সেচের অভাবে জমি ফেটে চৌচির

লতা মন্ডল, সিরাজদিখান (মুন্সীগঞ্জ)

সারাদেশ

মুন্সীগঞ্জের সিরাজদিখান উপজেলায় চলতি বোরো মৌসুমে জ্বালানি তেলের সংকটের কারণে সেচ কার্যক্রম চরমভাবে ব্যাহত হচ্ছে। এতে বোরো ধানের চাষ নিয়ে

2026-04-06T04:44:13+00:00
2026-04-06T04:44:13+00:00
 
  রবিবার, ১৯ জুলাই ২০২৬,
৪ শ্রাবণ ১৪৩৩
রবিবার, ১৯ জুলাই ২০২৬
সারাদেশ
সেচের অভাবে জমি ফেটে চৌচির
লতা মন্ডল, সিরাজদিখান (মুন্সীগঞ্জ)
প্রকাশ: সোমবার, ৬ এপ্রিল, ২০২৬, ৪:৪৪ এএম 
সংগৃহীত ছবি
মুন্সীগঞ্জের সিরাজদিখান উপজেলায় চলতি বোরো মৌসুমে জ্বালানি তেলের সংকটের কারণে সেচ কার্যক্রম চরমভাবে ব্যাহত হচ্ছে। এতে বোরো ধানের চাষ নিয়ে চরম দুশ্চিন্তায় পড়েছেন স্থানীয় কৃষকরা।

সরেজমিন উপজেলার বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, ডিজেলচালিত সেচ পাম্প চালাতে পর্যাপ্ত জ্বালানি তেল পাওয়া যাচ্ছে না। ফলে অনেক জমিতে সময়মতো পানি দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না যা ধানের স্বাভাবিক বৃদ্ধিতে সরাসরিভাবে নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে। এ বিষয়ে জানার জন্য যোগাযোগ করা হলে সিরাজদিখান উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আবু সাঈদ শুভ্র বলেন, এবার সিরাজদিখান উপজেলায় ৫ হাজার ২৫১ হেক্টর জমিতে বোরো ধান চাষ হয়েছে। জ্বালানি তেলের সংকটের কারণে সেচ কার্যক্রমে কিছুটা সমস্যা হচ্ছে। বিষয়টি আমরা অবগত আছি। 

কৃষকদের আমরা পরামর্শ দিচ্ছি যাতে তারা সমন্বিতভাবে বৈদ্যুতিক ও ডিজেলের সেচ পাম্প ব্যবহার করেন এবং অপচয় কমান। সিরাজদিখান উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আবু সাঈদ শুভ্র আরও বলেন, কৃষি বিভাগ থেকে মাঠ পর্যায়ে সার্বক্ষণিক খোঁজখবর নেওয়া হচ্ছে। পাশাপাশি কম পানিতে চাষযোগ্য পদ্ধতি এবং বিকল্প প্রযুক্তি ব্যবহারে কৃষকদের উৎসাহিত করা হচ্ছে।

কথা হয় লতব্দী ইউনিয়নের বাসিন্দা কৃষক মাহবুবুর হোসেনের সঙ্গে। এ সময় তিনি বলেন, সেচের জন্য পুরোপুরি ডিজেলের ওপর নির্ভর করতে হয়। কিন্তু এখন ঠিকমতো তেল পাওয়া যাচ্ছে না। লতব্দী ইউনিয়নের বাসিন্দা কৃষক মাহবুবুর হোসেন আরও বলেন, অনেক সময় বেশি দাম দিয়ে কিনতে হচ্ছে তেল। এতে চাষাবাদের খরচ অনেক বেড়ে গেছে।

রশুনিয়া ইউনিয়নের বাসিন্দা কৃষক সঞ্জয় দাস বলেন, আমি অন্যের জমিতে কাজ করি। জমিতে পানি দিতে দেরি হলে ধানের গাছ ক্ষতিগ্রস্ত হয়। তেলের সংকটের কারণে আমরা সময়মতো সেচ দিতে পারছি না। এতে ফলন কমে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

স্থানীয় কৃষকদের অভিযোগ, অনেক এলাকায় নির্ধারিত দামের চেয়ে বেশি দামে ডিজেল কিনতে হচ্ছে। আবার কোথাও কোথাও সরবরাহ কম থাকায় ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করেও তেল পাওয়া যাচ্ছে না। 

কৃষি বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, উপজেলায় এ বছর উল্লেখযোগ্য পরিমাণ জমিতে বোরো ধানের আবাদ হয়েছে। তবে জ্বালানি তেল সংকট দীর্ঘস্থায়ী হলে উৎপাদনে নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে বলে আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা। বর্তমান পরিস্থিতিতে কৃষকরা দ্রুত জ্বালানি তেলের সরবরাহ স্বাভাবিক করার দাবি জানিয়েছেন। তারা মনে করছেন, সঠিক সময়ে পর্যাপ্ত তেল সরবরাহ নিশ্চিত করা গেলে সেচ সংকট অনেকাংশেই দূর হবে এবং বোরো ধানের উৎপাদন স্বাভাবিক রাখা সম্ভব হবে।

সময়ের আলো/আআ


Loading...
Loading...
সারাদেশ- এর আরো খবর
Loading...
Loading...
© 2026 Daily Shomoyer Alo
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সৈয়দ শাহনেওয়াজ করিম, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড এর পক্ষে প্রকাশক মো. ফয়সাল রহমতউল্লাহ ফেরদৌস। নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।
ফোন : ৪১০৬২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : ৪১০৬২৩৭৫
সময়ের আলোর খবর পেতে ফলো করুন: