সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এক্সে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাকচি লিখেছেন, ইরান-যুক্তরাষ্ট্র যুদ্ধবিরতির শর্তগুলো পরিষ্কার এবং সুনির্দিষ্ট: যুদ্ধবিরতি অথবা যুদ্ধ-যেকোনো একটিকে বেছে নিতে হবে যুক্তরাষ্ট্রকে। একসঙ্গে দুটি চলতে পারে না।
বুধবার (৮ এপ্রিল) ওয়াশিংটনকে সতর্ক করে এ কথা বলেছে ইরান। তুরস্কের সংবাদ সংস্থা আনাদোলু এজেন্সির এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানানো হয়েছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইসরায়েল যদি লেবাননে হামলা চালিয়ে যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘন অব্যাহত রাখে, তবে তেহরান যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে হওয়া সমঝোতা থেকে সরে দাঁড়াতে পারে।
লেবানন পরিস্থিতির কথা উল্লেখ করে আরাকচি বলেন, বিশ্ববাসী লেবাননের এই গণহত্যা দেখছে। এখন বল যুক্তরাষ্ট্রের কোর্টে এবং বিশ্ব তাকিয়ে আছে তারা তাদের প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী কাজ করে কি না।
এদিকে ইসরায়েলি সেনাবাহিনী জানিয়েছে, তারা বৈরুত, বেকা উপত্যকা ও দক্ষিণ লেবাননের বিভিন্ন এলাকায় মাত্র ১০ মিনিটে ১০০টিরও বেশি লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালিয়েছে। চলমান অভিযানের মধ্যে এটিই সবচেয়ে বড় সমন্বিত হামলা বলেও দাবি করা হয়েছে।
উল্লেখ্য, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে ইসরায়েল ইরানের পাশাপাশি দক্ষিণ লেবাননে বিমান ও স্থল অভিযান চালিয়ে আসছে। ২০২৪ সালের নভেম্বর থেকে কার্যকর যুদ্ধবিরতি চুক্তি থাকা সত্ত্বেও গত ২ মার্চ হিজবুল্লাহর আন্তঃসীমান্ত হামলার জবাবে এই অভিযান শুরু হয়।
এর মধ্যে পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প মঙ্গলবার ইরানের সঙ্গে দুই সপ্তাহের যুদ্ধবিরতি ঘোষণা করেন।
তিনি জানান, তেহরান আলোচনার জন্য একটি ‘কার্যকর’ ১০ দফা প্রস্তাব দিয়েছে।
ডেডলাইন শেষ হওয়ার অল্প সময় আগে এই যুদ্ধবিরতির ঘোষণা আসে।
এর আগে হরমুজ প্রণালী খুলে দেওয়া এবং চুক্তিতে সম্মত হওয়ার জন্য ইরানকে বারবার সতর্ক করেছিলেন ট্রাম্প।
অন্যথায় দেশটিকে ভয়াবহ পরিণতির মুখোমুখি হতে হবে বলেও হুঁশিয়ারি দেন তিনি।
সময়ের আলো/আরবিএন