রোমাঞ্চ, উত্তেজনা আর নাটকীয়তায় ঠাসা এক রাত উপভোগ করে মাদ্রিদের মেত্রোপলিতানো স্টেডিয়াম। আক্রমণ-পাল্টাআক্রমণ আর লাল কার্ডের রোমাঞ্চ ছাপিয়ে শেষ হাসি বার্সেলোনার। একজন কম নিয়ে খেলা অ্যাথলেটিকো মাদ্রিদ যখন ড্রয়ের স্বপ্ন বুনছিল। তখনই ভাগ্যের ছোঁয়ায় কপাল পোড়ে ডিয়েগো সিমিওনের দলের। শেষ মুহূর্তে গোল হজম করে অ্যাথলেটিকো। আর ২-১ গোলের নাটকীয় জয় পায় বার্সেলোনা। এই জয়ে লা লিগার শিরোপা দৌড়ে চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী রিয়াল মাদ্রিদের চেয়ে ৭ পয়েন্টে এগিয়ে গিয়ে নিজেদের শীর্ষস্থান আরও মজবুত করল হ্যান্সি ফ্লিকের শিষ্যরা।
জুলিয়ানো সিমিওনের গোলে শুরুতে পিছিয়ে পড়লেও প্রথমার্ধেই মার্কাস র্যাশফোর্ডের গোলে সমতায় ফেরে কাতালানরা। বিরতির পর বদলি হিসেবে নেমে বার্সাকে পূর্ণ পয়েন্ট এনে দেন রবের্ত লেভানদোভস্কি। আগের ম্যাচে মায়োর্কার কাছে রিয়াল মাদ্রিদ হেরে যাওয়ায় বার্সার সামনে সুযোগ ছিল ব্যবধান বাড়ানোর, আর সেই সুযোগটা দারুণভাবে লুফে নেয় কাতালানরা। ৩০ ম্যাচে ৭৬ পয়েন্ট নিয়ে সবার ওপরে বার্সেলোনা, সমান ম্যাচে ৬৯ পয়েন্ট নিয়ে দ্বিতীয় স্থানে রিয়াল।
ম্যাচের শুরু থেকেই বল দখলের লড়াইয়ে একচ্ছত্র আধিপত্য দেখায় বার্সেলোনা। প্রায় ৭০ শতাংশ সময় বল পায়ে রেখে একের পর এক আক্রমণ শানায় ইয়ামাল-র্যাশফোর্ডরা। ম্যাচের দ্বিতীয় মিনিটেই জোয়াও কান্সেলোর পাসে লামিনে ইয়ামাল সুযোগ পেলেও তা নস্যাৎ করে দেয় অ্যাথলেটিকো রক্ষণ। ৩৯ মিনিটে ধারার বিপরীতে গোল করে মেত্রোপলিতানোকে উল্লাসে মাতান অ্যাথলেটিকোর কোচ দিয়েগো সিমিওনের ছেলে জুলিয়ানো সিমিওনে। ক্লেঁমো লংলের লম্বা পাস থেকে অফসাইডের ফাঁদ এড়িয়ে বল জালে জড়ান তিনি।
তবে স্বাগতিকদের সেই আনন্দ বেশিক্ষণ স্থায়ী হয়নি। এর মাত্র দুই মিনিট পরেই ৪২ মিনিটে দানি ওলমোর সঙ্গে চমৎকার ওয়ান-টু খেলে নিচু শটে সমতা ফেরান ইংলিশ ফরোয়ার্ড মার্কাস র্যাশফোর্ড।
প্রথমার্ধের শেষ দিকে মাঠে ছড়ায় চরম উত্তেজনা। ঝগড়ায় জড়িয়ে হলুদ কার্ড দেখেন দুই দলের তিনজন। বিরতির ঠিক আগে যোগ করা সময়ের সপ্তম মিনিটে ইয়ামালকে ফাউল করায় অ্যাথলেটিকোর নিকো গন্সালেসকে দ্বিতীয় হলুদ কার্ড দেখিয়ে লাল কার্ড দেখান। এরপর রেফারি আবার ভিএআর দেখে দ্বিতীয় হলুদ কার্ড বাতিল করে নিকোকে সরাসরি লাল কার্ড দেখান।
দশজনের দলে পরিণত হওয়া অ্যাথলেটিকোর ওপর বিরতির পর আরও চাপ বাড়ায় বার্সা। ৫০ মিনিটে রেফারি শুরুতে বার্সার জেরার্ড মার্টিনকে লাল কার্ড দেখান। তবে ভিএআর দেখে সিদ্ধান্ত পাল্টে হলুদ কার্ড দিলে রক্ষা পায় সফরকারীরা। অবশেষে ম্যাচের ৮৭ মিনিটে আসে সেই নাটকীয় মুহূর্ত। জোয়াও কান্সেলোর একটি কোনাকুনি শট গোলরক্ষক মুসো ফিরিয়ে দিলেও বল গিয়ে লাগে কাছেই দাঁড়ানো লেভানদোভস্কির বুকের অনিচ্ছাকৃত ছোঁয়াতেই বল জালে জড়িয়ে গেলে জয় নিশ্চিত হয় বার্সেলোনার।
এর আগে লা লিগার আরেক ম্যাচে শিরোপা লড়াইয়ে টিকে থাকার মিশনে বড়সড়ো এক ধাক্কা খেয়েছে রিয়াল মাদ্রিদ। রিয়াল মায়োর্কার মাঠে গিয়ে ২-১ ব্যবধানে হেরে মাঠ ছেড়েছে আলভারো আরবেলোয়ার দল। এই হারের ফলে শীর্ষে থাকা বার্সেলোনার সঙ্গে তাদের পয়েন্টের ব্যবধান যেমন বাড়ল, তেমনি শিরোপা ধরে রাখার পথটাও অনেকটা কঠিন হয়ে পড়ল লস ব্লাঙ্কোসদের জন্য।
প্রথমার্ধের ৪২ মিনিটে খেলার ধারার বিপরীতে প্রথম গোলটি পায় মায়োর্কা। পাবলো মাফেওর ক্রস থেকে লক্ষ্যভেদ করে দলকে লিড এনে দেন মানু মোরলানেস। ম্যাচের নাটকীয়তা জমে ওঠে শেষ দিকে। দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর ৮৮ মিনিটে চোট কাটিয়ে ফেরা এদের মিলিতাও গোল করে রিয়াল শিবিরে স্বস্তি ফেরান। তবে সেই সমতার আনন্দ স্থায়ী হয়েছে মাত্র তিন মিনিট। নির্ধারিত সময়ের একদম শেষ মুহূর্তে যোগ করা সময়ের প্রথম মিনিটে ভেদাত মুরিকির দুর্দান্ত গোলে জয় নিশ্চিত করে মায়োর্কা।
সময়ের আলো/আআ