মার্কিন গোয়েন্দা তথ্য অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত ইরানের ভূগর্ভস্থ মিসাইল ঘাঁটি ও সাইলো দ্রুত মেরামত করা হচ্ছে। হামলার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই ইরানি কর্মীরা মাটি খুঁড়ে চাপা পড়া লঞ্চার উদ্ধার করে সেগুলো আবার ব্যবহারযোগ্য করে তুলছেন।
প্রতিবেদন বলছে, ইরানের কাছে এখনও বিপুল পরিমাণ মিসাইল ও মোবাইল লঞ্চার রয়েছে। যদিও হোয়াইট হাউস ও পেন্টাগন দাবি করেছে, কয়েক সপ্তাহের হামলায় ইরানের হাজার হাজার লক্ষ্যবস্তু ধ্বংস করে বড় সাফল্য অর্জন করা হয়েছে, মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থাগুলো এই দাবির সঙ্গে পুরোপুরি একমত নয়।
তাদের মতে, ইরানের মিসাইল শক্তি সম্পূর্ণভাবে ধ্বংস করা সম্ভব হয়নি এবং দেশটি এখনও ইসরায়েলসহ মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন স্থানে আঘাত হানার সক্ষমতা রাখে।
মার্কিন কর্মকর্তারা জানান, ইরান তাদের অস্ত্রশক্তি রক্ষায় কৌশল নিয়েছে। অনেক লঞ্চার পাহাড়ের গুহা বা ভূগর্ভস্থ বাঙ্কারে লুকিয়ে রাখা হয়েছে, যাতে প্রয়োজন হলে সেগুলো আবার ব্যবহার করা যায়। এর মাধ্যমে তারা দীর্ঘমেয়াদি সংঘাতে টিকে থাকা এবং যুদ্ধ শেষে নিজেদের সামরিক প্রভাব বজায় রাখার চেষ্টা করছে।
ইসরায়েলের ওপর হামলাও পুরোপুরি বন্ধ করেনি ইরান। বিভিন্ন তথ্য অনুযায়ী, প্রতিদিন গড়ে ১৫ থেকে ৩০টি ব্যালিস্টিক মিসাইল এবং ৫০ থেকে ১০০টি ড্রোন নিক্ষেপ করা হচ্ছে, যদিও কখনও এই সংখ্যা কম-বেশি হয়।
তবে ইরানের প্রকৃত সামরিক সক্ষমতা নিয়ে এখনও অনিশ্চয়তা রয়েছে। কারণ তারা নকল বা ছদ্মবেশী লঞ্চার ব্যবহার করছে, যা শত্রুপক্ষকে বিভ্রান্ত করছে। ফলে যুক্তরাষ্ট্র যে লঞ্চার ধ্বংসের দাবি করছে, তার কতগুলো আসল ছিল তা পরিষ্কার নয়।
এছাড়া, যুদ্ধের আগে ইরানের মোট লঞ্চারের সংখ্যা সম্পর্কেও নির্ভুল তথ্য নেই। তাই হামলায় কতটা ক্ষতি হয়েছে বা ভূগর্ভস্থ স্থাপনাগুলোতে কত অস্ত্র অবশিষ্ট আছে, তা নির্ধারণ করা কঠিন হয়ে পড়েছে।
ক্ষয়ক্ষতি সত্ত্বেও ইরান দ্রুত ঘাঁটি মেরামত করে তাদের মিসাইল সক্ষমতা অনেকটাই বজায় রাখছে।
/ইউএমএইচ