কুষ্টিয়ার দৌলতপুরে পবিত্র কোরআন অবমাননার অভিযোগকে কেন্দ্র করে সহিংস ঘটনার পর এলাকায় চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে। এই পরিস্থিতিতে প্রখ্যাত বাউল সংগীতশিল্পী শফি মণ্ডলের বাড়িতে নিরাপত্তা জোরদার করতে পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।
সোমবার (১৩ এপ্রিল) স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, একটি দরবার শরিফে হামলা, ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনার পাশাপাশি ‘পীর’ আব্দুর রহমান শামীম ওরফে কালান্দার বাবা (৬০) হত্যাকাণ্ডের পর পরিস্থিতি আরও অস্থিতিশীল হয়ে ওঠে।
দৌলতপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আরিফুর রহমান বলেন, নিরাপত্তাজনিত শঙ্কা থেকেই শিল্পী শফি মণ্ডলের বাড়িতে পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। তার বাড়িতে হামলার সুনির্দিষ্ট কোনো তথ্য না থাকলেও সতর্কতামূলক ব্যবস্থা হিসেবে এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।
বর্তমানে শফিমণ্ডল ঢাকায় অবস্থান করছেন। ফোনে তিনি বলেন, এক মাস ধরে তিনি গ্রামের বাড়িতে নেই এবং স্থানীয় পরিস্থিতি সম্পর্কে বিস্তারিত জানেন না।
এ বিষয়ে শিল্পীর মেয়ে লিনা মণ্ডল জানান, তার বাবা একজন সাধক শিল্পী এবং সংগীতচর্চার অংশ হিসেবে বিভিন্ন দরবারে যাতায়াত করেন। ফিলিপনগরে তাদের বাড়ি হওয়ায় সংশ্লিষ্ট দরবার শরিফেও তিনি গিয়েছিলেন। ওই সময়ের কিছু ছবি ও ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দিয়ে একটি পক্ষ বিভ্রান্তি তৈরি করছে বলে দাবি করেন তিনি।
তিনি আরও বলেন, তার বাবা লালন দর্শনের অনুসারী এবং সাঁইজির বাণী প্রচারে কাজ করছেন। একটি চক্র উদ্দেশ্য প্রণোদিতভাবে পরিস্থিতি ঘোলাটে করছে বলেও অভিযোগ করেন লিনা মণ্ডল।
আরও জানা যায়, সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিওকে কেন্দ্র করে এ ঘটনার সূত্রপাত। ৩৬ সেকেন্ডের ওই ভিডিওতে ‘পীর’ আব্দুর রহমান শামীমের বিরুদ্ধে কোরআন নিয়ে আপত্তিকর মন্তব্যের অভিযোগ ওঠে। ভিডিওতে তার পাশে বসা অবস্থায় শফি মণ্ডলকে দেখা যায়।
ভিডিওটি ছড়িয়ে পড়ার পর শনিবার (১১ এপ্রিল) দুপুরে দৌলতপুর উপজেলার ফিলিপনগর এলাকায় বিক্ষুব্ধ জনতা শামীমকে পিটিয়ে ও কুপিয়ে হত্যা করে। এ সময় দরবার শরিফে ব্যাপক ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটে এবং অন্তত তিনজন আহত হন।
পরদিন রোববার (১২ এপ্রিল) কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালে ময়নাতদন্ত শেষে বাদ আসর জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। পরে তাকে পশ্চিম দক্ষিণ ফিলিপনগর কবরস্থানে দাফন করা হয়।
তবে ঘটনার ৪৮ ঘণ্টা পেরিয়ে গেলেও এখন পর্যন্ত এ বিষয়ে কোনো মামলা দায়ের হয়নি বলে জানা গেছে। এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন রেখে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখার চেষ্টা করছে প্রশাসন।
সময়ের আলো/জোই