ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে চলমান রক্তক্ষয়ী সংঘাত নিরসনে শেষ মুহূর্তের প্রচেষ্টা হিসেবে ৪৫ দিনের একটি যুদ্ধবিরতি প্রস্তাব পাঠিয়েছেন মধ্যস্থতাকারী দেশগুলো। এই প্রস্তাবের আওতায় সাময়িকভাবে যুদ্ধ বন্ধ রাখা এবং অবরুদ্ধ হরমুজ প্রণালি পুনরায় খুলে দেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে।
তবে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সংঘাত আরও ভয়াবহভাবে বাড়ানোর হুমকি দেওয়ায় মধ্যপ্রাচ্যে চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে। সংশ্লিষ্ট একটি সূত্রের বরাত দিয়ে সোমবার (৬ এপ্রিল) এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে সংবাদমাধ্যম ‘অ্যাক্সিওস’। খবর সিএনএনের
সংবাদমাধ্যমটির প্রতিবেদনে বলা হয়, পাকিস্তান, মিশর এবং তুরস্ক— এই তিন দেশ বর্তমানে উভয় পক্ষের মধ্যে মধ্যস্থতাকারী হিসেবে কাজ করছে। গত রোববার রাতে এই খসড়া প্রস্তাবটি ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি এবং মার্কিন বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফের কাছে পাঠানো হয়েছে। প্রস্তাবের মূল লক্ষ্য হলো ৪৫ দিনের একটি ‘উইন্ডো’ তৈরি করা, যাতে স্থায়ীভাবে যুদ্ধ বন্ধের বিষয়ে আলোচনার পথ সুগম হয়।
এদিকে হোয়াইট হাউস সূত্র জানিয়েছে, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প এখনও এই প্রস্তাবে সই করেননি। ট্রাম্পের পক্ষ থেকে স্পষ্ট হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছে যে, হরমুজ প্রণালি যদি অবরুদ্ধ থাকে তবে ইরানের বিদ্যুৎকেন্দ্রসহ গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোতে ভয়াবহ বিমান হামলা চালানো হবে। এই হামলার জন্য আগামী মঙ্গলবার রাত ৮টা পর্যন্ত সময় বেঁধে দিয়েছেন তিনি। সোমবার ট্রাম্প যুদ্ধ নিয়ে জাতির উদ্দেশে ভাষণ দেবেন বলে কথা রয়েছে।
এদিকে মধ্যস্থতাকারীদের এই প্রস্তাবের বিষয়ে ইরান এখনও ইতিবাচক কোনো সাড়া দেয়নি। তেহরান জানিয়েছে, তারা কোনো সাময়িক যুদ্ধবিরতি চায় না। সাময়িক বিরতি দেওয়া মানে শত্রুপক্ষকে নতুন করে শক্তি সঞ্চয় করার সুযোগ করে দেওয়া। এর আগে গত সপ্তাহে দেশ দুটির মধ্যে পরোক্ষ আলোচনা স্থবির হয়ে পড়ে এবং মুখোমুখি বৈঠকের সম্ভাবনাও ভেস্তে যায়।
সময়ের আলো/জোই