চলমান সংঘাতের উত্তেজনার মধ্যেই নতুন কূটনৈতিক উদ্যোগে এগোচ্ছে লেবানন ও ইসরায়েল। দীর্ঘদিনের টানাপোড়েনের মধ্যে দুই দেশের প্রতিনিধিদের নিয়ে বৈঠক বসতে যাচ্ছে, যেখানে মধ্যস্থতাকারী হিসেবে যুক্ত থাকছেন যুক্তরাষ্ট্রের শীর্ষ কূটনৈতিক নেতৃত্ব।
মঙ্গলবার (১৪ এপ্রিল) ওয়াশিংটনে অনুষ্ঠিতব্য এই বৈঠকে অংশ নেবেন দুই দেশের রাষ্ট্রদূতরা। ইসরায়েলের প্রতিনিধি ইয়েশিয়েল লাইটার এবং লেবাননের প্রতিনিধি নাদা হামাদেহ মাওয়াদ সরাসরি আলোচনায় বসবেন। বৈঠকে যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও উপস্থিত থাকবেন বলে নিশ্চিত করেছে মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর।
এদিন স্থানীয় সময় সকাল সাড়ে ১১টায় শুরু হতে যাওয়া এই বৈঠকের লক্ষ্য দক্ষিণ লেবাননে চলমান সংঘাত কমিয়ে আনা, যেখানে ইসরায়েলি বাহিনীর হামলার লক্ষ্যবস্তু হিসেবে রয়েছে লেবাননের সশস্ত্র গোষ্ঠী হেজবুল্লাহ। এই সংঘাতে ব্যাপক প্রাণহানি ও বাস্তুচ্যুতির ঘটনা ঘটেছে বলে মানবিক সংকট আরও গভীর হয়েছে।
লেবাননের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্যমতে, সংঘাতে ইতোমধ্যে দুই হাজারের বেশি মানুষ নিহত এবং ছয় হাজারেরও বেশি আহত হয়েছেন।
আরও পড়ুন
তবে এই কূটনৈতিক উদ্যোগ নিয়ে অভ্যন্তরীণ বিরোধও রয়েছে। হেজবুল্লাহর শীর্ষ নেতা নাঈম কাশেম লেবাননকে এই বৈঠক বর্জনের আহ্বান জানিয়েছেন। গোষ্ঠীটির অবস্থান, ইসরায়েলের সঙ্গে সরাসরি আলোচনার পথ গ্রহণ করা তাদের নীতির সঙ্গে সাংঘর্ষিক।
একই দিনে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও মিসরের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বদর আবদেলাতির সঙ্গেও বৈঠক করবেন, যেখানে আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা নিয়েও আলোচনা হতে পারে।
অন্যদিকে, মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনার মধ্যে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান ইস্যুও নতুন করে আলোচনায় এসেছে। মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স ইরানকে ‘অর্থনৈতিক সন্ত্রাসবাদ’ চালানোর অভিযোগ এনে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন, বিশেষ করে হরমুজ প্রণালী নিয়ে উত্তেজনার প্রসঙ্গে।
তার দাবি, ইরান যদি এই ধরনের পদক্ষেপ অব্যাহত রাখে, তবে যুক্তরাষ্ট্রও কঠোর অবস্থান নেবে এবং কোনো ইরানি জাহাজকে চলাচলের সুযোগ দেওয়া হবে না।
এদিকে, আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনা চললেও এখনো বড় ধরনের মতবিরোধ রয়ে গেছে। ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ বন্ধের মেয়াদ নিয়ে দুই পক্ষ ভিন্ন অবস্থানে রয়েছে- ইরান চায় পাঁচ বছরের স্থগিতাদেশ, আর যুক্তরাষ্ট্র চায় দীর্ঘমেয়াদি নিয়ন্ত্রণ।
এই অনিশ্চয়তার প্রভাব পড়েছে বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারেও। আলোচনার ইঙ্গিতের পর তেলের দাম কিছুটা কমেছে। ব্রেন্ট ক্রুডের দাম এবং যুক্তরাষ্ট্রের অপরিশোধিত তেল উভয়ই প্রায় দুই শতাংশের বেশি কমে গেছে।
একই সঙ্গে এশিয়ার শেয়ারবাজারে ইতিবাচক প্রবণতা দেখা গেছে, যা যুদ্ধ বিস্তৃত না হওয়ার সম্ভাবনার প্রতি বাজারের আস্থাকে নির্দেশ করছে।
এএডি/