ইরানের বার্তাসংস্থা ইসনা জানিয়েছে, দেশটি স্পষ্টভাবে যুদ্ধবিরতির প্রস্তাব নাকচ করেছে এবং স্থায়ীভাবে সংঘাত বন্ধ করার ওপর জোর দিয়েছে। একই সঙ্গে তারা বলেছে, পুরো অঞ্চলে যুদ্ধ বন্ধ করতে হবে এবং হরমুজ প্রণালিতে নিরাপদ নৌ চলাচল নিশ্চিত করতে একটি প্রটোকল গড়ে তুলতে হবে। পাশাপাশি ইরানের ওপর আরোপিত নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়া এবং যুদ্ধ-পরবর্তী পুনর্গঠনের বিষয়টিও শর্ত হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।
মার্কিন সংবাদমাধ্যম নিউইয়র্ক টাইমসের তথ্য অনুযায়ী, ইরান তাদের জবাবে ভবিষ্যতে আর কোনো হামলা না করার নিশ্চয়তা চেয়েছে। এছাড়া লেবাননে তাদের মিত্র হিজবুল্লাহর ওপর সব ধরনের হামলা বন্ধের দাবিও জানিয়েছে তারা।
অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানকে নির্দিষ্ট সময়সীমা বেঁধে দিয়েছেন। তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের স্থানীয় সময় মঙ্গলবার রাত ৮টার মধ্যে চুক্তিতে পৌঁছাতে হবে, না হলে ইরানের সেতু ও বিদ্যুৎ অবকাঠামো লক্ষ্য করে হামলা চালানো হতে পারে।
ওয়ালস্ট্রিট জার্নালের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে চুক্তি হওয়ার সম্ভাবনা খুব কম। কারণ দুই দেশের মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলোতে বড় ধরনের মতপার্থক্য রয়েছে। এমনকি ট্রাম্প নিজেও চুক্তি নিয়ে খুব আশাবাদী নন বলে ঘনিষ্ঠদের জানিয়েছেন, যদিও আলোচনার মাধ্যমে পরিস্থিতি বদলানোর সম্ভাবনা একেবারে উড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে না।
প্রতিবেদনটিতে আরও উল্লেখ করা হয়, সম্ভাব্য হামলার সিদ্ধান্ত নিয়ে ট্রাম্প প্রশাসনের ভেতরেও উদ্বেগ রয়েছে। বিশেষ করে রিপাবলিকান পার্টির সদস্যরা আশঙ্কা করছেন, ইরানের জ্বালানি অবকাঠামোতে হামলা হলে যুক্তরাষ্ট্রে জ্বালানির দাম বেড়ে যেতে পারে, যা আসন্ন মধ্যবর্তী নির্বাচনে প্রভাব ফেলতে পারে।
এ বিষয়ে হোয়াইট হাউজের প্রেসসচিব ক্যারোলিন লেভেট বলেন, প্রেসিডেন্ট কী সিদ্ধান্ত নেবেন তা একমাত্র তিনিই জানেন এবং শিগগিরই তা পরিষ্কার হবে।
/ইউএমএইচ