মানব ইতিহাসে এই প্রথম চাঁদের ওরিয়েন্টালে বেসিনের সম্পূর্ণ বিস্তৃতি ও মনোমুগ্ধকর দৃশ্য মানুষের চোখে ধরা পড়ল। আর্টেমিস-২ মিশনের নভোচারীরা ওরিয়ন মহাকাশযান থেকে এই রোমাঞ্চকর দৃশ্যটি ধারণ করেছেন, যা গভীর মহাকাশ অনুসন্ধানে এক গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হিসেবে চিহ্নিত হয়ে থাকবে।
ওরিয়েন্টালে বেসিন একটি বিশাল, বহু বলয়বিশিষ্ট আঘাতজনিত গহ্বর, যার প্রস্থ প্রায় ৬০০ মাইল। কোটি কোটি বছর আগে সৃষ্টি হওয়া এই গহ্বরের বৃত্তাকার বলয়গুলো চাঁদের পৃষ্ঠে এমনভাবে ছড়িয়ে আছে, যেন পানিতে পাথর ছুড়ে দিলে ঢেউ তৈরি হয়। এটি চাঁদের দৃশ্যমান অংশের একেবারে প্রান্তে অবস্থিত হওয়ায় পৃথিবী থেকে কখনোই পুরোটা দেখা যায় না শুধু কোনাকুনি এক বিকৃত অংশই দৃশ্যমান হয়। নাসা।
সম্প্রতি প্রকাশিত ছবিটি ওরিয়ন ক্যাপসুলের জানালা দিয়ে তোলা, যখন নভোচারীরা সরাসরি ওই অঞ্চলের ওপর দিয়ে অতিক্রম করছিলেন। সময়টা ছিল নিখুঁত মহাকাশযানটি যখন চাঁদের অদৃশ্য অংশের দিকে নামতে শুরু করে, ঠিক তখনই ক্যামেরায় ধরা পড়ে পুরো বেসিনের বিস্তৃতি আর তার ওপরে কালো শূন্যতায় নিখুঁতভাবে ফ্রেমবন্দি পৃথিবী।
ওরিয়ন তার কক্ষপথে এগিয়ে চলার সঙ্গে সঙ্গে মিশনটি প্রবেশ করছে সবচেয়ে নিঃসঙ্গ পর্যায়ে। ওরিয়ন স্পেসক্রাফট যখন চাঁদের উল্টো পাশে ছিল, তখন প্রায় ৪০ মিনিট পৃথিবীর মিশন কন্ট্রোলের সঙ্গে নভোচারীদের কোনো যোগাযোগ ছিল না।
চারদিকে ঘুটঘুটে অন্ধকার ও পিনপতন নিস্তব্ধতা ছিল। পৃথিবী থেকে লাখ লাখ মাইল দূরে পৃথিবীর সঙ্গে কোনোরকম যোগাযোগ ছিল না চার নভোচারীর। এই ৪০ মিনিট তারা ভয়ে জড়োসড়ো হয়ে বসে থাকেননি। এই সময়টাতেই তারা সবচেয়ে বেশি ব্যস্ত ছিলেন। তারা মেতে উঠেছিলেন চাঁদের উল্টো পিঠের রহস্য উন্মোচনে।