বৈশাখ ঘিরে ব্যস্ত আখাউড়ার মৃৎশিল্পীরা

আখাউড়া (ব্রাহ্মণবাড়িয়া) প্রতিনিধি

সারাদেশ

বাঙালির আবেগ বাংলা নববর্ষ। এই নতুন বছরকে সাজাতে থাকে নানা প্রস্তুতি। এর বিশেষ অংশ মৃৎশিল্পী। তারা বৈশাখকে সাজাতে এতটাই ব্যস্ততা

2026-04-13T11:26:01+00:00
2026-04-13T11:29:39+00:00
 
  রবিবার, ১৯ জুলাই ২০২৬,
৪ শ্রাবণ ১৪৩৩
রবিবার, ১৯ জুলাই ২০২৬
সারাদেশ
বৈশাখ ঘিরে ব্যস্ত আখাউড়ার মৃৎশিল্পীরা
আখাউড়া (ব্রাহ্মণবাড়িয়া) প্রতিনিধি
প্রকাশ: সোমবার, ১৩ এপ্রিল, ২০২৬, ১১:২৬ এএম  আপডেট: ১৩.০৪.২০২৬ ১১:২৯ এএম
আখাউড়ার মৃৎশিল্পীরা মাটির তৈরি পণ্যে রং করছেন তাদের নিপুণ হাতে। ছবি : সময়ের আলো
বাঙালির আবেগ বাংলা নববর্ষ। এই নতুন বছরকে সাজাতে থাকে নানা প্রস্তুতি। এর বিশেষ অংশ মৃৎশিল্পী। তারা বৈশাখকে সাজাতে এতটাই ব্যস্ততা থাকে যে দিন-রাত চোখের পাতা এক করতে পারে না।

ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার আখাউড়া উপজেলার শেষ আর বিজয়নগরের শুরুর গ্রাম শিব নগরের পাল বাড়িগুলোতে চলছে শেষ মুহূর্তের ব্যস্ততা।

সেখানের মৃৎশিল্পীরা জানান, বছরের এই একটা উৎসব ঘিরে থাকে অনেক আশা থাকে। এমনিতে সারা বছর মৃৎশিল্পের তেমন চাহিদা থাকে না। নববর্ষে দেশের বিভিন্ন স্থানে বৈশাখী মেলা বসে। এ মেলায় কেবল চাহিদা থাকে। তাই সারা বছর উৎসবটার অপেক্ষা করতে হয়। 

বছরজুড়ে মাটির তৈজসপত্র তৈরি করে কোনোমতে জীবিকা নির্বাহ করলেও মেলার জন্য তৈরি করেন বাহারি রকমের সব মাটির খেলনা।

ওই গ্রামে গিয়ে দেখা যায়, বিভিন্ন ধরনের মাটির সামগ্রী তৈরিতে ব্যস্ত রয়েছেন কারিগরেরা। এর মধ্যে রয়েছে মাটির হাঁড়ি-পাতিল, পুতুল, হাতি, ঘোড়া, নৌকা, টিয়া, সিংহ, দোয়েল, কচ্ছপ, মাছ, হাঁস ও বাহারি মাটির ব্যাংক। পয়লা বৈশাখ থেকে পুরো মাস চলবে এ ব্যবসা।


শিব নগর গ্রামের নরেশ চন্দ্র পাল বলেন, এখন আর মাটির জিনিসের তেমন কদর নেই। সারা বছর টানাপড়েনে চলতে হয়। পূর্বপুরুষের পেশা তাই ইচ্ছে হলেও ছাড়তে পারছি না। বৈশাখ মাস এলে মেলায় মাটির তৈরি খেলনা ও সামগ্রীর চাহিদা থাকে। তাই এই সময়টায় ভালো আয় হয়।

গ্রামের আরেক বাসিন্দা মদির পাল বলেন, এ শিল্পের জন্য প্রয়োজন হয় পরিষ্কার এঁটেল মাটি। কিন্তু এখন এই মাটির অভাব। তার ওপরে রংসহ আনুষঙ্গিক ব্যয় অনেক বেড়েছে। সে অনুযায়ী উৎপাদিত পণ্যের দাম অতটা বাড়েনি। তারপরও পূর্বপুরুষেরা এ পেশার সঙ্গে জড়িত ছিলেন, তাই সেই ঐতিহ্য ধরে রাখার চেষ্টা করছি। এসব মাটির খেলনা ৩০ থেকে ১৫০ টাকায় পর্যন্ত বিক্রি হয়।

রমেশ পাল নামে এক মৃৎশিল্পী বলেন, বাজারে এখন মাটির তৈরি পণ্যের কোনো কদর নেই। প্লাস্টিক পণ্যের ওপর মজেছে মানুষ। ঐতিহ্যের প্রতি মানুষের দৃষ্টি ক্রমেই কমে যাচ্ছে। কুমাররা কীভাবে বেঁচে আছে, তারা তাদের পারিশ্রমিক অনুযায়ী ন্যায্যমূল্য পায় কি না এ খোঁজখবর কেউ রাখে না। সরকার সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা যদি এ পেশাকে বাঁচিয়ে রাখতে এখনই যথাযথ প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ না নেন, তাহলে একসময় মৃৎশিল্পের বিলুপ্তি ঘটবে।

বাঙালির হাজার বছরের ইতিহাস, সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যের এক অনবদ্য রূপ মৃৎশিল্প। এর সঙ্গে একদিকে জড়িয়ে আছে জীবনের প্রয়োজন আর অন্যদিকে নান্দনিকতা ও চিত্রকলার বহিঃপ্রকাশ। যে কারণে এই শিল্প বাঙালির নিজস্ব শিল্প, সংস্কৃতি আর ঐতিহ্যের অংশ।

সময়ের আলো/জোই


  বিষয়:   বাংলা নববর্ষ  মৃৎশিল্পী  আখাউড়া  ব্রাহ্মণবাড়িয়া 


Loading...
Loading...
সারাদেশ- এর আরো খবর
Loading...
Loading...
© 2026 Daily Shomoyer Alo
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সৈয়দ শাহনেওয়াজ করিম, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড এর পক্ষে প্রকাশক মো. ফয়সাল রহমতউল্লাহ ফেরদৌস। নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।
ফোন : ৪১০৬২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : ৪১০৬২৩৭৫
সময়ের আলোর খবর পেতে ফলো করুন: