জীবিত থেকেও মৃত, পাচ্ছেন না বয়স্ক ভাতা

নেত্রকোনা প্রতিনিধি

সারাদেশ

নেত্রকোনার দুর্গাপুরের চন্ডিগড় ইউনিয়নের মউ গ্রামের বৃদ্ধ আব্দুল মজিদ একজন জীবিত মানুষ। অথচ সরকারি নথিপত্রে তিনি ‌‌‘মৃত’। দীর্ঘ প্রায় ১৫

2026-04-08T03:28:30+00:00
2026-04-08T03:28:30+00:00
 
  রবিবার, ১৯ জুলাই ২০২৬,
৪ শ্রাবণ ১৪৩৩
রবিবার, ১৯ জুলাই ২০২৬
সারাদেশ
জীবিত থেকেও মৃত, পাচ্ছেন না বয়স্ক ভাতা
নেত্রকোনা প্রতিনিধি
প্রকাশ: বুধবার, ৮ এপ্রিল, ২০২৬, ৩:২৮ এএম 
সংগৃহীত ছবি
নেত্রকোনার দুর্গাপুরের চন্ডিগড় ইউনিয়নের মউ গ্রামের বৃদ্ধ আব্দুল মজিদ একজন জীবিত মানুষ। অথচ সরকারি নথিপত্রে তিনি ‌‌‘মৃত’। দীর্ঘ প্রায় ১৫ বছর ধরে নিয়মিত বয়স্ক ভাতা পেয়ে এলেও গত ১৮ মাস ধরে তা বন্ধ রয়েছে। কারণ খুঁজতে গিয়ে দেখা যায় ইউনিয়ন পরিষদ থেকে উপজেলা সমাজসেবা কার্যালয়ে পাঠানো তালিকায় তাকে মৃত দেখানো হয়েছে। জীবিত মানুষকে মৃত দেখিয়ে অন্যের নামে ভাতা করে দেওয়ার জালিয়াতির পেছনে সাবেক স্থানীয় ইউপি সদস্য ও সমাজসেবা কর্মীদের সরাসরি হাত রয়েছে বলে অভিযোগ ভুক্তভোগী পরিবারের।

বৃদ্ধ আব্দুল মজিত বলেন, আগে ভাতা পাইতাম। গত ১৮ মাস ধরে টাকা পাই না। অফিসে গেলে বলে আমার নামের পাশে লাল কালি দিয়ে কেটে দেওয়া হয়েছে।’ এই বয়সে এসে ছেলেদের সংসারে বোঝা হয়ে থাকতে হচ্ছে জানিয়ে তিনি কান্নায় ভেঙে পড়েন। তিনি আরও বলেন, ‘আমি বয়স্ক মানুষ, নিজের তো কামাই নাই। ছেলেদের ওপর ভাত খাই, দুইটা পয়সা লাগে, তারা কোত্থেকে দেবে? আমার নামের পাশে ওরা ‘মৃত্যু’ লিখে রাখছে।

আব্দুল মজিদের ছেলে মো. আবুল বাশার জানান, বাবার ভাতার টাকা হঠাৎ বন্ধ হয়ে গেলে তারা ইউনিয়ন পরিষদের দ্বারস্থ হন। সেখানে নূর ইসলাম নামে এক কর্মী এবং স্থানীয় ইউপি সদস্য সাইদুল মেম্বারের কাছে বারবার ধরনা দেন তারা। 

দিনের পর দিন, মাসের পর মাস ঘুরিয়েও কোনো সমাধান দেওয়া হয়নি। উল্টো তাদের কাছে চা-নাশতা খাওয়ার নামে বারবার টাকা নেওয়া হয়েছে। ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, মেম্বার ও নূর ইসলাম মিলে আমার বাবার নাম কেটে অন্য নাম বসিয়ে টাকা আত্মসাতের পাঁয়তারা করেছে। তারা আমাকে নানা রকম ভুয়া কাগজপত্র, চেয়ারম্যানের সই, আইডি কার্ডের ফটোকপি আনার নামে দিনের পর দিন ঘুরিয়েছে। ১৮ মাস পার হয়ে গেলেও আমার বাবা এক টাকাও ভাতা পাননি।

চন্ডিগড় ইউনিয়নের ৪নং ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য সাইদুল ইসলাম অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। আব্দুল মজিদ তার খুব কাছের প্রতিবেশী, তিনি তাকে যথেষ্ট সম্মান করেন এবং জীবিত মানুষকে মৃত বানানোর পেছনে তার কোনো হাত নেই দাবি করে তিনি বলেন, সমাজসেবা অফিসের কাগজেই হালকা দাগ বা ‘লাল কালির টিক চিহ্ন’ দিয়ে তাকে মৃত দেখানো হয়েছিল। 

আব্দুল মজিদের ভাতার সমস্যা সমাধানের জন্য তিনি নিজে ভুক্তভোগীর ছেলেকে নিয়ে পাঁচ-ছয়বার সমাজসেবা অফিসে এবং নূরুল ইসলামের কাছে গেছেন। বর্তমানে ওই ইউনিয়নের চেয়ারম্যান এলাকা ছাড়া হয়েছেন বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

এ বিষয়ে দুর্গাপুর উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা মো. মাসুল তালুকদারের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনিও ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে দায় চাপান ইউনিয়ন পরিষদের ওপর। তিনি জানান, ইউনিয়ন পরিষদ থেকে প্রতিস্থাপনের জন্য যে তালিকা দেওয়া হয়, সেখানে মৃতদের নাম বাদ দিয়ে নতুনদের নাম যুক্ত করা হয়। সেই তালিকায় ইউনিয়ন পরিষদ আব্দুল মজিদকে মৃত ঘোষণা করে রেজুলেশন ও প্রত্যয়নপত্র পাঠিয়েছে। যেহেতু ইউপি থেকে তাকে মৃত ঘোষণা করা হয়েছে, তাই আমরা তার ভাতা বন্ধ করে অন্যজনকে দিয়েছি।

বিষয়টি নিয়ে দুর্গাপুরের উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আফরোজা আফসানার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দেন। তিনি জানান, এ বিষয়টি তিনি জেনেছেন এবং সমাজসেবা কর্মকর্তার সঙ্গে কথা বলে দ্রুত তার বয়স্ক ভাতা চালুর উদ্যোগ নিয়েছেন।


  বিষয়:   নেত্রকোনা  দুর্গাপুর  চন্ডিগড়  মউ  আব্দুল  মজিদ 


Loading...
Loading...
সারাদেশ- এর আরো খবর
Loading...
Loading...
© 2026 Daily Shomoyer Alo
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সৈয়দ শাহনেওয়াজ করিম, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড এর পক্ষে প্রকাশক মো. ফয়সাল রহমতউল্লাহ ফেরদৌস। নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।
ফোন : ৪১০৬২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : ৪১০৬২৩৭৫
সময়ের আলোর খবর পেতে ফলো করুন: