ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্য দুই সপ্তাহের যুদ্ধবিরতি চলছে। এ যুদ্ধবিরতি কার্যকরের অন্যতম শর্ত ছিল হরমুজ প্রণালি খুলে দেওয়া। তবে যুদ্ধবিরতি চুক্তির পর প্রায় দু’দিন পার হয়ে যাচ্ছে, এখনও গুরুত্বপূর্ণ এই জলপথ পুরোপুরি খুলেছে কি না তা নিয়ে ধোঁয়াশা দিন দিন বাড়ছে।
কারণ বিবিসি ভেরিফাই ও মেরিন ট্রাফিকের তথ্য বিশ্লেষণে দেখা গেছে, যুদ্ধবিরতি ঘোষণা পর এখন পর্যন্ত মোটে ১১টি জাহাজ হরমুজ প্রণালি পারি দিয়েছে। অথচ স্বাভাবিক সময়ে দিনে ১৩৮টি পণ্যবাহী জাহাজ এই জলপথ দিয়ে চলাচল করত।
সমুদ্রবিষয়ক সংবাদমাধ্যম ‘লয়েডস লিস্ট’-এর প্রধান সম্পাদক রিচার্ড মিড জানিয়েছেন, যুদ্ধের কারণে এই অঞ্চলে প্রায় ৮০০ জাহাজ আটকা পড়ে আছে। আর এই অচলাবস্থার ফলে বিশ্ববাজারে পণ্য সরবরাহ এবং তেলের দামে বড় ধরনের প্রভাব পড়ার আশঙ্কা করা হচ্ছে।
বুধবারই (৮ এপ্রিল) অবশ্য ইরানি সংবাদমাধ্যম ফারস নিউজ এজেন্সির এক প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, যুদ্ধবিরতি কার্যকরের পরও লেবাননে ইসরায়েলের নির্বিচার হামলার প্রতিবাদে ইরান ফের হরমুজ প্রণালি বন্ধ করে দিয়েছে। যদিও আনুষ্ঠানিকভাবে ইরান সরকার এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করেনি।
এদিকে হরমুজ প্রণালি দিয়ে চলাচলকারী জাহাজের জন্য বিকল্প রুট চালুর ঘোষণা দিয়েছে ইরান। জলপথটির মূল অংশে সামুদ্রিক মাইন থাকার ঝুঁকি বিবেচনায় তারা এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোরের (আইআরজিসি) এক বিবৃতির বরাত দিয়ে স্থানীয় সংবাদমাধ্যমে জানানো হয়েছে, ‘হরমুজ প্রণালি দিয়ে চলাচলে ইচ্ছুক জাহাজগুলোর নিরাপত্তা নীতি মেনে চলতে হবে। পাশাপাশি সামুদ্রিক মাইন এড়াতে তাদের বিকল্প রুট ব্যবহার করা উচিত।’
সময়ের আলো/কেএইচও