আশ্রয়ণ প্রকল্পের ঘরে ঝুলছে তালা

মেহেদী হাসান লিটন, শ্রীপুর (গাজীপুর)

সারাদেশ

যে ঘরগুলোতে থাকার কথা ছিল মানুষের হাসি-কান্না আর নতুন জীবনের গল্প, সেগুলোর অনেকই এখন ফাঁকা পড়ে আছে; দরজায় ঝুলছে তালা।

2026-04-07T04:47:24+00:00
2026-04-07T04:47:24+00:00
 
  রবিবার, ১৯ জুলাই ২০২৬,
৪ শ্রাবণ ১৪৩৩
রবিবার, ১৯ জুলাই ২০২৬
সারাদেশ
আশ্রয়ণ প্রকল্পের ঘরে ঝুলছে তালা
মেহেদী হাসান লিটন, শ্রীপুর (গাজীপুর)
প্রকাশ: মঙ্গলবার, ৭ এপ্রিল, ২০২৬, ৪:৪৭ এএম 
প্রতীকী ছবি
যে ঘরগুলোতে থাকার কথা ছিল মানুষের হাসি-কান্না আর নতুন জীবনের গল্প, সেগুলোর অনেকই এখন ফাঁকা পড়ে আছে; দরজায় ঝুলছে তালা। সরকারি আশ্রয়ণ প্রকল্পের এসব ঘরের বারান্দায় কোথাও গরু-ছাগল লালন-পালন করা হচ্ছে, কোথাও রাখা হচ্ছে লাকড়ির স্তূপ। অনেক ঘরের সামনে জমেছে আবর্জনা। অব্যবহৃত থাকায় ধীরে ধীরে নষ্ট হয়ে যাচ্ছে ঘরগুলো।

উপকারভোগীদের অভিযোগ, সরকারের পক্ষ থেকে জমি, ঘর ও নানা সুবিধা দেওয়া হলেও প্রকৃত ভূমিহীনদের সঠিকভাবে বাছাই না করায় এ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে।

শ্রীপুর উপজেলা প্রশাসনের তথ্যানুযায়ী এ উপজেলায় তিন দফায় দুই শতক জমিসহ পাকা ঘর পেয়েছে ২৮৫টি পরিবার। আশ্রয়ণ প্রকল্পগুলো গাজীপুর ইউনিয়নের নয়াপাড়া (১৪২টি), তেলিহাটি ইউনিয়নের উদয়খালি (২১টি) ও সাইটালিয়া (২৩টি), রাজাবাড়ী ইউনিয়নের মালিপাড়া (১৭টি) ও প্রহলাদপুর-নিমুরিয়া (১৫টি), বরমী ইউনিয়নের সাতখামাইর (১০টি) এবং পৌর এলাকার চন্নাপাড়ায় (৫৭টি) অবস্থিত। অনেকেই এসব ঘর পেয়ে নতুন জীবন শুরু করেছেন। 

সন্তানদের স্কুলে পাঠানো, নারীদের জন্য নিরাপদ আশ্রয় নিশ্চিত করা সব মিলিয়ে আশ্রয়ণ প্রকল্প তাদের জীবনে ইতিবাচক পরিবর্তন এনেছে। তবে খালি পড়ে থাকা ঘরগুলো এই সাফল্যকে প্রশ্নবিদ্ধ করছে। বেশিরভাগ প্রকল্পেই প্রায় অর্ধেক ঘর তালাবদ্ধ অবস্থায় রয়েছে।

সরেজমিন নয়াপাড়া আশ্রয়ণ প্রকল্প এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, তৃতীয় পর্যায়ের দ্বিতীয় ধাপে আধুনিক সুযোগ-সুবিধাসম্পন্ন ১৪২টি পরিবারকে একটি করে পাকা ঘর বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। অনেক পরিবার সেখানে বসবাস করলেও বরাদ্দ পাওয়ার পর অর্ধেকের বেশি উপকারভোগী ঘর ছেড়ে অন্যত্র চলে গেছেন। ফলে অবহেলায় নষ্ট হচ্ছে ঘরগুলো।

একই চিত্র দেখা গেছে সাইটালিয়া ও উদয়খালী আশ্রয়ণ প্রকল্পেও। সেখানে ২৩ জন সুবিধাভোগীর মধ্যে অন্তত ৯ জন ঘরে তালা দিয়ে অন্যত্র বসবাস করছেন। উদ্বোধনের পর থেকেই তারা আর ফিরে আসেননি। ফলে ঘরগুলোতে ময়লা-আবর্জনা জমে নষ্ট হয়ে যাচ্ছে।

নয়াপাড়া আশ্রয়ণ প্রকল্পের উপকারভোগী মো. সবুজ মিয়া বলেন, ঘর পেয়ে শুরুতে খুব ভালো লাগছিল। উদ্বোধনের দিন সবাই উপস্থিত ছিল, কিন্তু পরে দেখা গেল ধীরে ধীরে অনেকে চলে গেছেন। এখন অধিকাংশ ঘরেই তালা ঝুলছে। তিনি আক্ষেপ করে বলেন, সঠিক উপকারভোগী বাছাই করা হলে এমন পরিস্থিতি তৈরি হতো না।

চন্নাপাড়া প্রকল্পের বাসিন্দা মো. মোস্তফা কামাল ঢুলী বলেন, অনেকে ঘর ছেড়ে চলে গেছেন, আবার কেউ কেউ সেখানে না থেকে ঘর ভাড়া দিয়েছেন। এতে প্রকল্পটি এক ধরনের ব্যবসায় পরিণত হচ্ছে। প্রকৃত ভূমিহীনদের বাছাই করা হলে সরকারের উদ্দেশ্য সফল হতো। 

স্থানীয়দের অভিযোগ, সঠিক যাচাই-বাছাই ছাড়াই উপকারভোগী নির্ধারণ করায় এ সমস্যা তৈরি হয়েছে। তাদের দাবি, বিগত সময়ে দলীয় প্রভাব খাটিয়ে বহিরাগতদের মধ্যে ঘর ও জমি বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে।

 অনেকের আগেই নিজস্ব বাড়ি থাকায় তারা এসব ঘরে বসবাস করছেন না। দ্রুত তদন্ত করে খালি ঘরগুলো প্রকৃত ভূমিহীন ও গৃহহীনদের মধ্যে পুনর্বণ্টনের দাবি জানিয়েছেন তারা।

এ বিষয়ে শ্রীপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ব্যারিস্টার সজীব আহমেদ বলেন, বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।


  বিষয়:   শ্রীপুর  গাজীপুর  আশ্রয়ণ  প্রকল্প 


Loading...
Loading...
সারাদেশ- এর আরো খবর
Loading...
Loading...
© 2026 Daily Shomoyer Alo
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সৈয়দ শাহনেওয়াজ করিম, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড এর পক্ষে প্রকাশক মো. ফয়সাল রহমতউল্লাহ ফেরদৌস। নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।
ফোন : ৪১০৬২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : ৪১০৬২৩৭৫
সময়ের আলোর খবর পেতে ফলো করুন: