তওবাকারীর প্রতি আল্লাহর ভালোবাসা

মাজিদুর রহমান

ইসলাম

তওবা শব্দের অর্থ ফিরে আসা, অনুশোচনা করা ও অনুতাপ করা। ইসলামের পরিভাষায় তওবা বলা হয় অতীতে কৃত পাপকর্মের ওপর পরিতাপদগ্ধ

2026-04-12T15:21:58+00:00
2026-04-12T15:21:58+00:00
 
  রবিবার, ১৯ জুলাই ২০২৬,
৪ শ্রাবণ ১৪৩৩
রবিবার, ১৯ জুলাই ২০২৬
ইসলাম
তওবাকারীর প্রতি আল্লাহর ভালোবাসা
মাজিদুর রহমান
প্রকাশ: রোববার, ১২ এপ্রিল, ২০২৬, ৩:২১ পিএম 
তওবাকারীর প্রতি আল্লাহর ভালোবাসা। ছবি : সংগৃহীত
তওবা শব্দের অর্থ ফিরে আসা, অনুশোচনা করা ও অনুতাপ করা। ইসলামের পরিভাষায় তওবা বলা হয় অতীতে কৃত পাপকর্মের ওপর পরিতাপদগ্ধ ও অনুশোচিত হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে তা বর্জন করা এবং ভবিষ্যতে সেই পাপে লিপ্ত না হওয়ার দৃঢ় সংকল্পে আবদ্ধ হওয়া। পবিত্র কুরআনে আল্লাহ মুমিনদের আন্তরিকভাবে তওবা করার নির্দেশ দিয়েছেন। যারা কায়মনোবাক্যে তওবা করবে তাদের বেহেশতে প্রবিষ্ট করার প্রতিশ্রুতিও তিনি প্রদান করেছেন। আল্লাহ তায়ালা বলেছেন, ‘হে ঈমানদারগণ! তোমরা মহান আল্লাহর কাছে তওবা করো, আন্তরিক তওবা। আশা করা যায় তোমাদের পালনকর্তা মন্দ কর্মগুলো মোচন করে দেবেন এবং তোমাদের দাখিল করবেন জান্নাতে, যার তলদেশে প্রবাহিত হয় নহর-নদী’ (সুরা তাহরিম : ৮)। বান্দা তওবা করলে আল্লাহ খুশি হন এবং পুরস্কার দেন।

তওবায় আল্লাহর আনন্দ

কোনো মানুষ যদি পাপের সাগরে নিমজ্জিত থাকে, কলুষ-কালিমায় লিপ্ত থাকে, তা হলে আল্লাহ তায়ালা তার প্রতি অসন্তুষ্ট হন। পক্ষান্তরে যখন কোনো ব্যক্তি পাপ কর্ম বর্জন করে আল্লাহ তায়ালার দিকে ফিরে আসে, মহান আল্লাহকে স্মরণ করে তাঁর প্রতি মনোযোগী হয় ও কৃত অপকর্মের ব্যাপারে অনুশোচিত হয় এবং তওবা করে, তখন আল্লাহ অত্যন্ত সন্তুষ্ট ও আনন্দিত হন। রাসুল (সা.) বলেছেন, ‘মনে করো কোনো এক ব্যক্তি সফরের কোনো এক স্থানে অবতরণ করল, সেখানে প্রাণেরও ভয় ছিল। তার সঙ্গে সফরের বাহন ছিল। যার ওপর তার খাদ্য ও পানীয় ছিল, সে কিছুক্ষণের জন্য ঘুমিয়ে পড়ল এবং জেগে দেখল তার বাহন চলে গেছে। তখন সে গরমে ও পিপাসায় কাতর হয়ে পানির সন্ধানে বেরিয়ে পড়ল। কিন্তু পানি না পেয়ে সে বলল, আমি যে স্থানে ছিলাম সেখানেই ফিরে যাই। এরপর সে নিজ স্থানে ফিরে এসে আবার ঘুমিয়ে পড়ল। তারপর জেগে দেখল যে, বাহনটি তার পাশেই দাঁড়িয়ে আছে। তখন সে ব্যক্তি যতটা খুশি হয়, নিশ্চয়ই আল্লাহ তায়ালা তাঁর বান্দার তওবা করার কারণে এর চেয়েও অনেক অধিক খুশি হন।’ (বুখারি : ৬৩০৮)

মহানবী (সা.)-এর তওবা

আল্লাহর রাসুল (সা.) ছিলেন নিষ্পাপ ও মাসুম। তাঁর জীবনে কোনো ভুলভ্রান্তি ও অন্যায়-অপরাধ ছিল না। তিনি ছিলেন নিষ্কলঙ্ক ও নিষ্কলুষ। পাপের কালিমায় কলঙ্কিত না হওয়া সত্ত্বেও তিনি প্রতিদিন সত্তরবারের অধিক তওবা করতেন। হজরত আবু হুরায়রা (রা.) বলেন, আমি রাসুলুল্লাহ (সা.)-কে বলতে শুনেছি, ‘আল্লাহর শপথ! আমি প্রতিদিন আল্লাহর কাছে সত্তরবারেরও অধিক ইসতেগফার ও তওবা করে থাকি’ (বুখারি : ৬৩০৭)। অন্য আরেকটি হাদিসে আল্লাহর রাসুল (সা.)-এর দৈনিক একশবার তওবা করার কথা উল্লেখ করা হয়েছে। হজরত আবু হুরায়রা (রা.) বলেন, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, নিশ্চয়ই আমি দৈনিক শতবার আল্লাহর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করি এবং তওবা করি (ইবনে মাজাহ : ৩৮১৫)। মহানবী (সা.) সর্বপ্রকার পাপের কলঙ্ক ও কলুষতার কালিমা হতে মুক্ত থাকা সত্ত্বেও যদি দৈনিক একশতবার তওবা করেন, তা হলে আমাদের কতবার তওবা করা উচিত?

তওবাকারীকে আল্লাহ ভালোবাসেন

মানুষের মধ্যে সৎকাজ করার প্রবণতা যেমন আছে, তেমন আছে অসৎ কাজ করার প্রবণতা। সৃষ্টিগতভাবেই মানুষের স্বভাবের মধ্যে ভালো কাজ করার আগ্রহ গচ্ছিত রাখা হয়েছে। ঠিক তেমনিভাবে তাদের স্বভাব-প্রকৃতির মধ্যে মন্দ কাজ করার প্রেরণাও নিহিত রয়েছে। তাই মানুষের মাধ্যমে গুনাহ, ভুলভ্রান্তি ও অন্যায়-অপরাধ হয়ে যাওয়া স্বাভাবিক। পৃথিবীতে এমন কোনো ব্যক্তি নেই যার ভুল হয় না। যার দ্বারা অন্যায়-অপরাধ সংঘটিত হয় না। প্রতিটি মানুষই ভুল করে। 

কিন্তু ভুল করার পর যদি কোনো ব্যক্তি সেই ভুল হতে তওবা করে ফিরে আসে, তা হলে সেই ব্যক্তিকে আল্লাহ তায়ালা ভালোবাসেন ও পছন্দ করেন। মহান আল্লাহ বলেন, ‘নিশ্চয়ই আল্লাহ তওবাকারী এবং অপবিত্রতা থেকে যারা বেঁচে থাকে তাদের পছন্দ করেন।’ (সুরা বাকারা : ২২২)

নিষ্পাপ সমতুল্য শ্রেষ্ঠ ব্যক্তি

আদম সন্তানের মধ্যে এমন কোনো মানুষ নেই যার গুনাহ নেই। ইচ্ছায় বা অনিচ্ছায় প্রাত্যহিক জীবনে গুনাহ হয়েই যায়। জ্ঞাতসারে বা অজ্ঞাতসারে ভুলভ্রান্তি সংঘটিত হতেই থাকে। তবে ভুলকারীদের মধ্যে তারাই ভালো মানুষ যারা নিজেদের ভুল স্বীকার করে। আল্লাহ তায়ালার কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করে ও তওবা করে। হাদিস শরিফে পাপিষ্ঠ ব্যক্তিদের মধ্য হতে যারা তওবা করে তাদের শ্রেষ্ঠ বলে আখ্যায়িত করা হয়েছে। হজরত আনাস (রা.) বলেন, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, প্রত্যেক আদম সন্তানই গুনাহগার। আর গুনাহগারদের মধ্যে তওবাকারীরা উত্তম (ইবনে মাজাহ : ৪২৫১)। অন্য আরেকটি হাদিসে গুনাহগার তওবাকারী ব্যক্তিকে নিষ্পাপ মানুষের সমান্তরালে দাঁড় করানো হয়েছে। হজরত আবদুল্লাহ বিন মাসউদ (রা.) বলেন, মহানবী (সা.) বলেছেন, গুনাহ থেকে তওবাকারী নিষ্পাপ ব্যক্তিতুল্য। (ইবনে মাজাহ : ৪২৫০)

তওবা করায় ইহলৌকিক কল্যাণ ও পারলৌকিক মঙ্গল নিহিত রয়েছে। যদি কোনো ব্যক্তি তওবা করে, তা হলে আল্লাহ তায়ালা তাকে ইহকালে ক্ষমা করে দেবেন এবং পরকালে নাজাত দান করবেন। তওবাকারী ব্যক্তিদের সফল বলে আখ্যায়িত করে আল্লাহ তায়ালা বলেন, ‘মুমিনগণ, তোমরা সবাই আল্লাহর সামনে তওবা করো, যাতে তোমরা সফলকাম হতে পারো’ (সুরা নুর : ৩১)। তাই আসুন! আমরা তওবা করে নিজেদের ইহলৌকিক ও পারলৌকিক জীবনকে সাফল্যমণ্ডিত করে তুলি। মহান আল্লাহ সবাইকে তওফিক দান করুন।

সময়ের আলো/জেডআই


  বিষয়:   তওবা  ইসলাম 


Loading...
Loading...
ইসলাম- এর আরো খবর
Loading...
Loading...
© 2026 Daily Shomoyer Alo
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সৈয়দ শাহনেওয়াজ করিম, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড এর পক্ষে প্রকাশক মো. ফয়সাল রহমতউল্লাহ ফেরদৌস। নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।
ফোন : ৪১০৬২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : ৪১০৬২৩৭৫
সময়ের আলোর খবর পেতে ফলো করুন: