যেখানে ভাঙন ঠেকাতে বাঁধ নির্মাণ করা হচ্ছে, ঠিক সেখানেই নদীর বুক খনন করে আরও গভীর করে উত্তোলিত বালু দিয়ে ভরা হচ্ছে জিওটেক্স বস্তা। পরবর্তীতে সেই বালুভর্তি বস্তাই আবার বাঁধে ব্যবহার করা হচ্ছে। ফলে বাঁধটি টেকসই হওয়ার পরিবর্তে আসন্ন বর্ষায় পাহাড়ি ঢলে আরও ভয়াবহভাবে বিধ্বস্ত হওয়ার ঝুঁকি তৈরি হয়েছে। এলাকাবাসীর বাধার মুখে কাজটি সাময়িক বন্ধ হলেও পুনরায় একই কায়দায় পানি উন্নয়ন বোর্ডের কাজ করছে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান পীরলেস ভেঞ্চার লিমিটেড।
শেরপুরের নালিতাবাড়ী উপজেলার পোড়াগাঁও ইউনিয়নের বাতকুচি গ্রামে বাতকুচি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় সংলগ্ন চেল্লাখালী নদীর এ বাঁধ নির্মাণকাজ চলাকালে গত রোববার (১২ এপ্রিল) বিকেলে সরেজমিনে গিয়ে তদারকির দায়িত্বে পানি উন্নয়ন বোর্ডের কাউকে পাওয়া যায়নি।
জানা গেছে, বাতকুচি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও বেকিকুড়া গ্রামের মধ্যবর্তী এলাকা দিয়ে বয়ে গেছে পাহাড়ি খরস্রোতা চেল্লাখালী নদী। প্রতিবছর পাহাড়ি ঢলে নদীর দুই পাড়ে তীব্র ভাঙন দেখা দেয়। বিশেষ করে ২০২৪ সালের অক্টোবরের ভয়াবহ বন্যায় এর তীব্রতা আরও বৃদ্ধি পায়।
এ অবস্থায় পাহাড়ি শিশুদের একমাত্র পাঠশালা বাতকুচি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় রক্ষায় নদীর ভাঙনপ্রবণ অংশে বাঁধ নির্মাণের উদ্যোগ নেয় পানি উন্নয়ন বোর্ড। একশ মিটার দীর্ঘ এই বাঁধ নির্মাণে গাছের খুঁটি, কাঠ ও বালুভর্তি জিওটেক্স বস্তা ব্যবহারের কথা রয়েছে। ৫ হাজার ৪০০ বস্তার প্রতিটিতে ১৭৫ কেজি করে বাইরে থেকে বালু এনে ভরাট করার কথা থাকলেও বাস্তবে বাঁধের নিচ থেকেই নদী খনন করে বালু উত্তোলন করে তা ব্যবহার করা হচ্ছে।
স্কেভেটর দিয়ে উত্তোলিত সেই বালুই জিওটেক্স ব্যাগে ভরা হচ্ছে বলে অভিযোগ স্থানীয়দের। তাদের দাবি, ব্যয় কমাতে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান নদী খনন করে সেই বালু দিয়েই বাঁধ নির্মাণ করছে। এতে ব্যয় কমলেও বাঁধের স্থায়িত্ব মারাত্মকভাবে হুমকির মুখে পড়ছে।
স্থানীয়দের মতে, বাঁধের নিচেই গভীর গর্ত সৃষ্টি হওয়ায় পাহাড়ি ঢল এলে বাঁধটি ধসে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে। এতে সরকারের অর্থ অপচয়ের পাশাপাশি বিদ্যালয়টি পুনরায় ঝুঁকির মুখে পড়বে।
ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান পীরলেস ভেঞ্চার লিমিটেডের প্রতিনিধি আব্দুল মোতালেব নদী খনন করে উত্তোলিত বালু ব্যবহারের বিষয়টি স্বীকার করে বলেন, লেভেলিং ও ড্রেসিং কাজের জন্য কিছু বালু এখান থেকে ব্যবহার করা হচ্ছে, এতে বাঁধের ক্ষতি হবে না।
এ বিষয়ে পানি উন্নয়ন বোর্ড শেরপুরের নির্বাহী প্রকৌশলী সুদীপ্ত চৌধুরী বলেন, এ ধরনের কাজের কোনো সুযোগ নেই। বিষয়টি তার অজান্তে হয়েছে উল্লেখ করে তিনি তাৎক্ষণিক খোঁজ নিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানান।
আরবিএন