নওগাঁর সরকারি হাসপাতালগুলোতে জলাতঙ্কের ভ্যাকসিন না থাকায় চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন সেবা নিতে আসা রোগীরা। কুকুর, বিড়াল বা বন্যপ্রাণীর কামড় ও আঁচড়ের পর জীবনরক্ষাকারী এই টিকা বিনামূল্যে পাওয়ার কথা থাকলেও গত প্রায় তিন মাস ধরে সরবরাহ বন্ধ থাকায় বাধ্য হয়ে রোগীদের বাইরে থেকে কিনে নিতে হচ্ছে।
জানা গেছে, জেলার ১১টি উপজেলায় প্রায় ৩০ লাখ মানুষের বসবাস। উন্নত চিকিৎসাসেবার কারণে নওগাঁ ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে প্রতিদিন শতাধিক রোগী জলাতঙ্ক প্রতিরোধে টিকা নিতে আসেন। কিন্তু টিকা না থাকায় তাদের কাউন্টার থেকে ফেরত পাঠিয়ে বাইরের ফার্মেসি থেকে ভ্যাকসিন কিনতে বলা হচ্ছে। এতে রোগীদের অতিরিক্ত অর্থ ব্যয় করতে হচ্ছে এবং ভোগান্তি বাড়ছে।
ভুক্তভোগীরা জানান, বাইরে থেকে প্রতি ডোজ ভ্যাকসিন কিনতে প্রায় ৫০০ টাকা খরচ হচ্ছে। অনেক ক্ষেত্রে চারজন মিলে একটি ভায়েল ভাগাভাগি করে নেওয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে, যাতে খরচ কিছুটা কমে। তবে সবাই এ সুযোগ পান না।
মান্দা উপজেলার বাসিন্দা মেঘনা জানান, কুকুরে কামড়ানোর পর হাসপাতালে গিয়ে টিকা না পেয়ে বাইরে থেকে কিনতে হয়েছে। একই অভিযোগ করেন শহিদুল ইসলাম বিপ্লবও।
তিনি বলেন, তিন ডোজ টিকা নিতে প্রায় দেড় হাজার টাকা খরচ হচ্ছে, যা নিম্নআয়ের মানুষের জন্য কষ্টকর।
হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, গত বছরের ৩১ ডিসেম্বর থেকে জলাতঙ্কের টিকার সরবরাহ বন্ধ রয়েছে। আগের টেন্ডারেও এই ভ্যাকসিন অন্তর্ভুক্ত ছিল না। ফলে নতুন করে টেন্ডার প্রক্রিয়া শেষ না হওয়া পর্যন্ত সংকট অব্যাহত থাকতে পারে।
নওগাঁ ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. আখতারুজ্জামান বলেন, প্রতিদিন বিপুল সংখ্যক রোগী টিকা নিতে আসলেও সরবরাহ না থাকায় তারা সেবা দিতে পারছেন না। নতুন টেন্ডারে ভ্যাকসিন অন্তর্ভুক্ত করা হবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।
অন্যদিকে, জেলা সিভিল সার্জন ডা. আমিনুল ইসলাম জানান, স্বাস্থ্য অধিদপ্তর থেকে সরবরাহ বন্ধ থাকায় এই সংকট তৈরি হয়েছে। তবে পত্নীতলা ও নিয়ামতপুর উপজেলায় স্থানীয়ভাবে কিছু ভ্যাকসিন সংগ্রহ করে সীমিত আকারে দেওয়া হচ্ছে।
চিকিৎসকরা বলছেন, জলাতঙ্ক একটি শতভাগ প্রতিরোধযোগ্য রোগ হলেও সময়মতো টিকা না নিলে তা প্রাণঘাতী হতে পারে। তাই দ্রুত ভ্যাকসিন সরবরাহ নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগী ও সচেতন মহল।
সময়ের আলো/আরবিএন