জনস্বাস্থ্য সচেতনতা বৃদ্ধি, জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলা ও তরুণ নেতৃত্ব গড়ে তোলার ওপর গুরুত্ব দিয়ে বাংলাদেশ মেডিকেল কলেজে দিনব্যাপী কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়েছে।
বুধবার (১৫ এপ্রিল) ধানমন্ডির কলেজ অডিটোরিয়ামে আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে দেশের বিভিন্ন মেডিকেল কলেজের শিক্ষার্থীরা অংশ নিয়ে বিতর্ক ও পাবলিক হেলথ অলিম্পিয়াডে নিজেদের দক্ষতা প্রদর্শন করেন। বাংলাদেশ মেডিকেল কলেজ কালচারাল ক্লাবের উদ্যোগে আয়োজিত এ কর্মসূচিতে ইউএনএফপিএ, এসআইডিএ ও এফসিডিওসহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থা সহযোগিতা করে।
উদ্বোধনী পর্বে স্বাগত বক্তব্য দেন বাংলাদেশ মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালের সহযোগী অধ্যাপক ডা. ইয়াসমিন আক্তার। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ মেডিকেল কলেজের অধ্যক্ষ প্রফেসর ডা. মো. জালালউদ্দিন ইকবাল। বিশেষ অতিথি ছিলেন বাংলাদেশ মেডিকেল কলেজের পরিচালক প্রফেসর ডা. মিজানুর রহমান, বিএমএসআরআই গভর্নিং বডির চেয়ারম্যান প্রফেসর ডা. কাজী মজহারুল ইসলাম প্রমুখ।
অনুষ্ঠানে আয়োজিত বিতর্ক প্রতিযোগিতায় মোট ২৪টি দল অংশ নেয়। এতে চ্যাম্পিয়ন হয় নওগাঁ মেডিকেল কলেজ এবং রানার-আপ হয় ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ। পাশাপাশি অনুষ্ঠিত পাবলিক হেলথ অলিম্পিয়াডে বিজয়ী হন ডা. অর্পা তাবাসসুম। সমাপনী অনুষ্ঠানে ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন প্রফেসর ডা. মো. এলিয়াস ভূঁইয়া।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে অধ্যক্ষ প্রফেসর ডা. মো. জালালউদ্দিন ইকবাল বলেন, বিতর্ক কেবল শব্দের লড়াই নয়; এটি মেধা, সূক্ষ্ম চিন্তন এবং স্পষ্টতা ও সম্মানের সঙ্গে নিজের বিশ্বাস প্রকাশের সাহসের এক উদ্যাপন। বিতর্ক এমন কিছু দক্ষতা শেখায়, যা শিক্ষার্থীরা তাদের সারাজীবন কাজে লাগাতে পারে। এটি তাদের তথ্য-প্রমাণ মূল্যায়ন করতে, একটি সুস্পষ্ট অবস্থান তৈরি করতে এবং আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে কথা বলতে প্রশিক্ষণ দেয়। একই সঙ্গে এটি অন্যের কথা মনোযোগ দিয়ে শুনতেও শেখায়। স্বচ্ছতা ও বিনয়ের এই সমন্বয়ই একজন মানুষকে এমন নেতা বা দায়িত্বশীল নাগরিক হিসেবে গড়ে তোলে, যার ওপর সমাজ ভরসা করতে পারে।
তিনি বলেন, চিকিৎসাবিজ্ঞানের ক্ষেত্রে যেখানে প্রতিটি সিদ্ধান্তের পেছনে গভীর প্রভাব থাকে, সেখানে যৌক্তিক বিশ্লেষণ ও যুক্তি উপস্থাপনের ক্ষমতা এবং কার্যকর যোগাযোগ দক্ষতা ক্লিনিক্যাল জ্ঞানের মতোই গুরুত্বপূর্ণ। এ ধরনের আয়োজন কেবল দক্ষ চিকিৎসক নয়, বরং চিন্তাশীল নেতা ও দায়িত্বশীল নাগরিক গড়ে তোলার অঙ্গীকারের প্রতিফলন।
শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে তিনি আরও বলেন, বিতর্কের প্রকৃত সার্থকতা কেবল জয়ী হওয়ার মধ্যে নয়, বরং শেখার মধ্যেই নিহিত। অন্যের দৃষ্টিভঙ্গিকে সম্মান করা এবং নিজের চিন্তা-ভাবনাকে আরও শাণিত করার মধ্যেই বিতর্কের আসল মূল্য।
অন্যান্য অতিথিরা বলেন, কারও মধ্যে সততা বিকাশ না ঘটলে সে ‘বটমলেস বাস্কেটে’ পরিণত হয়। মানুষ সহায়তা করতে চাইলেও তার সঠিক ব্যবহার না হলে কোনো সুফল আসে না। আমাদের আন্তরিকতা না থাকলে বিদেশি সাহায্য কিংবা অভ্যন্তরীণ সহায়তা, কোনোটিই কার্যকর হবে না।
তারা আরও বলেন, একটি সুস্থ জাতি গড়ে তুলতে হলে জনস্বাস্থ্যকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিতে হবে। জলবায়ু একটি এমন বিষয়, যেখানে আমাদের মানসিকতার পরিবর্তন জরুরি। আমরা সবাই একটি অভিন্ন ব্যবস্থার অংশ, এই বোধ তৈরি করতে হবে। পৃথিবী বা প্রকৃতিকে নিয়ন্ত্রণ করার মানসিকতা থেকে বেরিয়ে এসে সহাবস্থানের ধারণা গ্রহণ করতে হবে। আর এ ধরনের সচেতনতা গড়ে তুলতে জনস্বাস্থ্য শিক্ষাই গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
সময়ের আলো/কেএইচও