ছেলেকে নিয়োগ দিতে মাদরাসা সুপারের ভুয়া কমিটি গঠন

সুন্দরগঞ্জ (গাইবান্ধা) প্রতিনিধি

সারাদেশ

গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জ উপজেলায় একটি মাদ্রাসায় ম্যানেজিং কমিটি গঠন ছাড়াই ভুয়া কমিটি দেখিয়ে নিয়োগ দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগে বলা হয়েছে, নিয়োগ

2026-04-10T18:38:22+00:00
2026-04-10T18:38:22+00:00
 
  বুধবার, ৪ নভেম্বর ২০২৬,
২০ কার্তিক ১৪৩৩
বুধবার, ৪ নভেম্বর ২০২৬
সারাদেশ
ছেলেকে নিয়োগ দিতে মাদরাসা সুপারের ভুয়া কমিটি গঠন
সুন্দরগঞ্জ (গাইবান্ধা) প্রতিনিধি
প্রকাশ: শুক্রবার, ১০ এপ্রিল, ২০২৬, ৬:৩৮ পিএম 
মাদ্রাসা। ছবি : সময়ের আলো
গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জ উপজেলায় একটি মাদ্রাসায় ম্যানেজিং কমিটি গঠন ছাড়াই ভুয়া কমিটি দেখিয়ে নিয়োগ দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগে বলা হয়েছে, নিয়োগ কমিটির অধিকাংশ সদস্য বিষয়টি সম্পর্কে কিছুই জানেন না এবং তাদের স্বাক্ষরও জাল করা হয়েছে।

অভিযোগ রয়েছে, এসব জালিয়াতির মাধ্যমে সুপারের ছেলে ও সভাপতির ভাগিনাকে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। অভিযুক্ত প্রতিষ্ঠানটি উপজেলার কঞ্চিবাড়ী ইউনিয়নের বজরা কঞ্চিবাড়ী মজিদিয়া দাখিল মাদ্রাসা এবং এর সুপার মো. শহিদুর রহমান।

উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিস সূত্রে জানা যায়, ম্যানেজিং কমিটি গঠনের জন্য গত বছরের ১৮ আগস্ট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে আবেদন করেন সুপার। পরে তৎকালীন ইউএনও রাজ কুমার বিশ্বাস উপজেলা একাডেমিক সুপারভাইজার মো. বেলাল হোসেনকে প্রিজাইডিং কর্মকর্তা হিসেবে নিয়োগ দেন। তিনি ৭ অক্টোবর নির্বাচনী তফসিল ঘোষণা করেন। তফসিল অনুযায়ী ৯, ১২ ও ১৩ অক্টোবর মনোনয়নপত্র গ্রহণ ও জমা, ১৪ অক্টোবর বাছাই, ১৫ অক্টোবর আপিল শুনানি এবং ১৬ অক্টোবর চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশের কথা ছিল। নির্বাচন হওয়ার কথা ছিল ২৭ অক্টোবর।

তবে জানা গেছে, প্রিজাইডিং কর্মকর্তা নিয়োগ ও তফসিল ঘোষণার পর সুপার কেবল মনোনয়নপত্র গ্রহণ ও জমা দেন। এরপর কমিটি গঠনের আর কোনো কার্যক্রম সম্পন্ন করা হয়নি। ফলে ম্যানেজিং কমিটি গঠনই হয়নি।


এরপরও চলতি বছরের ১৯ ফেব্রুয়ারি জাতীয় দৈনিক নয়া দিগন্ত ও স্থানীয় দৈনিক মাধুকর পত্রিকায় ৫টি পদে নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়।

অভিযোগ অনুযায়ী, ঈদুল ফিতরের আগের দিন অর্থাৎ ২০ মার্চ গাইবান্ধা জেলা শহরে নিয়োগ বোর্ড বসিয়ে অফিস সহকারী কাম কম্পিউটার অপারেটর পদে সুপারের ছেলে এবং পরিচ্ছন্নতা কর্মী পদে সভাপতির ভাগিনাকে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। এছাড়া ইবতেদায়ী প্রধান শিক্ষক, ল্যাব সহকারী ও অফিস সহায়ক পদেও নিয়োগ দেওয়ার পাঁয়তারা চলছে।

আরও অভিযোগ রয়েছে, নিজের ছেলেকে নিয়োগ দিতে আইনি জটিলতা থাকায় সহকারী সুপার মো. গোলজার হোসেনকে ভারপ্রাপ্ত সুপার দেখিয়ে নিয়োগ কার্যক্রম সম্পন্ন করা হয়েছে। নিয়োগ কমিটির ৫ সদস্যের মধ্যে ডিজির প্রতিনিধি ছাড়া বাকি সদস্যদের স্বাক্ষর জাল করা হয়েছে বলেও জানা গেছে।

বিষয়টি জানাজানি হলে এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে এবং দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি উঠেছে।

এ বিষয়ে নিয়োগ কমিটির সদস্য ও শিক্ষক প্রতিনিধি সুমন্ত চন্দ্র বর্মণ বলেন, আমিও শুনেছি নিয়োগ কমিটির সদস্য করা হয়েছে আমাকে। এর বেশি কিছু জানি না।

আরেক সদস্য ও শিক্ষক প্রতিনিধি মো. সাজ্জাদুর রহমান বলেন, বিধি মোতাবেক যে সিস্টেমে কমিটি গঠন হওয়ার কথা সে সিস্টেমে করা হয়নি। হলে আমরা জানতাম। কারণ আমরা নিয়মিত মাদ্রাসায় আসি। তবে লোকমুখে শুনে আসছি সুপার হুজুর গোপনে কমিটি গঠন করেছেন এবং নিয়োগও দিয়েছেন। আমরা এ কমিটি মানি না এবং মানবোও না।

তিনি আরও বলেন, এ কমিটিতে আমাকে শিক্ষক প্রতিনিধি করা হয়েছে, কিন্তু আমি জানি না। নিয়োগ পরীক্ষা কবে, কোথায় হয়েছে বা হয়েছে কি না কিছুই জানি না। তবে এনটিআরসি’র একজন নতুন শিক্ষকের বিল করার কথা বলে আমার কাছ থেকে স্বাক্ষর নেওয়া হয়েছে। নিয়োগের বিষয়ে কোনো স্বাক্ষর দেইনি।

মাদ্রাসার সহকারী সুপার মো. গোলজার হোসেন বলেন, আমার জানা মতে এ প্রতিষ্ঠানে ম্যানেজিং কমিটি গঠন করা হয়নি। প্রিজাইডিং কর্মকর্তা ও উপজেলা একাডেমিক সুপারভাইজার মো. বেলাল হোসেন স্যারও বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

তিনি আরও বলেন, নিয়োগ কমিটিতে আমাকে ভারপ্রাপ্ত সুপার দেখানো হয়েছে বলে শুনেছি। সুপার হুজুর নিজের ছেলেকে নিয়োগ দিতেই এই জালিয়াতি করেছেন, কারণ সুপার হয়ে নিজের ছেলেকে নিয়োগ দিতে আইনি জটিলতা রয়েছে।

প্রিজাইডিং কর্মকর্তা ও উপজেলা একাডেমিক সুপারভাইজার মো. বেলাল হোসেন বলেন, প্রিজাইডিং অফিসার হিসেবে দায়িত্ব পেয়ে ৭ অক্টোবর তফসিল ঘোষণা করি। এরপর শুধু মনোনয়নপত্র জমা নেওয়া হয়। বাকি কার্যক্রম সম্পন্ন না হওয়ায় কমিটি গঠন করা সম্ভব হয়নি।

তিনি আরও বলেন, শুনছি, ওই মাদ্রাসার সুপার ভুয়া কমিটি বানিয়ে নিয়োগও দিয়েছেন।

এ বিষয়ে মাদ্রাসার সুপার মো. শহিদুর রহমান বলেন, কমিটি হয়েছে। তবে নিয়োগ বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি ব্যস্ততা দেখিয়ে ফোন কেটে দেন। পরে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

অভিযুক্ত কমিটির সভাপতি ও ধর্মপুর আবদুল জব্বার ডিগ্রি কলেজের প্রভাষক আলহাজ্ব মো. ইব্রাহিম আলী সরকারের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

এ বিষয়ে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের নিয়োগ কমিটির সদস্য ও সুন্দরগঞ্জ উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসারের অতিরিক্ত দায়িত্বে থাকা জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা মো. আতাউর রহমান বলেন, ঈদের আগে ডিজির প্রতিনিধি ফোন করেছিলেন। কাগজপত্র ঠিক থাকলে নিয়োগ দিতে বলেছিলাম। এখন শুনছি কমিটিই হয়নি। এটা প্রমাণিত হলে নিয়োগ টিকবে না। তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

মাদ্রাসা অধিদপ্তরের মহাপরিচালকের প্রতিনিধি মো. জাহাঙ্গীর আলম চাকলাদার বলেন, ঈদের আগের দিন অফিস সহকারী কাম কম্পিউটার অপারেটর ও পরিচ্ছন্ন কর্মী পদে দুইজনকে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, কমিটি কীভাবে হয়েছে তা আমাদের জানার বিষয় নয়। তবে অবৈধভাবে কমিটি হয়ে থাকলে অভিযোগের ভিত্তিতে তা বাতিল করা হবে।

সময়ের আলো/আরবিএন 
  বিষয়:   গাইবান্ধা  সুন্দরগঞ্জ  মাদ্রাসা  ম্যানেজিং  কমিটি 


Advertisement
Loading...
Loading...
সারাদেশ- এর আরো খবর
Loading...
Loading...
Advertisement
© 2026 Daily Shomoyer Alo
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সৈয়দ শাহনেওয়াজ করিম, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড এর পক্ষে প্রকাশক মো. ফয়সাল রহমতউল্লাহ ফেরদৌস। নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।
ফোন : ৪১০৬২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : ৪১০৬২৩৭৫
সময়ের আলোর খবর পেতে ফলো করুন: