বরিশালের আগৈলঝাড়া উপজেলায় সেতু নির্মাণে রডের পরিবর্তে বাঁশ ব্যবহারের অভিযোগ উঠেছে। সেতুর ঢালাইয়ের একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। এতে সমালোচনার ঝড় সৃষ্টি হয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, উপজেলার রত্নপুর ইউনিয়নের দুশমী-করিম বাজার খালের ওপর বারপাইকা গ্রামের রুহুল হোসেনের বাড়ির সামনে একটি আয়রন ব্রিজ নির্মাণে অর্থায়ন করে ইউনিয়ন পরিষদ। ৪৫ ফুট দৈর্ঘ্য ও সাড়ে ৫ ফুট প্রস্থের সেতুটি নির্মাণের জন্য প্রথম পর্যায়ে দেড় লাখ টাকা এবং পরে ঢালাইয়ের জন্য আরও ১ লাখ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়।
সেতুর নির্মাণ কাজ করেন ইউপি সদস্য সোহেল মোল্লা। এর জন্য তিনি স্থানীয় বাসিন্দাদের কাছ থেকেও প্রায় ৮৫ হাজার টাকা উত্তোলন করেন।
তবে স্থানীয়দের দাবি, সেতুর প্রকৃত দৈর্ঘ্য ৫৫ ফুট হলেও ঢালাই দেওয়া হয়েছে মাত্র ৪৫ ফুট। আবার নির্মাণ নীতিমালা অনুযায়ী ব্রিজে ৫ ইঞ্চি পুরু ঢালাই দেওয়ার কথা থাকলেও মাত্র সাড়ে ৩ ইঞ্চি ঢালাই দেওয়া হয়।
তারা অভিযোগ করে বলেন, অনিয়ন এখানেই শেষ হয়নি। ৮ ইঞ্চি ও ৬ ইঞ্চি ব্যবধানে রড বসানোর নিয়ম থাকলেও প্রায় ১ ফুট পরপর রড ব্যবহার করা হয়েছে। এমনকি সেতুর উত্তর পাশে বাঁশের কঞ্চি ব্যবহার করে ঢালাই করা হয়।
স্থানীয় বাসিন্দা হিমু মোল্লা বলেন, গতকাল মঙ্গলবার আমরা স্বচক্ষে দেখেছি রডের পরিবর্তে বাঁশ ব্যবহার করে ঢালাই দেওয়া হচ্ছে। কাজ এত নিম্নমানের হয়েছে যে সেতু উদ্বোধনের আগেই ভেঙে যেতে পারে।
সেতুতে বাঁশ ব্যবহারের কথা স্বীকার করেছেন ইউপি সদস্য সোহেল মোল্লা। তবে তার দাবি, ৪৫ ফুট ব্রিজের বাইরে কিছু জায়গায় বাঁশ ব্যবহার করা হয়েছে। এটি স্থানীয় বাসিন্দারাই করেছে, আমি করিনি।
এ বিষয়ে রত্নপুর ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান গোলাম মোস্তফা সরদার বলেন, সেতু নির্মাণের জন্য পর্যায়ক্রমে অর্থ বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। নির্মাণ কাজে অনিয়ম হলে ব্যবস্থা নেবো।
উপজেলা প্রকৌশলী রবীন্দ্র চক্রবর্তী বলেন, ব্রিজের ঢালাইয়ের বিষয়টি আমাদের জানানো হয়নি। এলজিইডি বিভাগকে অবহিত না করে এ ধরনের কাজ করা নিয়মবহির্ভূত।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) লিখন বণিক বলেন, বিষয়টি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেখেছি। সরেজমিন পরিদর্শন করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।
এফআর