মানুষকে পাপের পথে নিয়ে যায় প্রবৃত্তি। এ জন্য প্রবৃত্তির চাহিদা নিয়ন্ত্রণ করা জরুরি। হজরত ইউসুফ (আ.) বলেছিলেন, ‘আমি নিজেকে নির্দোষ বলে মনে করি না। নিশ্চয় মানুষের মন মন্দ কর্মপ্রবণ, তবে যার প্রতি ইচ্ছা আমার পালনকর্তা অনুগ্রহ করেন’ (সুরা ইউসুফ : ৫৩)। তবে এই প্রবৃত্তির মোকাবিলা করতে পারলে সফলতা নিশ্চিত। আল্লাহ তায়ালা মানুষকে প্রবৃত্তির অনুসরণ করতে নিষেধ করেছেন। পবিত্র কুরআনে ইরশাদ হয়েছে, ‘তোমরা বিচার করতে গিয়ে প্রবৃত্তির অনুসরণ করো না’ (সুরা নিসা : ১৩৫)। আল্লাহ তায়ালা নবীজি (সা.)-কে লক্ষ্য করে বলেছেন, ‘যার হৃদয় আমার স্মরণ থেকে গাফেল করে দিয়েছি, যে নিজের প্রবৃত্তির অনুসরণ করে এবং যার কার্যকলাপ হচ্ছে সীমা অতিক্রম করা, আপনি তার অনুসরণ করবেন না।’ (সুরা কাহফ : ২৮)
প্রায়শই এমন হয়- রেডিও-টিভি বা মোবাইলে যখন ইসলামিক প্রোগ্রাম হয়, কুরআনের তাফসির বা হাদিসের আলোচনা হয়, অথবা কোনো আমলের দাওয়াত দেওয়া হয়, অধিকাংশ মানুষই তখন অমনোযোগী থাকে, খোশগল্পে মশগুল থাকে। পক্ষান্তরে যখন নাটক আসে বা বিনোদনমূলক বিষয় পরিবেশন করা হয় তখন মনোযোগ বেড়ে যায়, গল্পগুজব থেমে যায়। এটা তো কোনো ইমানদারের অবস্থা হতে পারে না! ইমানদার হবে আত্মনিয়ন্ত্রিত। পথে-ঘাটে চলতে গেলে যখন গুনাহ ও পাপের কোনো বিষয় চোখে পড়বে, সঙ্গে সঙ্গে নিজেকে নিয়ন্ত্রণ করা এবং বিভিন্ন আয়াত স্মরণ করা। যখন কোনো নষ্ট গায়কের গানের আওয়াজ ভেসে আসবে, তখন প্রিয় রাসুল (সা.)-এর হাদিস নিয়ে চিন্তা করা। প্রবৃত্তির বিরোধিতা করতে পারলেই মানুষ হয়ে যাবে পরিপূর্ণ ইমানদার। তখন সে আল্লাহ তায়ালার হুকুমের সামনে নিজেকে অবনত করতে পারবে আর সে হয়ে যাবে জান্নাতের অধিবাসী। যেমনটি আল্লাহ তায়ালা ইরশাদ করেন, ‘যে ব্যক্তি তার পালনকর্তার সামনে দণ্ডায়মান হওয়াকে ভয় করে এবং প্রবৃত্তির চাহিদা থেকে নিজেকে নিবৃত্ত রাখে, তার ঠিকানা হবে জান্নাত।’ (সুরা নাজিয়াত : ৪০-৪১)
আরও পড়ুন
প্রবৃত্তির অনুসরণ পাহাড় থেকে গড়িয়ে পড়া পাথরের মতো। জায়গা থেকে একটু নাড়িয়ে দিলে বিনা কষ্টে নিজে নিজেই পড়ে যায়। যেমন পাহাড়ের চূড়ায় একটি পানির ট্যাঙ্কি রেখে সামান্য ফুটো করে দিলে সব পানি তড়তড় করে নেমে আসে উপত্যকায়। যত কষ্ট তা তো পানি ওপরে তুলতে। সুতরাং যে আরামপ্রিয় হয়ে থাকবে, কষ্টের মুখোমুখি হতে চাইবে না, প্রবৃত্তির বিরোধিতা করবে না, সে জান্নাতের পথে চলতে সক্ষম হবে না। যে জান্নাতের পথে চলবে, সে প্রবৃত্তি ও চাহিদাকে অবশ্যই নিয়ন্ত্রণ করতে হবে। মনের সুখ ও স্বাদ, হৃদয়ের ফুর্তি ও আমেজ পরিত্যাগ করতে হবে।
প্রবৃত্তি কল্পনার মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকলে তার কোনো শাস্তি হবে না যতক্ষণ তা আমলে পরিণত না হবে। এ জন্যই বারবার বলা হয়েছে, প্রবৃত্তির অনুসরণ করো না। অনুসরণ বলতে শুধু চিন্তা করাকে বোঝায় না। অনুসরণ হলো বাস্তবে রূপদান করা। সুতরাং যখন কাজে পরিণত হবে তখন তার শাস্তি ভোগ করতে হবে। হজরত আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুল (সা.) বলেছেন, ‘বনি আদমের ওপর তার জিনার অংশ লিখে রাখা হয়েছে, অবশ্যই সে তা প্রাপ্ত হবে। চোখের জিনা হলো নজর করা, কানের জিনা হলো শ্রবণ করা, জিহ্বার জিনা হলো কথা বলা, হাতের জিনা হলো স্পর্শ করা, পায়ের জিনা হলো গমন করা, অন্তর আকৃষ্ট হয় ও কামনা করে, আর লজ্জাস্থান তাকে বাস্তবায়ন করে অথবা মিথ্যা প্রতিপন্ন করে।’ (মুসলিম : ২৬৫৭)
এএডি/