হবিগঞ্জের আজমিরীগঞ্জ উপজেলায় প্রাণিসম্পদ ও ডেইরি উন্নয়ন প্রকল্প (এলডিডিপি) বাস্তবায়নে গুরুতর অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে। উপকারভোগীদের নামে সরকারি বরাদ্দের টাকা উত্তোলন করা হলেও তার বড় একটি অংশ তাদের হাতে পৌঁছায়নি বলে অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগী ও স্থানীয়রা। বিষয়টি নিয়ে এলাকায় তীব্র চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।
অনুসন্ধানে জানা যায়, প্রাণিসম্পদ অধিদফতরের আওতায় শিবপাশা ইউনিয়নে ২৯ সদস্যের একটি প্রডিউসর গ্রুপ (পিজি) গঠন করা হয়। প্রকল্পের আওতায় প্রতিটি সদস্যের জন্য ২০ হাজার টাকা করে মোট ৫ লাখ ৮০ হাজার টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়। এই অর্থ দিয়ে ‘ক্লাইমেট স্মার্ট শেড’ নির্মাণের কথা থাকলেও বাস্তবে কোনো শেড নির্মাণের প্রমাণ মেলেনি।
প্রকল্প-সংক্রান্ত নথি পর্যালোচনায় দেখা যায়, ২০২৩ সালের ৩০ মে বরাদ্দ ছাড় করা হয় এবং ২৭ জুনের মধ্যে ব্যয়ের হিসাব জমা দেওয়ার নির্দেশনা দেওয়া হয়। একই সঙ্গে ব্যয়ের তথ্য পরবর্তীতে নিরীক্ষার জন্য এফএপিএডির আওতায় আনার কথাও উল্লেখ ছিল। তবে মাঠপর্যায়ে এর বাস্তবায়ন নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন উঠেছে।
ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, তাদের ব্যাংক হিসাব থেকে ২০ হাজার টাকা করে উত্তোলন করা হলেও হাতে দেওয়া হয়েছে মাত্র ১০ হাজার টাকা। বাকি ১০ হাজার টাকা করে মোট প্রায় ২ লাখ ৯০ হাজার টাকা আত্মসাৎ করা হয়েছে বলে দাবি তাদের।
সরেজমিনে শিবপাশা ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা যায়, কোথাও ‘ক্লাইমেট স্মার্ট শেড’-এর কোনো অস্তিত্ব নেই। প্রকল্পের মেয়াদ প্রায় শেষ হলেও দৃশ্যমান কোনো অবকাঠামো নির্মাণ হয়নি। স্থানীয়দের ভাষায়, কাগজে কাজ শেষ দেখানো হয়েছে, কিন্তু বাস্তবে কিছুই হয়নি।
প্রকল্প বাস্তবায়নের জন্য ৫ সদস্যের একটি কমিটি গঠন করা হলেও কমিটির সদস্য হিসেবে নাম থাকা এক ব্যক্তি জানান, তিনি এ প্রকল্প সম্পর্কে কিছুই জানেন না এবং কোনো নথিতে স্বাক্ষরও করেননি। এতে পুরো প্রকল্প ব্যবস্থাপনা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।
এ বিষয়ে উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. মো. আবুল কাশেম বলেন, ‘প্রকল্পের মেয়াদ শেষ হওয়ায় দ্রুত উপকারভোগীদের মধ্যে টাকা বিতরণ করা হয়েছে। চেকের মাধ্যমে ২০ হাজার টাকা করে দেওয়া হয়েছে, কোনো অর্থ কম দেওয়া হয়নি।
জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা কৃষিবিদ মো. নুরুল ইসলাম বলেন, ক্ষতিগ্রস্ত খামারিদের মধ্যে টাকা বিতরণ করা হয়েছে। প্রকল্পের মেয়াদ শেষ হওয়ায় বাস্তবায়নের জন্য টাকা উত্তোলন করা হয়েছে। উপকারভোগীদের টাকা দেওয়া হয়েছে, তারা এখন নিজেরা ঘর নির্মাণ করবেন।