এক দিনের কম সময়ে আবারও দুই নম্বরে নেমে গেল আবাহনী লিমিটেড। চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী মোহামেডানকে হারিয়ে শুক্রবার পয়েন্ট টেবিলের দুইয়ে উঠে আসে আকাশি-নীলরা। তবে অবস্থান ধরে রাখতে পারেনি। দিনের ব্যবধানে আবারও দুই নম্বর স্থান নিজেদের দখলে নিল ফর্টিস ফুটবল ক্লাব।
গতকাল বাংলাদেশ পুলিশ ফুটবল ক্লাবকে ২-০ গোলে হারিয়ে শিরোপা রেসে যোগ দেয় দলটি। পুলিশকে হারানোর অন্যতম নায়ক পিয়াস আহমেদ নোভা। ম্যাচের একেবারে অন্তিম মুহূর্তে গোলটি করেন এ ফরোয়ার্ড। এ ছাড়া সাফজয়ী অনূর্ধ্ব-২০ দলের সদস্য মিঠু চৌধুরী ফর্টিসের হয়ে অপর গোলটি করেন। এ জয়ে ১২ ম্যাচ শেষে ৭ জয়, ৩ ড্র এবং ২ হারে দলটির সংগ্রহ ২৪ পয়েন্ট। তিনে নেমে যাওয়া আবাহনীর পয়েন্ট ২২।
অনেক দিন পর গোলের দেখা পেলেন তরুণ ফরোয়ার্ড নোভা। চলতি মৌসুমে ২-৩টি ম্যাচ বাদে প্রায় সবগুলোতেই খেলা হয়েছে তার। তবে ফর্টিসকে কেবল এক গোলই উপহার দিতে পেরেছেন।
এ ব্যাপারে সময়ের আলোকে পিয়াস বলেন, ‘অনেক দিন পর গোলের দেখা পেলাম। দলের জয়ে অবদান রাখতে পেরে, গোল করতে পেরে আমি আনন্দিত। মৌসুমে এটি আমার প্রথম গোল। সবার কাছে দোয়া চাই যেন সুস্থ থেকে দলের জন্য অবদান রাখতে পারি।’
শিরোপা জয়ের ব্যাপারেও দারুণ আশাবাদী নোভা, ‘আমরা যেহেতু পয়েন্ট টেবিলের দুইয়ে আবারও চলে এসেছি, তা ছাড়া আমাদের দল যেভাবে পারফরম্যান্স করছে, শিরোপা জেতা অসম্ভব নয়।’ মৌসুমে দ্বিতীয়বারের মতো হারের তেতো স্বাদ নিল পুলিশ এফসি। ফর্টিসকে হারাতে পারলে টেবিলের চার নম্বরে উঠে আসার সুযোগ ছিল। কিন্তু হেরে ১৬ পয়েন্ট নিয়ে টেবিলের পাঁচ নম্বরেই রয়ে গেছে পুলিশ।
ফর্টিসের জয়ের দিন উৎসবে মেতেছেন বসুন্ধরা কিংসের ফুটবলাররাও। আরামবাগ ক্রীড়া সংঘের বিপক্ষে ২-১ গোলের কষ্টার্জিত জয় পেয়েছে দলটি। এ জয়ে শীর্ষস্থান অক্ষুণ্ন থাকল তাদের। ১২ খেলায় ৮ জয়, ৩ ড্র এবং ১ হারে কিংসের সংগ্রহ ২৭ পয়েন্ট। দুই নম্বরে থাকা ফর্টিসের চেয়ে এক পয়েন্টে এগিয়ে আছে তারা। হারে পয়েন্ট টেবিলের তলানিতেই পড়ে রইল আরামবাগ। ১২ খেলায় ২ জয়, ৩ ড্র এবং ৭ হারে দলটির সংগ্রহ মাত্র ৯ পয়েন্ট।
রেলিগেশন জোন থেকে কিছুতেই ওপরের দিকে যেতে পারছে না আরামবাগ। কিংস অ্যারেনায় গতকাল ম্যাচের শুরু থেকেই বসুন্ধরা কিংসের রাকিব, ফাহিম, সানডে ও দরিয়েলতনরা আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলে আরামবাগকে চাপে রাখেন। রাকিবের পাসে দরিয়েলতনের প্লেসিংয়ে কিংস প্রথম গোল পেয়েছে। এরপর দরিয়েলতনের ক্রসে ইমানুয়েল সানডের হেডে প্রথমার্ধেই ব্যবধান হয় ২-০। ৬৩ মিনিটে মিলস একটি গোল শোধ করলে ব্যবধান ২-১-এ নেমে আসে। আরামবাগ হারলেও দ্বিতীয়ার্ধে তারা ভালো ফুটবল উপহার দিয়েছে।