উপবৃত্ত
উপবৃত্তে বিধ্বস্ত ব্রহ্মাণ্ডের আতাগাছ
মাথা কেটে কোথায় চলছো সমাহিত জবাপাতার বনে?
প্রস্তাব আর চূর্ণচুলে সুবর্ণ মিছিল
যে দিকে গেছে— তাদের আত্মধ্বনি অবধি
সবুজ শস্যের পথ রেখে দিও। নাম হবে অনির্দিষ্ট।
শেষ কোনো বনস্থলী উচ্চারণে তরল ও বায়বীয়
চির-হরিৎ বৃক্ষের বয়ঃসন্ধিকাল। ওই পুরো মুখোশ
গ্রহণ-বর্জন করি, লাউয়ের মাচার মতো বিলিয়ে আছে
সর্বস্বান্ত রক্ত, বিন্যাস এবং হাহাকারের ক্ষয়।
পাহাড়? পরাজয়? অশ্বত্থের ভূমিকা?
কার মর্মমূলে নিয়ে যাব? ঘরের কার্নিশে ও'ড়ে
অবশিষ্ট জোনাকপোকার গাঢ় যত স্বশরীলে।
ছায়ার যাবতীয় মনোবেদনা
তোমরা যারা আবেশ আর কবরীফুলের কথা ভাবো, তাদের জন্য দল বেঁধে নিয়ে আসছি প্রচ্ছন্ন, আহ্লাদি এবং সম্প্রদান কারকের শ্বেতফসফরাসসভ্যতা। পতনের নিরাপত্তা পেতে কেউ কেউ আপেক্ষিক। তার যেন কামকর্মে মুচকি হাসে তামাপ্রতারিত আত্মসান্ত্বনা। এখন রক্তবীজ ক্রমাগত, উচ্ছ্বাসে ছিটকে পড়ে তৃণলতাহারা মরুপ্রদেশের দিকে। কেন বসন্ত ফিরে ফিরে আসে কালো কোকিলের গানে? কোথায় স্বজনের অভিধানে লুকিয়ে আছে মার্বেল খেলার মৌসুম? ওই তুমুল দেখা, না দেখার সমান! অথচ বিশ্বাসযোগ্যতা আমার প্রস্তাবকে ইর্ষাময়। সুতরাং ইতিহাস রচনার কাছে গিয়ে জেনেছি, তীক্ষ্ণ-ফলা তখনই হয়— আগুনের মধ্যে লোহা জ্বলে উঠে যখন মনোবেদনায় অনর্গল।
বিহ্বল পলাশের মলাট
যাদের বাড়ি যাব তারা রোদের ক্ষেপণাস্ত্র লালনপালনে গেছে বহু আগে। এদিকে একাধিক বৃষ্টির আকাঙ্ক্ষায় উন্মাদ, সমান্তরাল ঘুরপাক খায় তরুণ জলাশয়; যাবতীয় যদি নামে প্রায়শ্চিত্তের উঠানে! জ্বলে উঠে দিনগুলি, —ইস্পাতে, বেঞ্জামিনে ভরা উজ্জ্বল রাতগুলি। এখন নেই শেষ, লোহিতকণিকাবিহীন রক্তের দাগ। তবু জোনাক আর বিহ্বল পলাশের নিষ্কৃতিপ্রাপ্ত নিয়ে মুছে যাবে মেসোপটেমিয়া সভ্যতার ঠিকঠাক স্বর-মাংশ ধারণা। এই মৌসুম, ফুসকে দেওয়া ভেজা স্মৃতি, সকলই বেজে চলে নিশ্বাস ফেলা পূর্বপুরুষের বাজারে। অথচ রমনায় যেতে যেতে ভাবি পবিত্রপুস্তক হতে বাঘের পিচ্ছিল নখের দূরত্ব কতদূর? জানি আমি শস্য ভেঙে —জলের নামতা টেনে —পাথরের দিকে আলস্য গন্তব্যে আছি। সুতরাং উচ্চতার অধিক মাধ্যাকর্ষণ ঠেলে কোনো শাস্ত্রে আর যাওয়া হবে না।
ভুলে যাওয়া
টানা কুৎসিত বছর অসম্পূর্ণ ছিলাম। প্রায়ই ঠান্ডা দাঁতের রেখা ধরে। উড়ছে এখন লাল আর নীল পিঁপড়া। বাতাসের গায়ে অধিক কমলা দুপুর। ব্যথা কিংবা বেদনাউজ্জ্বলতা নেই। লক্ষ্যবস্তু আছে ক্ষনস্থায়ী, কিন্তু এটা লক্ষণীয় যে— দৃষ্টিশক্তি পার হলে তরল পথ আস্তে আস্তে শোচনীয় হয়ে দাঁড়ায়। জানি কিছু বসে থাকা, ঘ্রাণে শুয়ে থাকা কাকমাছি গাছ, আসবে একমাত্র গতকাল। এবং ভুলে যাওয়ার জন্য নতুন অভিজ্ঞতা, ঠুনকো বস্তাবন্দি দেয়াল। অথচ জঙ্গলের গভীরে নিসর্গ আবেগ —নদী —ঠিক মুছে যাওয়া লগ্নলতার দাগ।
পরিবর্তে যাই হোক
যতক্ষণ শোনা গেলো, কঠিন ও দীর্ঘ সামর্থ্য ধরে বের হয়ে আসা শাদা রোদের কথা। তারপর তৈরি করি গলিত আকরিক লোহা, —জলের সরলে বিচরণ করা মেঘ—বজ্র—বৃষ্টি। পথ স্পষ্ট হবে একদিন, —পরিবর্তে যাই হোক না কেন! আঘাতের কথা কি চিন্তায় আসে? আসে কি সেই অনুমান? যার উষ্ণতায় বাঁধা আছে তীক্ষ্ণ কোনো সরাইল কুকুরের অনুকরণ। এখন অন্যরা, ভালোবাসে নিম্ন-প্রকৃতি। এবং রেশমী স্তনের নির্ভয়ে তোমার শরীলের দিকে বিশুদ্ধস্বভাব। বয়ে দাও গাঢ় বাদামী, বহুগুণে দৃষ্টিশক্তির উজ্জ্বল। যা যা আমাদের পুড়ে গেছে পূর্ণতাসহ। জানি, ওই হাওয়া চলে গেলে— দ্রুত জড়ো রাখা হবে অপেক্ষমাণ ফুলদানির জন্য একটা গোলাপ।