সন্তান ভূমিষ্ঠ হওয়ার পর পিতার দায়িত্ব

মুফতি আলমগীর ওসমান

ইসলাম

সন্তান মহান আল্লাহর বিশেষ দান। সন্তানকে আদর্শবান ও উন্নত চারিত্রিক গুণাবলির অধিকারী হিসেবে গড়ে তুলতে সন্তানের জীবনের সূচনা লগ্ন থেকেই

2026-04-13T15:41:04+00:00
2026-04-13T15:41:04+00:00
 
  রবিবার, ১৯ জুলাই ২০২৬,
৪ শ্রাবণ ১৪৩৩
রবিবার, ১৯ জুলাই ২০২৬
ইসলাম
সন্তান ভূমিষ্ঠ হওয়ার পর পিতার দায়িত্ব
মুফতি আলমগীর ওসমান
প্রকাশ: সোমবার, ১৩ এপ্রিল, ২০২৬, ৩:৪১ পিএম 
সন্তান ভূমিষ্ঠ হওয়ার পর পিতার দায়িত্ব। ছবি : সংগৃহীত
সন্তান মহান আল্লাহর বিশেষ দান। সন্তানকে আদর্শবান ও উন্নত চারিত্রিক গুণাবলির অধিকারী হিসেবে গড়ে তুলতে সন্তানের জীবনের সূচনা লগ্ন থেকেই ইসলামি আদর্শ অনুসরণ করা চাই। প্রতিটি মা-বাবার কর্তব্য, নবজাতকের জীবনের সূচনাটা নবীজি (সা.)-এর নির্দেশিত সুন্নতের মাধ্যমে যেন হয়, সেদিকে খেয়াল রাখা। সন্তান ভূমিষ্ঠ হলে বাবার ওপর ৫টি দায়িত্ব অর্পিত হয়। অন্যভাবে বললে, পৃথিবীতে আগমনের পর নবজাতক তার বাবার কাছ থেকে পাঁচটি বিষয়ের অধিকার রাখে। বাবার কর্তব্য, নবাগত মেহমানের আপ্যায়নে অবহেলা না করা। জীবনের শুরু যদি সুন্দর হয়, বাকি জীবনেও এর প্রভাব পড়বে আশা করি। 

কানে আজান ও ইকামত

নবজাতক শিশু ভূমিষ্ঠের পর উত্তম রূপে গোসল দিয়ে ডান কানে আজান ও বাম কানে ইকামত দেওয়া সুন্নত। হজরত আবু রাফে (রা.) বলেন, ‘ফাতেমার (রা.) ঘরে হাসান ইবনে আলি ভূমিষ্ঠ হলে, আমি নবীজি (সা.)-কে তার কানে আজান দিতে দেখেছি’ (তিরমিজি : ৪/৮২)। অন্য হাদিসে এসেছে, ইবনে আব্বাস (রা.) বলেন, হাসান ইবনে আলির জন্মগ্রহণের দিন নবীজি (সা.) তার ডান কানে আজান ও বাম কানে ইকামত দিয়েছিলেন। (শুআবুল ইমান : ৬/৩৯০)। মহাদ্দিসগণ এই হাদিসের ব্যাখ্যায় বলেন, নবজাতকের কানে আজান ও ইকামত দেওয়ার অর্থ হলো, আজান-ইকামতের মাধ্যমে শিশুর কানে আল্লাহর নাম পৌঁছানো উদ্দেশ্য। যেন এর প্রভাবে তার ঈমান সুদৃঢ় হয় এবং শয়তানের প্ররোচনা হতে নিরাপদ হয়।

নবজাতককে মিষ্টিমুখকরণ

সন্তান ভূমিষ্ঠের পর তাহনিক করা সুন্নত। তাহনিক অর্থ খেজুর চিবিয়ে চর্বিত খেজুরের কিছু অংশ নবজাতকের মুখে লাগানো। যাতে এর কিছু রস তার পেটে পৌঁছে। খেজুর সহজলভ্য না হলে যেকোনো মিষ্টি দ্রব্য দ্বারাও তাহনিক করা যায়। এ সম্পর্কে হাদিসে বর্ণিত হয়েছে, হজরত আয়েশা (রা.) বলেন, ‘নবীজি (সা.)-এর কাছে কোনো নবজাতক শিশুকে পেশ করা হলে তিনি তাদের জন্য বরকতের দোয়া করতেন ও তাহনিক করে (খেজুর চিবিয়ে তাদের মুখে) দিতেন।’ (মুসলিম : ৫৪৩৪)।

মাথা মুণ্ডন 

শিশু জন্মের সপ্তম দিনে মাথা মুণ্ডন করে চুলের ওজন পরিমাণ রূপা (অর্থ) দান করা মুস্তাহাব। হজরত আনাস ইবনে মালেক (রা.) বর্ণনা করেন, নবীজি (সা.) সপ্তম দিন হাসান ও হুসাইনের চুল কাটার নির্দেশ দেন এবং চুলের ওজন পরিমাণ রূপা সদকা করেন। (তিরমিজি)। অন্য হাদিসে এসেছে, হজরত আলি (রা.) বলেন, ‘নবীজি (সা.) হাসানের পক্ষ থেকে একটি বকরি আকিকা দিয়েছেন এবং বলেছেন, হে ফাতেমা, তার মাথা মুণ্ডন কর ও তার চুলের ওজন পরিমাণ রৌপ্য সদকা করো।’ (তিরমিজি : ১৪৬১)

শিশুর নামকরণ

নবজাতক শিশু ভূমিষ্ঠের পর সপ্তম দিনে সন্তানের জন্য একটি শ্রুতিমধুর অর্থবোধক নাম রাখা প্রত্যেক মা-বাবার গুরুদায়িত্ব। এ ব্যাপারে নবীজি (সা.) বলেছেন, ‘কেয়ামতের দিন তোমাদের ডাকা হবে তোমাদের ও তোমাদের বাবার নাম নিয়ে (অর্থাৎ, এভাবে ডাকা হবে, অমুকের ছেলে অমুক)। তাই তোমরা সুন্দর নাম রাখ’ (আবু দাউদ : ৪৯৪৮)। মানুষের জীবনে নামের প্রভাব রয়েছে। নামের প্রভাব পরবর্তী জীবনে সন্তানের স্বভাব চরিত্রে শুভ্রতা ফুটে ওঠে। জন্মের সপ্তম দিনে নাম রাখা সুন্নত। নবীজি (সা.) বলেছেন, ‘প্রতিটি সন্তান আকিকার সঙ্গে আবদ্ধ থাকে। সপ্তম দিনে তার পক্ষ থেকে পশু জবাই করবে, তার মাথা মুণ্ডিয়ে দেবে এবং তার নাম রাখবে।’ (আবু দাউদ : ২৮৩১)। আল্লাহ তায়ালার কাছে সবচেয়ে প্রিয় নাম হলো, আব্দুল্লাহ ও আব্দুর রহমান। আল্লাহর বহু গুণবাচক নাম রয়েছে; ওইসব নাম রাখতে চাইলে শুরুতে ‘আবদ’ শব্দ লাগাতে হবে। নবী-রাসুল ও অলি-বুজুর্গ এবং বড় মনীষীদের নামের সঙ্গে মিলিয়ে নাম রাখা উত্তম। 

আকিকা করা

সন্তান জন্মের পর আল্লাহ তায়ালার শুকরিয়া আদায়ের লক্ষ্যে জন্মের সপ্তম দিনে পশু জবাই করাকে আকিকা বলে। এর দ্বারা সন্তানের ওপর থেকে বালা-মসিবত দূর হয়। নবীজি (সা.)-কে আকিকা সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করলে তিনি বলেন, ‘যে ব্যক্তি সন্তানের আকিকা করার ইচ্ছা করে সে যেন তা পালন করে। ছেলের জন্য সমমানের দুটি ছাগল। আর মেয়ের জন্য একটি’ (মুসান্নাফে আবদুর রাজ্জাক : ৭৯৬১)। অন্য হাদিসে রয়েছে, নবীজি (সা.) বলেছেন, ‘সন্তানের সঙ্গে আকিকার বিধান রয়েছে। তোমরা তার পক্ষ থেকে রক্ত প্রবাহিত করো (অর্থাৎ, পশু জবাই করো) এবং সন্তানের শরীর থেকে কষ্টদায়ক বস্তু (চুল) দূর করে দাও’ (বুখারি : ৫৪৭২)। উল্লেখ্য, সন্তানের পক্ষ থেকে আকিকা অর্থাৎ, পশুর রক্ত প্রবাহিত করা জরুরি। 

আত্মীয়-স্বজন ও পাড়া-প্রতিবেশীকে দাওয়াত করে খাওয়ানো জরুরি নয়। খাওয়ালে ভালো। মনে রাখতে হবে, আকিকার মূল কাজ পশুর রক্ত প্রবাহিত করা, অনুষ্ঠান করে খাওয়ানো নয়। আকিকার গোশত সন্তানের পিতামাতা, আত্মীয়স্বজন সবাই খেতে পারবে। আল্লাহ সবাইকে বোঝার ও সঠিকভাবে আমল করার তওফিক দিন।

সময়ের আলো/জেডআই


  বিষয়:   ইসলাম  সন্তান  সময়ের আলো 


Loading...
Loading...
ইসলাম- এর আরো খবর
Loading...
Loading...
© 2026 Daily Shomoyer Alo
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সৈয়দ শাহনেওয়াজ করিম, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড এর পক্ষে প্রকাশক মো. ফয়সাল রহমতউল্লাহ ফেরদৌস। নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।
ফোন : ৪১০৬২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : ৪১০৬২৩৭৫
সময়ের আলোর খবর পেতে ফলো করুন: