প্রবালদ্বীপ সেন্টমার্টিনের আকাশে একটি উড়ন্ত আলোকিত বস্তু দেখা যাওয়াকে ঘিরে স্থানীয়দের মধ্যে নানা জল্পনা-কল্পনা সৃষ্টি হয়েছে। কেউ বলছেন এটি মিয়ানমারের ড্রোন, আবার কেউ মনে করছেন এটি ছিল সাধারণ কোনো ড্রোন কিংবা আকাশের উজ্জ্বল তারা শুকতারা।
স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, গত বৃহস্পতিবার (২ এপ্রিল) সন্ধ্যার পর জেটিঘাট সংলগ্ন আকাশে সবুজাভ আলোযুক্ত একটি বস্তু ভেসে থাকতে দেখা যায়। ঘটনাটি দ্রুত ছড়িয়ে পড়লে শুরু হয় আলোচনা ও মতবিরোধ।
সেন্টমার্টিনে আকাশে ড্রোন দেখা নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন দ্বীপের বাসিন্দা অ্যাডভোকেট কেফায়েত উল্লাহ।
নিজের ফেসবুকে দেওয়া এক পোস্টে তিনি দাবি করেন, সেন্টমার্টিনের আকাশে দেখা ড্রোনটি মিয়ানমারের নয় বরং এটি স্থানীয় বাসিন্দা বা পর্যটকদের হতে পারে। অনেক সময় স্থানীয়রা কিংবা পর্যটকরা বিভিন্ন ধরনের কনটেন্ট তৈরির জন্য ড্রোন ব্যবহার করে থাকেন, যা নতুন কোনো বিষয় নয়।
পোস্টে তিনি আরও জানান, বিষয়টি নিয়ে প্রশাসনের একাধিক কর্মকর্তার সঙ্গে কথা বললেও তারা এ বিষয়ে অবগত নয়।
দ্বীপের বাসিন্দা তৈয়ব উল্লাহ জানান, বাংলাদেশ মিয়ানমার জলসীমায় নজরদারি জোরদার করতে বাংলাদেশ নৌবাহিনীর একটি জাহাজ দ্বীপ এলাকায় অবস্থান করে। সীমান্ত নিরাপত্তা ও চোরাচালান প্রতিরোধের অংশ হিসেবে নৌবাহিনী ড্রোন ব্যবহার করে থাকে।
তিনি জানান, সেন্টমার্টিন থেকে মিয়ানমার অনেক দূর, আকাশে দেখা ড্রোনগুলো মিয়ানমারের নয় বরং প্রশাসনের নজরদারি কার্যক্রমের অংশ হওয়ার সম্ভাবনাই বেশি। অতীতেও এ ধরনের কার্যক্রম একাধিকবার দেখা গেছে।
এছাড়া তিনি আরও জানান, সাধারণত জেটিঘাট এলাকায় নৌবাহিনীর জাহাজ অবস্থান করলে তবেই এ ধরনের ড্রোন দেখা যায় এবং অন্য সময়ে সেগুলো চোখে পড়ে না।
সেন্টমার্টিন ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান ফয়েজুল ইসলাম জানান, বৃহস্পতিবার তিনি টেকনাফে অবস্থানকালে একাধিক সাংবাদিক সেন্টমার্টিনের আকাশে মিয়ানমারের ড্রোন উড়ছে বলে ফোনে জানতে চান। বিষয়টি শোনার পর তিনি দ্বীপের স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বললে তারাও এটিকে মিয়ানমারের ড্রোন বলে ধারণা দেন। তবে এ বিষয়ে তিনি এখনো নিশ্চিত নন।
প্রশাসনের একাধিক সূত্রে জানা গেছে, আকাশে শুকতারার মতো একটি বস্তু দেখা যায়, যা কিছুক্ষণ পর অদৃশ্য হয়ে যায়। মিয়ানমারের কোনো ড্রোন দেখা গেছে এমন বিষয়ে নির্ভরযোগ্য কোনো তথ্য মেলেনি। বিষয়টি নিয়ে তদন্ত চালানো হলেও সুনির্দিষ্ট তথ্য পাওয়া যায়নি। এদিকে সীমান্তে প্রশাসন সতর্ক অবস্থানে রয়েছে।
সময়ের আলো/জোই/কেএইচও