জাতি-ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে ঐক্যবদ্ধভাবে বৈশাখের আয়োজন বাংলাদেশে অসাম্প্রদায়িক চেতনার প্রতিফলন বলে মন্তব্য করেছেন পার্বত্য চট্টগ্রাম ও ভূমি প্রতিমন্ত্রী মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিন।
মঙ্গলবার (১৪ এপ্রিল) সকালে ডিসি হিলে নববর্ষ উদযাপন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি একথা বলেন।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, পহেলা বৈশাখ শুধু আনুষ্ঠানিকতা নয়, বরং সংস্কৃতি ও সম্প্রীতির এক অনন্য প্রকাশ। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ‘রংধনু জাতি’ গঠনের প্রত্যয় এই আয়োজনের মধ্য দিয়ে প্রতিফলিত হয়েছে।
তিনি বলেন, সমাজের সব স্তরের মানুষকে একত্রিত করে একটি অনন্য সাংস্কৃতিক ও শৈল্পিক পরিবেশ সৃষ্টি করা হয়েছে। যা সত্যিই প্রশংসনীয়। কোনো আয়োজনকে যদি কেবল আনুষ্ঠানিকতা হিসেবে দেখা হয় তা কখনো এত সুন্দর হয়ে ওঠে না।
অনুষ্ঠান আয়োজনে সম্মিলিত প্রচেষ্টার প্রশংসা করে তিনি বলেন, মঞ্চের সামনে ও পেছনের সব মানুষের প্রচেষ্টায় দীর্ঘদিন পর একটি ব্যতিক্রমধর্মী আয়োজন সম্ভব হয়েছে। নববর্ষকে কেন্দ্র করে শোভাযাত্রা, আবৃত্তি, নৃত্য ও সংগীতের মাধ্যমে বাঙালির ঐতিহ্য ও সংস্কৃতির পরিচয় তুলে ধরা হয়েছে।
এসময় চট্টগ্রাম-৯ আসনের সংসদ সদস্য আবু সুফিয়ান, বিভাগীয় কমিশনার ড. জিয়াউদ্দিন, সিএমপি কমিশনার হাসান মো. শওকত আলী ও বিভাগীয় কমিশনার জাহিদুল ইসলাম মিঞা উপস্থিত ছিলেন।
এদিকে বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা আর উৎসব মুখর পরিবেশে বাংলা নববর্ষ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দকে বরণ করে নিয়েছে চট্টগ্রাম। নানা রঙের সাজ, মুখোশ, প্ল্যাকার্ড আর ঐতিহ্যবাহী উপকরণের সমন্বয়ে বৈশাখী শোভাযাত্রা ছিল নগরজুড়ে।
মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ৮টায় জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে এ শোভাযাত্রা শুরু হয় নগরীর সার্কিট হাউস প্রাঙ্গণ থেকে। পরে এটি কাজীর দেউড়ি ও লাভ লেন মোড় হয়ে ডিসি হিলে গিয়ে শেষ হয়।
শোভাযাত্রায় অংশগ্রহণ করেন বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা, শিক্ষার্থী, সাংস্কৃতিক সংগঠনের সদস্যসহ নানা শ্রেণি-পেশার মানুষ। বৈশাখের ঐতিহ্য তুলে ধরতে অংশগ্রহণকারীদের হাতে ছিল গ্রামীণ জীবনের প্রতীকী উপকরণ, মুখোশ ও বর্ণিল ব্যানার।
এতে উপস্থিত ছিলেন পার্বত্য চট্টগ্রাম ও ভূমি প্রতিমন্ত্রী মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দীন, চট্টগ্রাম-৯ আসনের সংসদ সদস্য আবু সুফিয়ান, জেলা প্রশাসক জাহিদুল ইসলাম মিঞাসহ প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।
এফআর