কেন ইরান যুদ্ধে সবচেয়ে বড় ‘লুজার’ ট্রাম্প

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক

সব সংঘাতে কেউ না জিতলেও, অন্তত একটি পক্ষ হারেই। যদি ইরানের সঙ্গে এই যুদ্ধবিরতি সত্যিই সংঘাতের ইতি টানে, তাহলে সেখানে

2026-04-12T17:58:39+00:00
2026-04-12T17:58:39+00:00
 
  বুধবার, ২ সেপ্টেম্বর ২০২৬,
১৮ ভাদ্র ১৪৩৩
বুধবার, ২ সেপ্টেম্বর ২০২৬
আন্তর্জাতিক
দ্য ইকোনমিস্টের প্রতিবেদন
কেন ইরান যুদ্ধে সবচেয়ে বড় ‘লুজার’ ট্রাম্প
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশ: রোববার, ১২ এপ্রিল, ২০২৬, ৫:৫৮ পিএম 
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ছবি : দ্য জাপান নিউজ
সব সংঘাতে কেউ না জিতলেও, অন্তত একটি পক্ষ হারেই। যদি ইরানের সঙ্গে এই যুদ্ধবিরতি সত্যিই সংঘাতের ইতি টানে, তাহলে সেখানে সবচেয়ে বড় পরাজিত পক্ষ হচ্ছেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। এই যুদ্ধ তার মূল কৌশলগত লক্ষ্যগুলোকে পিছিয়ে দিয়েছে এবং যুক্তরাষ্ট্রের শক্তি প্রয়োগের নতুন ধারণার সীমাবদ্ধতাও প্রকাশ করেছে।

ভঙ্গুর শান্তি আলোচনা 

Advertisement
বর্তমান শান্তি পরিস্থিতি অত্যন্ত নাজুক। এই যুদ্ধবিরতি লেবাননকে অন্তর্ভুক্ত করে কি না, তা নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে মতপার্থক্য রয়ে গেছে। একইভাবে, হরমুজ প্রণালী কীভাবে চালু রাখা হবে, সেটিও বড় বিরোধের বিষয়। এমনকি ইসলামাবাদে কী ধরনের পরিকল্পনা নিয়ে আলোচনা হবে, তা নিয়েও দুই পক্ষ একমত হতে পারেনি।

ট্রাম্প আবার যুদ্ধে জড়াবেন না—এমন ধারণার বড় কারণ হলো, তিনি এখন বুঝতে পেরেছেন এই সংঘাত শুরু করাই ভুল ছিল। ইরানকে ধ্বংসের হুমকি দিয়ে তার করা কঠোর মন্তব্যগুলো আসলে নিজের পিছু হটা আড়াল করার চেষ্টা। নতুন করে যুদ্ধ শুরু হলে বৈশ্বিক বাজারে অস্থিরতা তৈরি হবে, যা তার ঘোষিত ‘মধ্যপ্রাচ্যের সোনালি যুগ’ ধারণাকেও দুর্বল করে দেবে।

ইরানের টিকে থাকার সংগ্রাম

ইরানের পক্ষেও যুদ্ধ দীর্ঘায়িত করা সহজ নয়। তাদের শীর্ষ নেতারা হামলার লক্ষ্যবস্তু হচ্ছেন, অবকাঠামো ধ্বংস হচ্ছে এবং অর্থনীতি মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তবুও তেহরান মনে করছে, সময় তাদের পক্ষে কাজ করছে এবং আলোচনায় তারা তুলনামূলক শক্ত অবস্থানে রয়েছে। কারণ যুক্তরাষ্ট্র দীর্ঘ সময় ধরে স্থায়ীভাবে সামরিক চাপ ধরে রাখতে পারবে না।

সম্ভাব্য পরিণতি হতে পারে—একটি দুর্বল কিন্তু টিকে থাকা ইরানি শাসনব্যবস্থা, যা আলোচনায় সর্বোচ্চ সুবিধা আদায়ের চেষ্টা করবে। তারা বিপুল পরিমাণ ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হারিয়েছে বা ব্যবহার করেছে, যা পুনর্গঠন করতে সময় লাগবে। তবে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের বিপুল সংখ্যক হামলায় ইরানের অর্থনীতি কয়েক বছর পিছিয়ে গেছে।

ট্রাম্প এটিকে ‘বড় জয়’ হিসেবে উপস্থাপন করলেও, তার ঘোষিত তিনটি লক্ষ্য—মধ্যপ্রাচ্যে স্থিতিশীলতা আনা, ইরানের বর্তমান শাসনব্যবস্থা বদলানো এবং তাদের পারমাণবিক সক্ষমতা স্থায়ীভাবে বন্ধ করা, এসবের আলোকে এটিকে সফল বলা কঠিন।

আঞ্চলিক নিরাপত্তা ও পারমাণবিক ঝুঁকি

এই যুদ্ধ মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করেছে। যুদ্ধের আগে ইসরায়েল ইরানের প্রক্সি নেটওয়ার্ক আংশিকভাবে দুর্বল করেছিল। কিন্তু এখন ইরান উপসাগরীয় অঞ্চলে হামলা এবং হরমুজ প্রণালীতে জাহাজ চলাচল বাধাগ্রস্ত করে নতুন চাপ তৈরি করেছে। তারা এমনকি প্রণালী ব্যবহারের ওপর নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠারও চেষ্টা করছে।
 
উপসাগরীয় দেশগুলো হয়তো বিকল্প পথ তৈরি করবে, কিন্তু ইরান গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোয় আঘাত হানার সক্ষমতা ধরে রাখবে। ফলে এসব দেশকে ভাবতে হচ্ছে, তারা কি যুক্তরাষ্ট্রের ওপর নির্ভর করবে, নাকি নিজেদের নিরাপত্তার জন্য নতুন কৌশল নেবে বা ইরানের সঙ্গে সমঝোতায় যাবে।


ট্রাম্পের ভুল হিসাব

ট্রাম্প হয়তো আশা করেছিলেন, ইরানের জনগণ তাদের শাসনব্যবস্থার বিরুদ্ধে উঠে দাঁড়াবে। কিন্তু এখন সেই সম্ভাবনা আরও কমে গেছে। যুদ্ধের আগে শাসনব্যবস্থা অনেক দুর্বল ছিল, কিন্তু যুদ্ধ পরিস্থিতি তাদের অভ্যন্তরীণ ক্ষমতার পুনর্বিন্যাস ঘটিয়েছে।

এই সংঘাত ইরানের পারমাণবিক ঝুঁকিও বাড়িয়েছে। তাদের কিছু অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হলেও উল্লেখযোগ্য পরিমাণ সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম এখনো রয়ে গেছে। নিষেধাজ্ঞা থেকে মুক্তি পেতে চাইলেও, ভবিষ্যৎ হামলা ঠেকাতে ইরান আরও শক্তিশালী প্রতিরক্ষা—এমনকি পারমাণবিক সক্ষমতা—অর্জনের দিকে ঝুঁকতে পারে, যা আঞ্চলিক অস্ত্র প্রতিযোগিতা তৈরি করবে।

যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সীমাবদ্ধতা

ইসরায়েল এখন আগের চেয়ে শক্তিশালী হলেও এই যুদ্ধ তাদের সামরিক ক্ষমতার সীমা দেখিয়েছে। তাদের আগাম হামলার কৌশল অঞ্চলে ভীতি ও ক্ষোভ বাড়িয়েছে। একইভাবে, যুক্তরাষ্ট্রও তার নৈতিক অবস্থান হারানোর ঝুঁকিতে পড়েছে।

ট্রাম্পের বক্তব্য ও নীতিতে আন্তর্জাতিক আইন ও নৈতিকতার গুরুত্ব কমিয়ে দেখানো হয়েছে। কিন্তু এই যুদ্ধ প্রমাণ করেছে, কেবল শক্তি প্রয়োগ করে দীর্ঘমেয়াদি কৌশলগত সাফল্য অর্জন সম্ভব নয়। বরং পরিকল্পনাহীন শক্তি প্রয়োগ বিপরীত ফল দেয়।

সবশেষে, এই সংঘাত দেখিয়েছে, ন্যায্য যুদ্ধের ধারণা নির্ভর করে বিচক্ষণ সিদ্ধান্তের ওপর, যেখানে সহিংসতা হয় শেষ বিকল্প। কিন্তু এখানে সেই বিবেচনার অভাব ছিল। ফলে অতিরিক্ত শক্তি প্রয়োগ কৌশলগত ব্যর্থতায় পরিণত হয়েছে।

/ইউএমএইচ
  বিষয়:   ট্রাম্প  ইরান  যুদ্ধ 


Loading...
Loading...
আন্তর্জাতিক- এর আরো খবর
Loading...
Loading...
Advertisement
© 2026 Daily Shomoyer Alo
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সৈয়দ শাহনেওয়াজ করিম, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড এর পক্ষে প্রকাশক মো. ফয়সাল রহমতউল্লাহ ফেরদৌস। নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।
ফোন : ৪১০৬২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : ৪১০৬২৩৭৫
সময়ের আলোর খবর পেতে ফলো করুন: