষেপ শত্রুপক্ষের পরিকল্পনাকে ব্যাহত করেছে এবং ইরানের আকাশ প্রতিরক্ষা সক্ষমতার প্রমাণ দিয়েছে।
সংঘাতের বিস্তার শুধু যুদ্ধক্ষেত্রে সীমাবদ্ধ নেই। ইরানের খুজেস্তান প্রদেশের মাহশাহর অঞ্চলের পেট্রোকেমিক্যাল স্থাপনাগুলোতে মার্কিন-ইসরাইলি হামলার অভিযোগ উঠেছে, যেখানে একাধিক বিস্ফোরণ ঘটে এবং ক্ষয়ক্ষতির আশঙ্কা রয়েছে। একইভাবে দুবাই মেরিনাতেও ইরানি ড্রোন বা ক্ষেপণাস্ত্র হামলার ঘটনা ঘটেছে, যদিও সেখানে বড় ধরনের হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি। অঞ্চলজুড়ে কৌশলগত গুরুত্বও বাড়ছে। হরমুজ প্রণালি দিয়ে যুদ্ধ পরিস্থিতির মধ্যেই আন্তর্জাতিক তেলবাহী জাহাজ চলাচল অব্যাহত রয়েছে, যা বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
এদিকে সৌদি আরবে মার্কিন দূতাবাসে হামলার ঘটনায় ইরান দায় অস্বীকার করে ইসরাইলকে দায়ী করেছে। একই সঙ্গে তেহরান যুক্তরাষ্ট্রের প্রস্তাবিত ৪৮ ঘণ্টার যুদ্ধবিরতির প্রস্তাবও প্রত্যাখ্যান করেছে বলে জানা গেছে।
সবশেষে আকাশযুদ্ধ আরও তীব্র হয়েছে। ইরান আরও একটি মার্কিন-ইসরাইলি যুদ্ধবিমান ভূপাতিত করার দাবি করেছে, যদিও তা এখনও নিশ্চিত নয়। একই সময়ে ভূপাতিত বিমান থেকে পাইলট উদ্ধারে গিয়ে মার্কিন বাহিনী নতুন করে হামলার মুখে পড়ে, যা সংঘাতের ঝুঁকি আরও বাড়িয়ে তুলেছে।
সাতটি উড়োজাহাজ হারিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র : যুক্তরাষ্ট্রের বিমানবাহিনীর একটি এফ-১৫ই এবং একটি এ-১০ যুদ্ধবিমান গতকাল শুক্রবার পৃথক ঘটনায় বিধ্বস্ত হয়েছে। এর মাধ্যমে ইরানের সঙ্গে চলমান যুদ্ধে ধ্বংস হওয়া মার্কিন সামরিক উড়োজাহাজের সংখ্যা বেড়ে সাতে দাঁড়িয়েছে। গত ২ মার্চ কুয়েতের আকাশে দেশটির আকাশ প্রতিরক্ষাব্যবস্থার ভুলে তিনটি মার্কিন এফ-১৫ যুদ্ধবিমান ভূপাতিত হয়। অবশ্য তিনটি যুদ্ধবিমানের ছয় ক্রু সদস্যের সবাই নিরাপদে বেরিয়ে আসতে সক্ষম হয়।
গত ১২ মার্চ ইরাকের আকাশসীমায় একটি কেসি-১৩৫ রিফুয়েলিং উড়োজাহাজ বিধ্বস্ত হয়ে মার্কিন বিমানবাহিনীর ছয় সদস্য নিহত হয়েছে। ওই ঘটনায় একই ধরনের দ্বিতীয় উড়োজাহাজটি পাশের একটি দেশে নিরাপদে অবতরণ করে।
স্থল অভিযান নিয়ে নজিরবিহীন সংকটে যুক্তরাষ্ট্র : ইরানের বিরুদ্ধে বড় ধরনের স্থল অভিযান চালাতে মার্কিন সামরিক বাহিনীকে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের দেওয়া নির্দেশ দেশটির এক ডজন জ্যেষ্ঠ জেনারেল অমান্য করায় যুক্তরাষ্ট্রে নজিরবিহীন সাংবিধানিক সংকট তৈরি হয়েছে। হোয়াইট হাউস এবং মার্কিন সামরিক বাহিনীর শীর্ষ কর্মকর্তাদের মধ্যে ইরানে অভিযান ঘিরে বিভাজন তৈরি হওয়ায় ওই সংকট তৈরি হয়েছে।
মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধের মাঝে জয়েন্ট চিফস অব স্টাফের চেয়ারম্যানসহ ১২ জন শীর্ষ কর্মকর্তাকে বরখাস্ত করা হয়েছে; যা আধুনিক আমেরিকার ইতিহাসে সামরিক নেতৃত্বে সবচেয়ে বড় চাকরিচ্যুতির ঘটনা বলে মনে করা হচ্ছে। জেনারেলদের এই অস্বীকৃতি কি কোনো ‘অবৈধ নির্দেশ’ প্রত্যাখ্যানের আইনি পদক্ষেপ, নাকি এটি সামরিক বাহিনীর ওপর বেসামরিক নিয়ন্ত্রণকে হুমকিতে ফেলার এক অবাধ্যতা, তা নিয়ে বিশেষজ্ঞরা প্রশ্ন তুলছেন।
ইরানের মার্কিন হামলার সমর্থকরা যুক্তি দিয়ে বলেছেন, সামরিক কৌশল নির্ধারণে কমান্ডার-ইন-চিফ বা প্রেসিডেন্টের নিরঙ্কুশ কর্তৃত্ব রয়েছে এবং পেন্টাগনের যেকোনো ধরনের বাধা সরাসরি কমান্ড কাঠামোর লঙ্ঘন।
যুদ্ধে ৩৬৫ মার্কিনি সেনা আহত : মার্কিন প্রতিরক্ষা দফতর পেন্টাগনের প্রকাশিত তথ্যানুযায়ী যুক্তরাষ্ট্র-ইসরাইল ও ইরানের মধ্যে যুদ্ধ শুরুর পর থেকে এখন পর্যন্ত মোট ৩৬৫ জন মার্কিনি সেনা অভিযানে আহত হয়েছে। তাদের মধ্যে সেনাবাহিনীর ২৪৭ জন, নৌবাহিনীর ৬৩ জন, মেরিন্সের ১৯ জন, বিমানবাহিনীর ৩৬ জন রয়েছে। তথ্য অনুযায়ী নিহতের সংখ্যা ১৩ জনেই স্থির রয়েছে।
মধ্য ইসরাইলে ইরানি ক্ষেপণাস্ত্রের আঘাত : ইরান থেকে ছোড়া একটি ক্ষেপণাস্ত্র মধ্য ইসরাইলে আঘাত হেনেছে বলে নিশ্চিত করেছে দেশটির সামরিক বাহিনী। এই ঘটনার পর হোম ফ্রন্ট কমান্ডের তল্লাশি ও উদ্ধারকারী দলগুলো আক্রান্ত স্থানে মোতায়েন রয়েছে। জরুরি উদ্ধারকাজ পরিচালনার সুবিধার্থে আক্রান্ত এলাকায় বা এর আশপাশে জড়ো না হওয়ার জন্য জনসাধারণের প্রতি জরুরি অনুরোধ জানিয়েছে ইসরাইলি সেনাবাহিনী। একই সঙ্গে সাধারণ মানুষকে হোম ফ্রন্ট কমান্ডের নির্দেশনা মেনে চলার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
১৬০টির বেশি শত্রুপক্ষের ড্রোন ভূপাতিত করেছে ইরান : ইরানের সেনাবাহিনী ও আইআরজিসির আকাশ প্রতিরক্ষা অবস্থানগুলো পরিদর্শনের সময় ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আলিরেজা এলহামি জানিয়েছেন, ইরানি ইউনিটগুলো সফলভাবে শত্রুপক্ষের বেশ কয়েকটি উন্নত যুদ্ধবিমান, ১৬০টিরও বেশি ড্রোন ও কয়েক ডজন ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র ধ্বংস করেছে। ভূপাতিত করা ড্রোনের মধ্যে এমকিউ-৯, হার্মিস ও লুকাস মডেলের ড্রোনও রয়েছে।
এলহামি উল্লেখ করেন, এই ব্যবস্থা আক্রমণকারীদের ‘কাল্পনিক প্রপাগান্ডা’ ভেঙে দিয়েছে। তিনি জোর দিয়ে বলেন, ইরানি বাহিনী শত্রুপক্ষের যুদ্ধবিমান ও ড্রোনের জন্য ওত পেতে আছে। এলহামি আরও বলেন, সেনাবাহিনী ও আইআরজিসির আকাশ প্রতিরক্ষা নেটওয়ার্ক ঐক্যবদ্ধ এবং যেকোনো মূল্যে ইরানের আকাশ সুরক্ষায় প্রতিশ্রুতিবদ্ধ রয়েছে।
ইরানের পেট্রোকেমিক্যাল কারখানায় হামলা : ইরানের খুজেস্তান প্রদেশের ডেপুটি গভর্নর জানিয়েছেন, মার্কিন ও ইসরাইলি বাহিনী মাহশাহের বিশেষ পেট্রোকেমিক্যাল অঞ্চলে হামলা চালিয়েছে। ভ্যালিওল্লাহ হায়াতির তথ্য অনুযায়ী শনিবার সকাল ১০টা ৪৫ মিনিটে প্রাদেশিক রাজধানী আহভাজের পূর্ব ও পশ্চিমে তিনটি বিস্ফোরণ ঘটে। তবে এতে কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি। কিছুক্ষণ পর ১০টা ৪৭ মিনিটে মাহশাহের পেট্রোকেমিক্যাল কারখানায় আরও তিনটি শক্তিশালী বিস্ফোরণ ঘটে। যদিও ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ তাৎক্ষণিকভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
ওই কর্মকর্তা আরও জানান, ফজর ১, ফজর ২, রেজাল ও আমির কবির পেট্রোকেমিক্যাল কারখানা হামলার শিকার হয়েছে। হতাহতের বেশ আশঙ্কা রয়েছে বলে সতর্ক করেছেন তিনি। এ ছাড়া বেলা ১১টার দিকে খোররামশাহরের শলামচেহ সীমান্ত বাণিজ্য টার্মিনালে হামলা চালানো হয় এবং এতে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। মার্কিন-ইসরাইলি যুদ্ধবিমানগুলো এরপর আবু আলি পেট্রোকেমিক্যাল কমপ্লেক্সে আঘাত হানে। পরে তারা বন্দর-ই ইমাম খোমেনি স্থাপনায় হামলা চালিয়ে আংশিক ক্ষতি করে।
দুবাই মেরিনাতে ইরানের হামলা : সংযুক্ত আরব আমিরাতের দুবাইয়ের দুবাই মেরিনাতে হামলা চালিয়েছে ইরান। ৪ এপ্রিল সকালে সেখানে ড্রোন বা মিসাইল ছোড়ে তেহরান। এরপর সেটি প্রতিহত করার চেষ্টা করে আমিরাত। তবে প্রতিহত করা মিসাইল বা ড্রোনের ধ্বংসাবশেষ দুবাই মেরিনার একটি ভবনে গিয়ে আঘাত হানে। দুবাই মিডিয়া অফিস এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, ‘এ ঘটনায় সেখানে কোনো আগুন লাগা বা হতাহতের ঘটনা ঘটেনি।’ এর আগে আমিরাতের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছিল, তাদের রাজধানী আবুধাবির হাবসান গ্যাস স্থাপনায় ইরানের হামলায় একজন নিহত ও বেশ কয়েকজন আহত হয়েছেন। নিহত ব্যক্তি মিসরের ব্যক্তি।
হরমুজ পাড়ি দিল জাপান, ইতালি ও ওমানের তেলবাহী জাহাজ : মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধের মধ্যেই হরমুজ প্রণালি পাড়ি দিল ফ্রান্স, জাপান এবং ওমানের ৩টি ট্যাঙ্কার জাহাজ। শুক্রবার জাহাজগুলো হরমুজ পেরিয়েছে বলে এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে মার্কিন সংবাদমাধ্যম ব্লুমবার্গ। হরমুজ পাড়ি দেওয়া ফরাসি ট্যাঙ্কার জাহাজটির নাম সিএমএ ক্রিবি এবং জাপানের জাহাজটির নাম মিৎসুয়ি ওসকে লাইনস। ওমানের জাহাজটির নাম জানা যায়নি।
আরব সাগর এবং পারস্য উপসাগরকে যুক্ত করা হরমুজ প্রণালি আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাণিজ্যের জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ রুট; প্রতিদিন বিশ্বে যত তেল ও তরল গ্যাসবাহী জাহাজ চলাচল করে, সেসবের ২০ শতাংশই ব্যবহার করে এই রুট।
সৌদি আরবে মার্কিন দূতাবাসে ইরান নয়, হামলা করেছে ইসরাইল : সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদে মার্কিন দূতাবাসে হামলার ঘটনায় ইসরাইলকে দায়ী করেছে ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোর (আইআরজিসি)।
আইআরজিসির জনসংযোগ শাখা এক বিবৃতিতে বলেছে, এ হামলার সঙ্গে ইরানের সশস্ত্র বাহিনীর ‘কোনোভাবেই কোনো সম্পর্ক নেই’, বরং মধ্যপ্রাচ্যে ‘জায়নবাদী শত্রু’ ইসরাইলের যে কৌশল, তাতে এটি নিশ্চিতভাবে তারাই ঘটিয়েছে।
বিবৃতিতে আরও বলা হয়, ইরানের সশস্ত্র বাহিনী তাদের লক্ষ্যবস্তুর তালিকা আগেই নির্ধারণ করে রেখেছে। এ ছাড়া প্রতিবেশী ও মুসলিম দেশগুলোকে এ অঞ্চলে ইসরাইলের অস্থিতিশীল কর্মকাণ্ড সম্পর্কে প্রয়োজনীয় সতর্কবার্তা দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোকে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরাইলের যৌথ ষড়যন্ত্রের বিরুদ্ধে সতর্ক থাকার আহ্বান জানানো হয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের ৪৮ ঘণ্টার যুদ্ধবিরতি প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান ইরানের : ইরানের আধা-সরকারি সংবাদ সংস্থা ফার্স নিউজ গতকাল শুক্রবার এক নির্ভরযোগ্য সূত্রের বরাতে জানিয়েছে, তেহরান যুক্তরাষ্ট্রের দেওয়া ৪৮ ঘণ্টার একটি যুদ্ধবিরতির প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেছে। নাম প্রকাশ না করা সূত্রটি জানায়, গত বুধবার একটি বন্ধু দেশের মাধ্যমে এ প্রস্তাব পাঠানো হয়েছিল। দেশটির নাম প্রকাশ করা হয়নি। তবে সেই প্রস্তাব বা এর সত্যতা নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিক কোনো মন্তব্য বা নিশ্চিত করার তথ্য পাওয়া যায়নি।
ফার্স নিউজের প্রতিবেদন অনুযায়ী মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন বাহিনী যখন ক্রমাগত উত্তেজনা ও চ্যালেঞ্জের মুখে পড়ছে, তখনই এ প্রস্তাব সামনে আসে। বিশেষ করে কুয়েতের বুবিয়ান দ্বীপে একটি মার্কিন সামরিক গুদামে হামলার পর যুদ্ধ বন্ধে যুক্তরাষ্ট্রের কূটনৈতিক তৎপরতা আরও জোরালো হয়েছে। ইরান এই প্রস্তাবের কোনো লিখিত জবাব দেয়নি, বরং হামলার তীব্রতা বাড়িয়ে মাঠেই এর পাল্টা জবাব দিয়েছে।
আরেকটি যুদ্ধবিমান ভূপাতিত করেছে ইরান : ইরানের আধা-সরকারি সংবাদ সংস্থা তাসনিম নিউজের একজন প্রতিনিধি যুদ্ধবিমানের বিধ্বস্ত কিছু অংশের ছবি পেয়েছেন। এ ছবিগুলো প্রমাণ করছে যে আরও একটি মার্কিন-ইসরাইলি যুদ্ধবিমান ভূপাতিত হয়েছে।
তাসনিম নিউজের সেনা বিষয়ক প্রতিবেদক মনে করছেন, ওই যুদ্ধবিমানের বিধ্বস্ত অংশের ছবিতে মাত্র একটি ইঞ্জিনের ধোঁয়া নির্গমন পথ (এক্সজস্ট) দেখা গেছে। এর ওপর ভিত্তি করে ধারণা করা হচ্ছে, যুদ্ধবিমানটি একটি ‘এফ-১৬’ অথবা ‘এফ-৩৫’ হতে পারে। তবে এটি ‘এফ-১৬’ হওয়ার সম্ভাবনাই বেশি।
ক্রু উদ্ধার অভিযানে হামলার মুখে মার্কিন যুদ্ধবিমান ও হেলিকপ্টার : ইরানে ভূপাতিত করা ‘এফ-১৫ই’ যুদ্ধবিমানের দুই পাইলটের একজনকে গতকাল শুক্রবার উদ্ধার করতে গিয়ে আরেকটি মার্কিন যুদ্ধবিমান ও একটি হেলিকপ্টার হামলার মুখে পড়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের দুজন কর্মকর্তার বরাতে সিবিএস নিউজের প্রতিবেদনে এ খবর জানানো হয়।
প্রতিবেদনে বলা হয়, উদ্ধার অভিযানকালে একটি ‘এ-১০ ওয়ারথগ’ যুদ্ধবিমান আক্রান্ত হলে পাইলট সাগরে ঝাঁপ দেন। পরে তাকে উদ্ধার করা হয়। এ ছাড়া অভিযানে থাকা দুটি হেলিকপ্টারের একটিতে ছোট অস্ত্র থেকে গুলি চালানো হয়েছে। এতে হেলিকপ্টারটিতে থাকা কয়েকজন ক্রু আহত হয়। তবে সেটি নিরাপদে অবতরণ করতে সক্ষম হয়েছে। ইতিমধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের এ-১০ মডেলের একটি যুদ্ধবিমান ভূপাতিত করার দাবি করেছে ইরান। দেশটির রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন ইরানি সেনাবাহিনীর বরাতে এ খবর জানিয়েছে।
সময়ের আলো/আআ