ইসলামে প্রতারণা, অন্যায়ভাবে কারও সম্পদ গ্রহণ বা আইন ভঙ্গ করা নিষিদ্ধ। ফলে বিনা টিকেটে ট্রেনে ভ্রমণ করা মূলত প্রতারণার শামিল, কারণ এটি ট্রেন কর্তৃপক্ষের এবং জনগণের অধিকার লঙ্ঘন করে। তবে এ অর্থ পরিশোধ করা ইসলামি দৃষ্টিকোণ থেকে অত্যন্ত প্রশংসনীয়, সততার উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত এবং ঈমানি দায়িত্বের অংশ।
আল্লাহ বলেন, ‘আর তোমরা একে অপরের সম্পদ অন্যায়ভাবে গ্রাস করো না।’ (সূরা আল-বাকারা: ১৮৮)
হজরত আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘মোমিনের আত্মা তার ঋণের সাথে লটকে থাকে যতক্ষণ না তা পরিশোধ করা হয়।’ (সুনানে তিরমিজি, হাদিস: ১০৭৮) অর্থাৎ, কোনো ব্যক্তি মারা গেলেও তার রূহ আটকে থাকে যদি সে কারও পাওনা অপরিশোধিত রেখে যায়।
নবী (সা.) বলেছেন, ‘যে প্রতারণা করে, সে আমাদের (মুসলমানদের) অন্তর্ভুক্ত নয়।’ (সহিহ মুসলিম: ১০২)
রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘তোমাদের কেউ অন্যের সম্পদ খেলাচ্ছলে কিংবা সুনিপুণ কৌশলে গ্রহণ করবে না। আর যদি কেউ অন্যের লাঠিও নেয়, সে যেন তা ফেরত দেয়।’ (বায়হাকি : ৬/৯২)
ইসলামে চুক্তি রক্ষা করা বাধ্যতামূলক। ট্রেনে ভ্রমণের জন্য টিকিট নেওয়া একটি সামাজিক ও আইনগত চুক্তি, যা ভঙ্গ করা অন্যায়। ফলে ইসলামিক দৃষ্টিকোণ থেকে বিনা টিকেটে ট্রেনে ভ্রমণ হারাম ও ন্যায়সঙ্গত নয়। এটি শুধু আইনগত অপরাধ নয়, বরং নৈতিক ও ধর্মীয়ভাবে গুনাহের কাজও।
এমতাবস্থায় করণীয় হল, অতীতে বিনা টিকেটে ভ্রমণ করে থাকলে সেই পরিমাণ অর্থ রেল কর্তৃপক্ষকে প্রদান করে (সম্ভব হলে) বা জনকল্যাণমূলক কাজে ব্যয় করে তওবা করতে হবে। আর যদি ভুলবশত বা বিশেষ কারণে টিকিট না কাটা হয়ে থাকে, তবে তাৎক্ষণিক দায়িত্বরত কর্মকর্তার কাছ থেকে টিকেট সংগ্রহ করে বা জরিমানা দিয়ে দায়মুক্ত হতে হবে।
দীর্ঘ সময় পর হলেও নিজের ভুল বুঝতে পেরে এবং আনুমানিক ভাড়ার টাকা পরিশোধ করে অপরাধবোধ (তওবা) ও ঋণের দায় থেকে মুক্ত হতে হবে। এমন ভুল শুধরে নেওয়া এবং আল্লাহর ভয়ে পাপ মোচনের একটি উত্তম উদাহরণ।
দীর্ঘ দিন পর টাকা পরিশোধের মানসিকতা প্রমাণ করে যে, সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির অন্তরে ‘তাকওয়া’ বা আল্লাহর ভয় জাগ্রত হয়েছে। এটি একটি ‘সদকায়ে জারিয়া’ সমতুল্য ভালো কাজ হতে পারে যদি এটি দেখে অন্যরাও তাদের পুরনো ভুল সংশোধনে অনুপ্রাণিত হয়।
এছাড়া ট্রেনের টিকিট না কেটে টিটিকে ভাড়ার সমপরিমাণ টাকা বা ভাড়ার চেয়ে কম টাকা দেওয়া বৈধ নয়। এটা ভাড়া হিসেবে গণ্য হবে না। এটা হবে ঘুষ। ইসলামে ঘুষ হারাম। তবে টিটি যদি যথাযথ কর্তৃপক্ষের কাছে ব্যক্তির নামে টাকা পৌঁছে দেয়, তাহলে জায়েজ হবে। ইবনে আমর (রা.) বলেন, ‘ঘুষ গ্রহণকারী ও ঘুষ প্রদানকারী দুজনকেই রাসুলুল্লাহ (সা.) অভিসম্পাত করেছেন।’ (জামে তিরমিজি, হাদিস : ১৩৩৭)
সময়ের আলো/জেডআই