নিরাপত্তা নিয়ে পেন্টাগনের তথ্য মিথ্যা, দাবি মার্কিন সেনাদের

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক

গত ১ মার্চ কুয়েতের শুয়াইবা বন্দরে ইরানের ড্রোন হামলায় মার্কিন সেনাবাহিনীর রিজার্ভ ফোর্সের ৬ সদস্য নিহত এবং ২০ জনেরও বেশি

2026-04-11T22:34:27+00:00
2026-04-11T22:34:27+00:00
 
  রবিবার, ১৯ জুলাই ২০২৬,
৪ শ্রাবণ ১৪৩৩
রবিবার, ১৯ জুলাই ২০২৬
আন্তর্জাতিক
নিরাপত্তা নিয়ে পেন্টাগনের তথ্য মিথ্যা, দাবি মার্কিন সেনাদের
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশ: শনিবার, ১১ এপ্রিল, ২০২৬, ১০:৩৪ পিএম 
ইউএস মেরিন কর্পস। ছবি : পলিটিকো
গত ১ মার্চ কুয়েতের শুয়াইবা বন্দরে ইরানের ড্রোন হামলায় মার্কিন সেনাবাহিনীর রিজার্ভ ফোর্সের ৬ সদস্য নিহত এবং ২০ জনেরও বেশি আহত হন। এটি ইরান-যুক্তরাষ্ট্রের চলমান সংঘাতের মধ্যে প্রথম মার্কিন সামরিক প্রাণহানির ঘটনা।  

তবে সম্প্রতি এই হামলার প্রকৃতি এবং নিরাপত্তা প্রস্তুতি নিয়ে বর্তমানে মার্কিন প্রতিরক্ষা দফতর (পেন্টাগন) এবং ঘটনাস্থলে থাকা সেনাদের মধ্যে চরম বিরোধপূর্ণ বক্তব্য পাওয়া যাচ্ছে।   

মার্কিন প্রতিরক্ষা সচিব পিট হেগসেথ এর আগে জানিয়েছিলেন, একটি ইরানি ড্রোন বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা এড়িয়ে অত্যন্ত সুরক্ষিত বা ‘ফর্টিফাইড’ একটি টেকনিক্যাল অপারেশন সেন্টারে আঘাত হেনেছে। 

কিন্তু ১০৩তম সাস্টেইনমেন্ট কমান্ডের আহত সেনারা সিবিএস নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে এই দাবিকে সরাসরি ‘মিথ্যা’ বলে অভিহিত করেছেন। 

মার্কিন সেনাদের বর্ণনা অনুযায়ী, হামলার দিন সকালে মিসাইল অ্যালার্টের পর সবাই নিরাপদ আশ্রয়েই ছিলেন। কিন্তু হামলা হওয়ার ঠিক কিছুক্ষণ আগে তাদেরকে ‘অল ক্লিয়ার’ (বিপদমুক্ত) সংকেত দেওয়া হয়। সেই সংকেতের ৩০ মিনিট পরই ইরানের ড্রোনটি কম্পাউন্ডে আঘাত হানে। 

মার্কিন প্রতিরক্ষা সচিবের দাবি, ড্রোনটি অত্যন্ত সুরক্ষিত একটি দুর্গে আঘাত করেছে এবং এটি রাডার ফাঁকি দিয়ে প্রবেশ করেছিল। 

অন্যদিকে সেনাদের বক্তব্য, এটি একটি স্বল্প সুরক্ষিত স্থাপনা ছিল এবং পুরো ইউনিট আত্মরক্ষার জন্য ওই মুহূর্তে একেবারেই অপ্রস্তুত ছিল। এটি একটি সরাসরি আঘাত ছিল, যা প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার ব্যর্থতাকেই প্রকাশ করে। আমাদেরকে জেনেশুনেই ইরানি ড্রোন ও মিসাইল সীমার মধ্যে অর্থাৎ ‘থ্রেট জোন’-এর কাছে সরিয়ে নেওয়া হয়েছিল বলে মন্তব্য তাদের।  


এই ঘটনায় একজন সেনা সদস্য জানান, সবকিছু কেঁপে ওঠে, ঠিক যেন সিনেমার কোনো দৃশ্য। সঙ্গে সঙ্গেই কানে তালা লেগে গিয়েছিল এবং চারপাশে শুধু ধুলো আর ধোঁয়া ছিল। 

হামলার পর উদ্ধার অভিযানেও দুর্বলতা ছিল জানিয়ে সেনাদের তরফ থেকে আরও বলা হয়, উদ্ধার তৎপরতা ছিল অত্যন্ত নাজুক। আহত সেনারা নিজেরাই নিজেদের প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়েছেন এবং আহতদের হাসপাতালে নেওয়ার জন্য বেসামরিক যানবাহন ব্যবহার করতে বাধ্য হয়েছেন। 

এদিকে, সহকারী প্রতিরক্ষা সচিব শন পারনেল সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স-এ দাবি করেছেন, সেনাদের সুরক্ষায় সম্ভাব্য সব ধরনের ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছিল। 

তবে রয়টার্সের বরাতে এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, হামলার সময় সেখানে আদৌ কোনো সক্রিয় বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ছিল কিনা-তা স্পষ্ট নয়, কারণ ড্রোনটি আসার সময় কোনো সাইরেন বা সতর্কতা বাজেনি। 

এই পরস্পরবিরোধী তথ্যগুলো এখন মার্কিন প্রশাসনের ভেতরে ও বাইরে ব্যাপক বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। বিশেষ করে কেন সেনাদের একটি ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় কোনো কার্যকর প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ছাড়াই রাখা হয়েছিল সেটিই এখন নতুন করে বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। 


/ইউএমএইচ



  বিষয়:   মার্কিন সেনা  পেন্টাগন 


Loading...
Loading...
আন্তর্জাতিক- এর আরো খবর
Loading...
Loading...
© 2026 Daily Shomoyer Alo
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সৈয়দ শাহনেওয়াজ করিম, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড এর পক্ষে প্রকাশক মো. ফয়সাল রহমতউল্লাহ ফেরদৌস। নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।
ফোন : ৪১০৬২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : ৪১০৬২৩৭৫
সময়ের আলোর খবর পেতে ফলো করুন: