চট্টগ্রামের লোহাগাড়া উপজেলার চরম্বা ইউনিয়নে টিলা ভেঙে বালু বিক্রি করছেন এক ইউপি সদস্য। উপজেলার চরম্বা ইউনিয়নের ২ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য শওকত ওসমানের বিরুদ্ধে এমন অভিযোগ করেছেন স্থানীয়রা। দীর্ঘদিন ধরে ইউনিয়নের মাইজবিলা আবাসন প্রকল্পসংলগ্ন জামছড়ি খালের টিলায় কৃত্রিম ভাঙন সৃষ্টি করে এসব বালু অবৈধভাবে উত্তোলন করে বিক্রি করছেন বলে স্থানীয়রা জানান।
এর আগে ২০২৪ সালের ১৪ জুলাই অবৈধভাবে বালু উত্তোলন করার অপরাধে ওই ইউপি সদস্যের বিরুদ্ধে তৎকালীন পদুয়া ইউনিয়ন ভূমি সহকারী কর্মকর্তা এস এম শরফুদ্দিন খান সাদী বাদী হয়ে মামলা করেন।
রোববার বিকালে সরেজমিনর দেখা যায়, চরম্বার মাইজবিলা জব্বারের ভাঙ্গার আশ্রয়ণ প্রকল্প এলাকার অদূরে জামছড়ি খাল। খাল থেকে মেশিন ও পাইপের সাহায্যে পানি তোলা হচ্ছে। ৮-১০ জন শ্রমিক খালের পানি দিয়ে খালের সঙ্গে লাগোয়া টিলায় কৃত্রিমভাবে ভাঙন সৃষ্টি করছে। এভাবে জামছড়ি খালে ৫-৭টি স্থানে দিনরাত টিলা ভেঙে পরিণত করা হচ্ছে বালুতে। ফলে জামছড়ি খালের উভয় পাশে বন বিভাগের টিলা ধসে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে। এসব বালু পরিবহন করার জন্য টিলা কেটে করা হয়েছে রাস্তা। এতে নষ্ট হচ্ছে জীববৈচিত্র্য, হুমকির মুখে পড়েছে পরিবেশ। নীরব ভূমিকা পালন করছে স্থানীয় প্রশাসন।
বালু উত্তোলন কাজে নিয়োজিত শ্রমিক জসিম উদ্দিন বলেন, স্থানীয় ইউপি সদস্য শওকত ওসমান ও পুটিবিলা এমচর হাট এলাকার জাহাঙ্গীর, আয়াতুল্লাহ এসব বালু উত্তোলন করছেন। এখানে আরও ৫টি স্পট থেকে বালু উত্তোলন করা হচ্ছে। প্রতি গাড়ি বালু ২ হাজার টাকা করে বিক্রি করেন।
এ বিষয়ে জানতে একাধিকবার মুঠোফোনে কল দিলেও রিসিভ না করায় চরম্বা ইউপি সদস্য শওকত ওসমানের বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।
চরম্বা ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান সৈয়দ হোসেন বলেন, স্থানীয় এক ইউপি সদস্য দীর্ঘদিন ধরে অবৈধভাবে এসব বালু তোলার কাজে জড়িত। এভাবে বালু উত্তোলন করার ফলে পরিবেশ মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। এ ব্যাপারে তিনি প্রশাসনের দৃষ্টি আর্কষণ করেন।
এ বিষয়ে জানতে লোহাগাড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. সাইফুল ইসলামের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, জামছড়ি খালে বালু তোলার কোনো ধরনের ইজারা নেই। অবৈধভাবে বালু উত্তোলনকারীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।