চাঁদার দাবিতে সেতুর নির্মাণ কাজ বন্ধের অভিযোগ

​গজারিয়া (মুন্সীগঞ্জ) প্রতিনিধি

সারাদেশ

মুন্সীগঞ্জের গজারিয়া উপজেলার আড়ালিয়া ও মেঘনা উপজেলার হরিপুর সংযোগ সেতুর নির্মাণ কাজ চাঁদা না পেয়ে বন্ধ করে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে

2026-04-15T13:45:48+00:00
2026-04-15T13:45:48+00:00
 
  রবিবার, ১৯ জুলাই ২০২৬,
৪ শ্রাবণ ১৪৩৩
রবিবার, ১৯ জুলাই ২০২৬
সারাদেশ
চাঁদার দাবিতে সেতুর নির্মাণ কাজ বন্ধের অভিযোগ
​গজারিয়া (মুন্সীগঞ্জ) প্রতিনিধি
প্রকাশ: বুধবার, ১৫ এপ্রিল, ২০২৬, ১:৪৫ পিএম 
হরিপুরে নির্মাণাধীন সেতু। ছবি : সময়ের আলো
মুন্সীগঞ্জের গজারিয়া উপজেলার আড়ালিয়া ও মেঘনা উপজেলার হরিপুর সংযোগ সেতুর নির্মাণ কাজ চাঁদা না পেয়ে বন্ধ করে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় এক প্রভাবশালী ব্যক্তির বিরুদ্ধে। অভিযুক্ত রহিম বাদশার হুমকির মুখে জানমালের নিরাপত্তার স্বার্থে দুইদিন ধরে কাজ বন্ধ রেখেছেন নির্মাণ শ্রমিকরা।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদফতরের (এলজিইডি) অধীনে ‘গ্রামীণ সড়কে গুরুত্বপূর্ণ সেতু নির্মাণ প্রকল্পের (১ম সংশোধিত) আওতায় মুন্সীগঞ্জের গজারিয়া ও কুমিল্লার মেঘনা উপজেলাকে সংযুক্ত করতে ১০০ কোটি টাকা ব্যয়ে ৬৭৫ মিটার দীর্ঘ এই সেতু নির্মাণের উদ্যোগ নেয় সরকার। ২০২১ সালে শুরু হওয়া প্রকল্পটির কাজ ২০২৪ সালে শেষ হওয়ার কথা ছিলো। তবে জমিসংক্রান্ত জটিলতায় নির্মাণকাজ দুই বছর পিছিয়ে যায়। বর্তমানে প্রকল্পের প্রায় ৭০ শতাংশ কাজ সম্পন্ন হয়েছে। আগামী এক বছরের মধ্যে এটি চলাচলের জন্য উন্মুক্ত করার লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ম্যাক্স ইনফ্রাস্ট্রাকচার লিমিটেড।

বুধবার (১৫ এপ্রিল) আড়ালিয়া গ্রাম সংলগ্ন প্রকল্প এলাকায় সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, নির্মাণযজ্ঞ সম্পূর্ণ স্থবির হয়ে আছে। সাইটে কর্মরত শ্রমিকরা অলস সময় পার করছেন। কাজে যোগ না দেওয়ার কারণ জানতে চাইলে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক শ্রমিক জানান, স্থানীয় প্রভাবশালী রহিম বাদশার হুমকির পর তারা চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন। যে কোনো সময় বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতির আশঙ্কায় তারা দুইদিন ধরে কাজ বন্ধ রাখতে বাধ্য হয়েছেন।

বিষয়টি সম্পর্কে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ম্যাক্স ইনফ্রাস্ট্রাকচার লিমিটেডের প্রশাসনিক কর্মকর্তা আক্তার হোসেন জানান, সেতু নির্মাণের জন্য স্থানীয় ব্যক্তিদের কাছ থেকে ১৪৬ শতাংশ জমি নির্দিষ্ট মেয়াদে লিজ নেওয়া হয়েছে। ২০২৭ সাল পর্যন্ত লিজের অর্থ পরিশোধ করা আছে যার মধ্যে অভিযুক্ত রহিম বাদশার ২১ শতাংশ জমিও অন্তর্ভুক্ত। তাকে লিজ বাবদ ইতোমধ্যে ৬৩ হাজার ৫০০ টাকা পরিশোধ করা হয়েছে।


​তিনি অভিযোগ করে বলেন, গত সোমবার রাত ৯টার দিকে রহিম বাদশা আমাদের কনস্ট্রাকশন ইয়ার্ডে এসে হিসাবরক্ষক মনিরুজ্জামানের কাছে মাসিক ৩ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করেন। অন্যথায় সাইটের কাজ তাকে বুঝিয়ে দেওয়ার নির্দেশ দেন। এরপর শ্রমিকদের ভয়ভীতি দেখিয়ে চলে যান তিনি। তার হুমকির মুখে মঙ্গলবার সকাল থেকে শ্রমিকরা আতঙ্কিত হয়ে কাজ বন্ধ করে দিয়েছেন। বিষয়টি আমরা মৌখিকভাবে গজারিয়া থানা পুলিশকে জানিয়েছি।

অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে রহিম বাদশা বলেন, চাঁদা দাবির বিষয়টি সম্পূর্ণ মিথ্যা। তাদের সঙ্গে আমার জমির লিজের মেয়াদ ৪ মাস আগেই শেষ হয়েছে। আমি এখন আর জমি লিজ দিতে চাই না এবং তাদের আমার জমি ব্যবহার করতে নিষেধ করেছি। এ কারণেই তারা আমার বিরুদ্ধে চাঁদাবাজির সাজানো অভিযোগ আনছে।

এলজিইডির মেঘনা উপজেলা প্রকৌশলী মো. শহিদুল ইসলাম এ প্রসঙ্গে বলেন, উন্নয়নমূলক কাজ কারো হুমকিতে বন্ধ রাখার সুযোগ নেই। আমি বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখছি। যে-কোনো উপায়ে দ্রুত কাজ পুনরায় চালু করার ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

গজারিয়া থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. হাসান আলী জানান, বিষয়টি সম্পর্কে তিনি অবগত হয়েছেন এবং প্রয়োজনীয় খোঁজখবর নেওয়া হচ্ছে। তদন্ত সাপেক্ষে দ্রুত আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

সময়ের আলো/জোই


  বিষয়:   চাঁদার দাবি  সেতু নির্মাণ  মুন্সীগঞ্জ  গজারিয়া উপজেলা  আড়ালিয়া  মেঘনা 


Loading...
Loading...
সারাদেশ- এর আরো খবর
Loading...
Loading...
© 2026 Daily Shomoyer Alo
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সৈয়দ শাহনেওয়াজ করিম, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড এর পক্ষে প্রকাশক মো. ফয়সাল রহমতউল্লাহ ফেরদৌস। নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।
ফোন : ৪১০৬২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : ৪১০৬২৩৭৫
সময়ের আলোর খবর পেতে ফলো করুন: