২০০৭ সালের ১১ এপ্রিল এশার নামাজ পড়ে মসজিদ থেকে বের হওয়ার সময় আততায়ীর গুলিতে নিহত হন ঝালকাঠির পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) অ্যাডভোকেট হায়দার হোসাইন। অভিভাবক হারানোর শোক কোনোভাবেই কাটাতে পারছেন না তার সন্তানরা। এদিনটি এলেই পুরো পরিবারের মধ্যে হাহাকার সৃষ্টি হয়। আতঙ্কে যবুথবু অবস্থায় পড়েন পরিবারের সবাই। এতে ওই পরিবারে আতঙ্ক সবসময়ই বিরাজমান থাকে।
ঝালকাঠি আদালতের সরকারি কৌঁসুলি (পিপি) ও জেলা জামায়াতের সাবেক আমির হায়দার হোসাইন ঝালকাঠিতে জেএমবির আত্মঘাতী হামলায় দুই বিচারক নিহত হওয়ার মামলায় রাষ্ট্র পক্ষের আইনজীবী ছিলেন। ওই মামলা পরিচালনার সময়ই অ্যাডভোকেট হায়দার হোসাইনকে হত্যার হুমকি দিয়েছিল জেএমবি। দুই বিচারক হত্যা মামলায় ২০০৬ সালের ২৯ মে শায়খ আবদুর রহমান, সিদ্দিকুল ইসলাম, জেএমবির সামরিক শাখার প্রধান আতাউর রহমানসহ সাতজনের ফাঁসির আদেশ দিয়েছিলেন আদালত।
তাদের ফাঁসি কার্যকর হয় ২০০৭ সালের ২১ মার্চ। এর ২০ দিন পর ২০০৭ সালের ১১ এপ্রিল জেএমবির জঙ্গিদের গুলিতে নিহত হন অ্যাডভোকেট হায়দার হোসাইন। এ ঘটনায় হায়দার হোসাইনের ছেলে তারিক ইবনে হায়দার অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিদের আসামি করে ঝালকাঠি থানায় হত্যা মামলা করেন।
এ মামলায় ২০১৫ সালের ১১ ফেব্রুয়ারি রায় দেন ঝালকাঠির অতিরিক্ত দায়রা জজ মো. আব্দুল হালিম।
তদন্ত প্রতিবেদনে অভিযুক্ত বরগুনার বেল্লাল হোসেন, আবু শাহাদাৎ মো. তানভীর ওরফে মেহেদী হাসান, খুলনার মুরাদ হোসেন, ঢাকার ছগির হোসেন ও আমীর হোসেনকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়। রায়ের পর ওই বছরই আসামিদের ডেথ রেফারেন্স অনুমোদনের জন্য হাইকোর্টে আসে। ডেথ রেফারেন্স মঞ্জুর করে আসামিদের আপিল খারিজ করে রায় দেন হাইকোর্ট। বিচারপতি সৌমেন্দ্র সরকার ও বিচারপতি শাহেদ নূর উদ্দিনের বেঞ্চ এ মামলার ডেথ রেফারেন্স গ্রহণ এবং আসামিদের আপিল, জেল আপিল খারিজ করে দিয়ে পূর্বের আদেশ বহাল রাখার রায় ঘোষণা করেন।
মামলার বাদী এবং পিপির একমাত্র সন্তান তারেক ইবনে হায়দার বলেন, আসামিরা বছরখানেক আগে কারাগারের ফোন থেকে আমাকে ফোন করে হুমকি দিয়েছিল। এরপর অপরিচিত এক ব্যক্তি আমার বাসার গেটে গিয়ে আমাকে খুঁজেছে। আমরা পরিবার নিয়ে চরম নিরাপত্তাহীনতা, উদ্বিগ্ন ও বিচার কার্যকর নিয়ে মারাত্মক হতাশায় ভুগছি বলেও অসহায়ত্ব প্রকাশ করেন তিনি।