হকের পথে চলতে রবের দোয়া

মাহমুদ হাসান

ইসলাম

আল্লাহ তায়ালা দোষ এবং গুণ দুটোই সৃষ্টি করেছেন। যেমন বদান্যতা ও অপব্যয়, নম্রতা ও হীনতা, অহংকার ও আত্মমর্যাদাবোধ, আল্লাহর জন্য

2026-04-12T15:47:55+00:00
2026-04-12T15:47:55+00:00
 
  রবিবার, ১৯ জুলাই ২০২৬,
৪ শ্রাবণ ১৪৩৩
রবিবার, ১৯ জুলাই ২০২৬
ইসলাম
হকের পথে চলতে রবের দোয়া
মাহমুদ হাসান
প্রকাশ: রোববার, ১২ এপ্রিল, ২০২৬, ৩:৪৭ পিএম 
হকের পথে চলতে রবের দোয়া। ছবি : সংগৃহীত
আল্লাহ তায়ালা দোষ এবং গুণ দুটোই সৃষ্টি করেছেন। যেমন বদান্যতা ও অপব্যয়, নম্রতা ও হীনতা, অহংকার ও আত্মমর্যাদাবোধ, আল্লাহর জন্য সম্পর্ক নষ্ট করা এবং রাগের বশবর্তী হয়ে সম্পর্ক নষ্ট করা। এসব বিপরীতমুখী দোষ এবং গুণ বাহ্যত একরকম মনে হলেও এর প্রভাব, প্রতিক্রিয়া, উদ্দেশ্য এবং ভিত্তির মধ্যে রয়েছে বিরাট ব্যবধান। যেমন দানশীলতার উদ্দেশ্য হয় অন্যের সেবা ও উপকার আর অপব্যয়ের উদ্দেশ্য হয় নিজের ভোগ-বিলাসিতা। নম্রতার ভিত্তি হয় শিষ্টাচার ও ভদ্রস্বভাব আর হীনতার ভিত্তি হয় লোভ লালসা বা লজ্জাশূন্যতা। অহংকারের ভিত্তি হয় অপরকে হেয় মনে করা, এর প্রতিক্রিয়া হয় ন্যায় ও সত্যকে উপেক্ষা করা আর আত্মমর্যাদাবোধের ভিত্তি হয় অপমানজনক বিষয়কে এড়িয়ে চলা। যার প্রতিক্রিয়া হয় হীনস্বভাব পরিহার করা। আল্লাহর জন্য রাগান্বিত হওয়া, যার প্রতিক্রিয়া হয় নিজের পছন্দনীয় হলেও আল্লাহ-বিরোধী বিষয় পরিহার করা আর ব্যক্তিগত রাগের কারণে সম্পর্ক নষ্ট হলে তা হীনস্বার্থ-বিরোধী ভেবে সম্পর্ক নষ্ট হয়, যদিও সে ব্যক্তিটি দোষী না হয়।

পৃথিবীতে বিভিন্ন নদীর মোহনা রয়েছে, পাশাপাশি দুটি নদীর পানির একটি নোনা, অপরটি মিষ্টি। একটি পরিচ্ছন্ন, অপরটি ঘোলাটে। একটি আরেকটির সঙ্গে মিশে না। পবিত্র কুরআনে আল্লাহ তায়ালা এর দৃষ্টান্ত দিয়ে বান্দাকে শিখিয়েছেন ‘তিনি দুই সমুদ্রকে মুখোমুখি করে প্রবাহিত করেছেন, যারা পরস্পরে মিলিত হয়। তবে উভয়ের মধ্যে রয়েছে এক অন্তরাল যার কারণে তারা অতিক্রম করতে পারে না।’ (সুরা আর-রহমান : ১৯-২০)।

আল্লাহ বলতে চান দেখ আমার বান্দা, ভালো-মন্দ একসঙ্গে থাকবে। কখনো একই রকম মনে হবে। তাই বলে মন্দকে গ্রহণ করা যাবে না। ভালো মন্দ দুটিই মানুষের সামনে আসবে। মুমিনের কাজ হবে মন্দ স্বভাব পরিহার করে ভালো গুণ অর্জন করা। ভালো গুণ চেনার জন্য কোথাও যেতে হয় না। মানুষের রুচিবোধ এবং অন্তরই বলে দেয় কোনটি ভালো, কোনটি মন্দ। কোনটি গ্রহণীয়, কোনটি বর্জনীয়। এ সম্পর্কে হাদিসের বর্ণনা রয়েছে, হজরত ওয়াবেসা (রা.) নবীজি (সা.)-এর দরবারে হাজির হলেন। নবীজি (সা.) বললেন, হে ওয়াবেসা! তুমি নেক-বদ ও ভালো-মন্দের ব্যবধান সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করতে এসেছো? সাহাবি বললেন, জি, ইয়া রাসুলাল্লাহ। নবীজি (সা.) তার বুকে আলতো থাপ্পড় দিয়ে বললেন ন্যায়-অন্যায় ও ভালো-মন্দের বিচার তোমার বিবেকের কাছে জিজ্ঞাসা করো। এ কথাটি তিনবার বলে নবীজি (সা.) বললেন, নেক, সওয়াব এবং ভালো হচ্ছে যার প্রতি বিবেক আশ্বস্ত হয়, অন্তর প্রশান্ত হয়। পক্ষান্তরে, খারাপ ও গুনাহ হচ্ছে, যে ব্যাপারে বিবেকে খটকা লাগে, অন্তরে দ্বিধা ও সংশয়ের সৃষ্টি হয়। (মুসনাদে আহমাদ : ৪/২২৮)

ভালো স্বভাব অর্জনের জন্য এবং এর ওপর অবিচল থাকার জন্য নবীজি (সা.) দোয়া করতেন ‘আল্লাহুম্মা আরিনাল হাক্কা হাক্কাও, ওয়ারজুকনা ইত্তিবাআ। ওয়া আরিনিল বাতিলা বাতিলাও ওয়ারজুকনা ইজতিনাবা’, অর্থাৎ, ‘হে আল্লাহ! আমাকে ভালোকে ভালো করে দেখান, এর ওপর আমল করার তওফিক দান করুন এবং মন্দ ও খারাপকে খারাপ করে দেখান, এর থেকে বেঁচে থাকার তওফিক দান করুন।’ এভাবে প্রতিদিন মুমিন বান্দা তার রবের কাছে দোয়া করবে আর নিজের ভেতরকার মন্দ স্বভাবগুলা পরিহার করবে। তা হলেই ইবাদত ভালো লাগবে। এর সুফল পাওয়া যাবে। আল্লাহ আমাদের ভালো গুণ এবং বেশি বেশি আমলের মাধ্যমে অধিক সওয়াব অর্জনের তওফিক দান করুন।                                                                                                                                           



  বিষয়:   ইসলাম 


Loading...
Loading...
ইসলাম- এর আরো খবর
Loading...
Loading...
© 2026 Daily Shomoyer Alo
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সৈয়দ শাহনেওয়াজ করিম, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড এর পক্ষে প্রকাশক মো. ফয়সাল রহমতউল্লাহ ফেরদৌস। নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।
ফোন : ৪১০৬২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : ৪১০৬২৩৭৫
সময়ের আলোর খবর পেতে ফলো করুন: